কর্ণফুলীতে সরকারি গাছ কেটে জায়গা দখলের অভিযোগ

রাতের অন্ধকারে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি সরকারি গাছ কাটার কাজে জড়িত ছিলেন। তবে কারা এই ঘটনার সাথে জড়িত এবং কার নির্দেশে বা কার ইশারায় সরকারি গাছ কাটা হয়েছে—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

Location :

Chattogram
কেটে ফেলা গাছ
কেটে ফেলা গাছ |নয়া দিগন্ত

কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে রাতের অন্ধকারে সরকারি গাছ কেটে রাস্তার পাশের জায়গা বালু দিয়ে ভরাট করে দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের নেতার বিরুদ্ধে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি সরকারি গাছ কাটার কাজে জড়িত ছিলেন। তবে কারা এই ঘটনার সাথে জড়িত এবং কার নির্দেশে বা কার ইশারায় সরকারি গাছ কাটা হয়েছে—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তবে, চরলক্ষ্যা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি এটিএম হানিফ, সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুন নূরসহ আরও কয়েকজন নেতাকর্মীর নাম স্থানীয়ভাবে আলোচনায় আসছে। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি না করে স্থানীয়রা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানায়।

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি সম্পদ কারো ভোগ দখলের জন্য নয়। রাতের অন্ধকারে সরকারি গাছ কেটে সে স্থানে বালু ভরাট করে জায়গা দখলে নেয়া তা কিসের ইঙ্গিত? এ গাছগুলো কারা কেটেছে, কার ইশারায় কেটেছে এবং এর উদ্দেশ্য কি তা নিয়ে জনমনে কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এবিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য তারা জোর দাবি জানায়।

গাছ কাটার বিষয়ে চরলক্ষ্যা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি এটিএম হানিফ বলেন, ‘এটা আমার এক আত্মীয়ের জায়গা। উনার বাড়ি সাতকানিয়া উপজেলায়। উনি ঢাকাইয়া মালিক আদনান ইমাম থেকে এ জায়গাটি ক্রয় করেছেন। আমরা কেবলমাত্র এ জায়গাটা ভরাটের দায়িত্ব নিয়েছি। গাছ কে কাটছে এ বিষয়ে জায়গার মালিকেই ভালো জানবে।’

তবে, এটিএম হানিফ জায়গাটি সাতকানিয়া তার এক আত্মীয় মারুফের বলে দাবি করে তার মোবাইল নম্বর গণমাধ্যমেকর্মীদের দেয়। কিন্তু তার সাথে মুঠোফোন যোগাযোগ করলে তিনি বলেন তার বাড়ি সাতকানিয়া উপজেলায় নয় এবং জায়গাটির প্রকৃত মালিকও তিনি নন। তার বাড়ি মইজ্জারটেক।

এ বিষয়ে দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রতিনিধিকে চরলক্ষ্যা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘সরকারি গাছ কাটার বিষয়টি শুনে তৎক্ষনাৎ আমি ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এসে দেখি কে বা কারা রাতের অন্ধকারে রাস্তার পাশে সরকারি পাঁচটি বড় বড় গাছ কেটে নিয়ে যায় এবং ঐ স্থানে বালি দিয়ে ভরাট করে দেয়। পরবর্তীতে জানতে পেরেছি স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতা এ কাজের সাথে জড়িত।’

Topics