প্রসব বেদনায় কাতর হয়ে হাসপাতালে এসেও সময়মতো চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিরুদ্ধে। ডেলিভারি কক্ষ তালাবদ্ধ থাকায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর স্বজনেরা এক প্রসূতিকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার পথে রাস্তায় সন্তান প্রসব করেন তিনি।
গতকাল শনিবার (৮ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঘটে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা। ভুক্তভোগী প্রসূতির নাম রঞ্জনা বেগম, তিনি উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের কোদলা দিগর এলাকার বাসিন্দা।
স্বজনরা জানান, রঞ্জনা বেগমের হঠাৎ প্রসব বেদনা শুরু হলে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। জরুরি বিভাগে প্রাথমিকভাবে দেখানোর পর তাকে উপর তলার ডেলিভারি পয়েন্টে পাঠানো হয়। সেখানে গিয়ে স্বজনেরা দেখতে পান, ডেলিভারি কক্ষের দরজা-জানালা বন্ধ এবং কক্ষটি তালাবদ্ধ।
এ অবস্থায় প্রসব বেদনায় কাতর রঞ্জনাকে নিয়ে স্বজনেরা অপেক্ষা করতে থাকেন। তাদের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত মিডওয়াইফকে শুরুতে পাওয়া যায়নি। পরে একজন নার্স এসে রোগীকে দেখলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা না পাওয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে হয় তাদের।
রঞ্জনার স্বজন জাকারিয়া শেখ বলেন, নিচে টিকিট কেটে উপর তলায় যাওয়ার পর দেখি ডেলিভারি কক্ষ বন্ধ। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছি। রোগী ব্যথায় ছটফট করছিল। পরে বাধ্য হয়ে তাকে অন্যত্র নেয়ার সিদ্ধান্ত নিই।
রঞ্জনার স্বামী আল আমিন বলেন, চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসে প্রায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। আমরা অসহায় মানুষ। সময়মতো চিকিৎসা পেলে হয়তো পথে সন্তান প্রসব করতে হতো না।
রঞ্জনার একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন বলে জানিয়েছে তার স্বজনরা।
অভিযোগের বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মিডওয়াইফ রুমা মহন্ত বলেন, আমি সকাল থেকে ডিউটিতে ছিলাম। পরে এসে রোগীকে দু’বার দেখি। তখন তার অনেক ব্যথা হচ্ছিল। তাকে কিছু সময় অপেক্ষা করতে বলেছিলাম। পরে এসে দেখি রোগী চলে গেছেন।
ডেলিভারি কক্ষের দরজা-জানালা বন্ধ থাকার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, বিকেলের দায়িত্বে থাকা কর্মী ছুটিতে থাকায় কক্ষটি বন্ধ করে রাখার হয়েছিল।
রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো: আ ফ ম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, মিডওয়াইফের সেখানে উপস্থিত থাকা উচিত ছিল। বিষয়টি দুঃখজনক। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।



