জামালগঞ্জে কৃষকদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা প্রদান

‘হাওরাঞ্চলের মানুষ প্রতি বছরই কোনো না কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়। এবার অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। তবে বরাদ্দের তুলনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা অনেক বেশি।’

তৌহিদ চৌধুরী প্রদীপ, সুনামগঞ্জ

Location :

Sunamganj
হাওরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের চাল ও নগদ অর্থ সহায়তা দেয়া হচ্ছে
হাওরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের চাল ও নগদ অর্থ সহায়তা দেয়া হচ্ছে |নয়া দিগন্ত

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা হিসেবে চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলার সাচনা বাজার ইউনিয়ন, ফেনারবাঁক ইউনিয়নসহ ছয় ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত কৃষকদের এই প্রণোদনা দেয়া হয়।

সাচনাবাজার ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের হাতে ১৫ কেজি চাল, নগদ তিন হাজার টাকা ও সহায়তা কার্ড তুলে দেয়া হয়।

ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, জলাবদ্ধতায় ফসলহানির শিকার ৭৫০ জন কৃষককে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।

সহায়তা বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন সাচনা বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া তালুকদার, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিলয় চন্দ্র কর, ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা গুনেন্দ্র কুমার তালুকদার, যাচাই-বাছাই কমিটির বিএনপির সদস্য হাসান তালুকদার, ওসমান গণী ও নূরউদ্দিনসহ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং উপকারভোগীরা।

এদিকে ফেনারবাঁক ইউনিয়ন পরিষদে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে মানবিক সহায়তা প্রদান করেন ইউপি চেয়ারম্যান কাজল চন্দ্র তালুকদার, উপজেলা বিএনপির নেতা ফজলুল কাদের চৌধুরী তৌফিক ও জুলফিকার চৌধুরী রানা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিএনপি নেতা মোজাম্মেল হোসেন চৌধুরী, রাব্বি তালুকদারসহ নেতৃবৃন্দ।

সহায়তা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন কৃষক নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমার ছয় কিয়ার জমি জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে। ধান কাটতে পারিনি। এই সহায়তা পেয়ে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছি।

৬৫ বছর বয়সী কৃষক রহিম উদ্দিন বলেন, অনেক কষ্ট করে চাষাবাদ করেছিলাম। জমি তলিয়ে যাওয়ায় বড় ক্ষতির মুখে পড়েছি। আজকের এই সহায়তা আমাদের জন্য কিছুটা হলেও আশার সঞ্চার করেছে।

কৃষাণী রাণী দেবী বলেন, ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। চাল ও নগদ অর্থ পেয়ে উপকার হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছি।

সাচনা বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া তালুকদার বলেন, ‘হাওরাঞ্চলের মানুষ প্রতি বছরই কোনো না কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়। এবার অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। তবে বরাদ্দের তুলনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা অনেক বেশি।’

তিনি বলেন, ‘ইউনিয়নে মোট দুই হাজার ৭৫০টি আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে এক হাজার ৫০০ জন কৃষকের তালিকা প্রণয়ন করা হলেও মন্ত্রণালয় থেকে ৭৫০ জনকে সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে। ফলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত অনেক কৃষক এবার সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘সীমিত বরাদ্দের কারণে সবাইকে সহায়তা দেয়া সম্ভব হয়নি। এজন্য ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। ভবিষ্যতে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেলে আরো কৃষককে সহায়তার আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে।’

বিতরণ শেষে গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে সরকার বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দুর্ভোগ লাঘবে এ ধরনের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।