জীবননগরে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় নববিবাহিত যুবককে উদ্ধার

বেলা সোয়া ১১টার দিকে বুলবুল ইসলামকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার মাথায় গুরুতর আঘাত ছিল এবং হাসপাতালে আনার সময় তিনি অচেতন অবস্থায় ছিলেন।

আতিয়ার রহমান, জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা)

Location :

Chuadanga
অচেতন অবস্থায় আহত যুবক বুলবুল ইসলাম
অচেতন অবস্থায় আহত যুবক বুলবুল ইসলাম |নয়া দিগন্ত

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের হরিহরনগর দক্ষিণপাড়া এলাকায় বুলবুল ইসলাম (২৬) নামে এক নববিবাহিত যুবককে মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয়রা তাকে গ্রামের মাঠসংলগ্ন রাস্তার পাশে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।

আহত বুলবুল ইসলামের বাড়ি রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভার কাকনহাট এলাকার বাসেদের ছেলে। প্রায় তিন-চার মাস আগে প্রেমের সম্পর্কের পর জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের হরিহরনগর দক্ষিণপাড়ার দেলোয়ারের মেয়ে শারমিন আক্তারের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। বিয়ের পর থেকে তারা ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।

জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা: রাফি আল ইমরান জানান, বেলা সোয়া ১১টার দিকে বুলবুল ইসলামকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার মাথায় গুরুতর আঘাত ছিল এবং হাসপাতালে আনার সময় তিনি অচেতন অবস্থায় ছিলেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে আহতের খোঁজখবর নেয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আহতের শ্বশুর দেলোয়ার দাবি করেন, বিয়ের পর থেকেই বুলবুল তার মেয়ের কাছে দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করত। এ নিয়ে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। প্রায় ২০-২৫ দিন আগে দু’জনই ঢাকায় ফিরে যায়। বুধবার (৮ জুলাই) তার মেয়ে বাড়িতে এলেও বুলবুল এসেছিল কি-না, সে বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না। পরে খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান।

অন্যদিকে, বুলবুল ইসলামের মামাতো শালা আল-আমিন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি বুলবুলকে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখেন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, হাসপাতালে নেয়ার পরও প্রায় আধা ঘণ্টা পর্যন্ত শ্বশুরবাড়ির কোনো সদস্য সেখানে উপস্থিত হননি।

স্থানীয়দের ধারণা, এটি পরিকল্পিত হামলার ঘটনা হতে পারে। তবে পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে কথা বলছে।

ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আহত বুলবুল ইসলামের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বজনরা। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Topics