শেরপুরের মির্জাপুর-জোড়গাছা সড়কের বেহাল দশা, ভোগান্তিতে লক্ষাধিক মানুষ

মির্জাপুর-জোড়গাছা আঞ্চলিক সড়কটি ভাঙাচোরা ও খানাখন্দের সৃষ্টির ফলে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে চলাচল করতে হয় লক্ষাধিক মানুষের।

আকরাম হোসাইন, শেরপুর (বগুড়া)

Location :

Sherpur
খানাখন্দে সড়কের বহাল দশা
খানাখন্দে সড়কের বহাল দশা |নয়া দিগন্ত

বগুড়ার শেরপুরের মির্জাপুর-জোড়গাছা আঞ্চলিক সড়কটি ভাঙাচোরা ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এই সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, অটোবাইক, ভ্যান ও ট্রাক নিয়মিত চলাচল করায় প্রতিদিন ছোটখাটো দুর্ঘটনা লেগেই আছে। ১২ ফুট প্রস্থ ও পাঁচ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটির প্রায় পুরো অংশের অবস্থাই বেহাল। বিভিন্ন স্থানে পিচ ওঠে গর্ত তৈরি হয়েছে, আবার কোথাও কোথাও পিচের কোনো অস্তিত্বই নেই। এতে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন দুইটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ। এ ছাড়াও এই সড়কটি দিয়ে পার্শ্ববর্তী ধুনট উপজেলার দুইটি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ নিয়মিত যাতয়াত করেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের মির্জাপুর বাজার থেকে সুঘাট ইউনিয়নের জয়লা জুয়ান হয়ে ধুনটের মধ্যে প্রবেশ করেছে রাস্তাটি। ওই অঞ্চলের সাথে শেরপুর উপজেলা শহরে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই সড়কটি দিয়েই প্রতিদিন কৃষিপণ্য আনা নেয়াসহ সকল কার্যক্রম পরিচালনায় সিমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন ওই অঞ্চলের মানুষ। স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রী, শহরে সেবা নেয়ার জন্য সাধারণ জনতা, চাকুরিজীবী, অসুস্থ রোগী, বাবসায়ীদের এই সড়কে বাড়তি সতর্কতা নিয়ে চলাচল করতে হয়। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের জন্য এই সড়কটি যেন মরণ ফাঁদ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সড়কটি বেশ কয়েক বছর আগে সংস্কার করা হলেও তদারকি না থাকার ফলে সড়কের পুরো অংশেই ছোটবড় অসংখ্য খানাখন্দ তৈরি হয়েছে।

এই সড়কে নিয়মিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক আব্দুল করিম বলেন, ‘প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে প্রাণ হাতের মুঠোয় নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। গর্ত এড়াতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার মুখে পড়তে হচ্ছে। গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে, আয়ও কমে গেছে। সারাদিনে যেখানে ১০ থেকে ১২ বার যাতায়াত করার কথা সেখানে পাঁচ থেকে ছয় বার যাতায়াতই করা যায় না। আয়ের বড় অংশই গাড়ি মেরামত করতে ফুরিয়ে যায়।’

ব্যাটারিচালিত অটোবাইক চালক আবু রায়হান বলেন, ‘গাড়িতে যাত্রী কম করে উঠাতে হয়, তাছাড়া গর্তে পড়ে গাড়ি বিকল হয়ে পড়লে সারাদিনের আয় রোজগার শেষ।’

চর বেলগাছি গ্রামের মিলন বলেন, ‘আমাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য হাট বাজারে নিয়ে যেতে দ্বিগুন ভাড়া দিতে হয়। তাছাড়া সময়ে পৌঁছাতে না পেরে অনেক সময় কমদামেই পণ্য বিক্রি করতে হয়।’

কল্যানী পালপাড়া হতে নিয়মিত মাটির (দইয়ের সরা) সরা ও কাপ বহনকারী পিকআপভ্যান চালক সেলিম বলেন, ‘এই সড়কে একবার এলে আর আসতে মন চায় না। কিন্ত নিয়মিত ভাড়া মারতে গিয়ে সব সময় আতঙ্কে থাকি, কখন না গাড়ি উল্টে যায়।’

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, জনপ্রতিনিধিরা সড়কটি সংস্কারে বারবার শুধু আশ্বাস দিয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি নিয়ে যেন কারও কোনো মাথাব্যথা নেই। এই সড়ক দিয়ে উপজেলা শহরে যাতায়াতে প্রায় লাখো মানুষ ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।

সুঘাট ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু হাসান ও মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বলেন, জনগুরুত্বপূর্ন এই সড়কটি সংস্কারের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট দফতরকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। এবার তারা মেরামত ও সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন।’

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ বলেন, ‘মানুষের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ চেয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। ইতোমধ্যেই সড়কটি মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেছে। খুব দ্রুতই টেন্ডার হবে।’