ভারত থেকে বিএসএফ কর্তৃক যেকোনো ধরনের পুশইন ঠেকাতে দিনাজপুরের হিলি সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এদিকে পুশইন ঠেকাতে বিজিবির সাথে লাঠি হাতে যোগ দিয়েছেন গ্রামপুলিশ ও স্থানীয় গ্রামবাসী।
দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে গত দুই সপ্তাহ ধরে বিএসএফ কর্তৃক পুশইনের চেষ্টার ঘটনায় হিলি সীমান্তে নজরদাড়ি বাড়িয়েছে বিজিবি। সম্প্রতি শনিবার (৬ জুন) ভোররাতে হিলির ঘাসুড়িয়া সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ পাঁচজন ভারতীয় নাগরিককে পুশইন করার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি আরো জোরদার করা হয়েছে।
বিজিবির পাশাপাশি যোগ দিয়েছেন গ্রামপুলিশ সদস্যরা। সেইসাথে স্থানীয় গ্রামবাসীরা লাঠি হাতে নিয়ে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন। গ্রামবাসী ও গ্রামপুলিশ সদস্যদের সাথে নিয়ে রাত-দিন সমানতালে যৌথভাবে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে বিজিবি। এতে করে স্বস্তি ফিরেছে সীমান্তে বসবাসকারী সাধারণ মানুষের মাঝে।
গ্রামপুলিশ সদস্য নবিনুর ইসলাম বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ গ্রামপুলিশের সদস্য। সারা দেশব্যাপী যেসব সীমান্ত এলাকা রয়েছে আমরা সেসব স্থান দিয়ে পুশইন প্রতিরোধ করার জন্য বিজিবির সাথে দায়িত্ব পালন করছি। আমরা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিনিয়ত এভাবেই বিজিবির সাথে সীমান্তে কঠোর নিরাপত্তা দেবো। আমাদের উদ্দেশ্য ভারত যেন কোনো মানুষকে বাংলাদেশে পুশইন করতে না পারে। আমরা সেই পুশইন চেষ্টা প্রতিরোধ করব।’
গ্রামপুলিশ সদস্য রায়হান হোসেন বলেন, ‘আমরা দেশ রক্ষার জন্য আমাদের জীবন বাজি রেখে সীমান্তে বিজিবির সাথে রাত জেগে ডিউটি করতেছি। অনুপ্রবেশ রোধে আমরা সুন্দরভাবে সীমান্তে দায়িত্ব পালন করতেছি। আমাদের উদ্দেশ্য ভারত থেকে যেন বাংলাদেশে কোনো মানুষ পার হয়ে আসতে না পারে বা অবৈধ জিনিস যেন পাচার না হয়। আমরা খুব সুন্দরভাবে সেদিকে নজরদারি রাখব। সারারাত আমরা রাত জেগে থাকব, আমাদের দায়িত্ব পালন করে যাব। বিজিবির সাথে আমরা সব সময় থাকব, বিজিবি আমাদের কন্ট্রোলে রাখবে।’
স্থানীয় এলাকাবাসী ফিরোজ হোসেন বলেন, ‘আমরা সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত স্থানীয় গ্রামবাসী। বিএসএফ যেন ভারত থেকে কোনো লোককে বাংলাদেশে পুশইন করতে না পারে, এজন্য আমরা গ্রামবাসীরা এখানে সীমান্ত এলাকায় লাঠি হাতে নিয়ে রাতভর পাহারা দিচ্ছি। তারা যেন কোনো মানুষকে ওপার থেকে এপারে পার করে দিতে না পারে, সে মহিলা হোক বা পুরুষ। সেইসাথে কোনো ধরনের মাদক যেন কেউ পাচার করতে না পারে, সেটাও আমরা দেখছি। বিজিবি, গ্রামপুলিশ ও আমরা গ্রামবাসীসহ সকলে মিলে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছি, যাতে আমাদের বাংলাদেশে ভারত থেকে কোনো ধরনের অবৈধ মানুষ না আসে।’
স্থানীয় গ্রামবাসী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে আমরা বিজিবির সাথে গোটা গ্রামবাসী পাহারা দিচ্ছি যেন ওপার থেকে কোনো লোকজন না আসে। কোনো ধরনের মাদক যেন না আসে এইজন্য সারারাত লাঠি হাতে নিয়ে তাদের সাথে ডিউটি দিচ্ছি।’
জয়পুরহাট ২০ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল লতিফুল বারী জানান, আমরা আমাদের গ্রামবাসী তথা ভিডিপি ও আনসার, যারা রিজার্ভড আনসার রয়েছেন, তাদের সমন্বয়ে একটা দল গঠন করেছি। গ্রামের মানুষজনের মাঝে যাতে কোনো উৎকণ্ঠা কাজ না করে, তার জন্য আমাদের সাথে পাশাপাশি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সীমান্ত পাহারায় নিয়োজিত রয়েছে আনসার সদস্যরা।’
তিনি বলেন, ‘গ্রামবাসী আমাদের সহযোগিতা করছে। তারা জানে যে আমাদের প্রধান দায়িত্ব তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এদেশের প্রতিটি মানুষ আমাদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। তাই আমরা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যেহেতু অক্লান্ত পরিশ্রম করছি, তারাও আমাদের সাথে তাদের সাধ্যমতো আমাদের সহযোগিতা করছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিএসএফ সদস্যরা যেটা করে আসছেন, অঘোষিতভাবে মানুষকে হঠাৎ করেই গ্রামবাসীর মাধ্যমে দেশে জোরপূর্বক পাঠিয়ে দেয়া, এটা থেকে তারা যেন বিরত থাকে। এখন পর্যন্ত আমার এলাকায় আমরা এই ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হইনি। কিন্তু আমাদের সচেতনতার কোনো অভাব নেই। সম্প্রতি তারা ঘাসুরিয়া সীমান্ত দিয়ে পাঁচজনকে পুশইনের চেষ্টা চালালেও আমরা সেটি ব্যর্থ করে দেই। পুশইন ঠেকাতে আমরা যথেষ্ট সজাগ আছি।’



