নোয়াখালীতে রূপালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপকের ২৫ বছর কারাদণ্ড

পিপি মোহাম্মদ জহির উদ্দিন জানান, শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত দণ্ডবিধির ৪৬৭ ধারায় ১০ বছর, ৪০৯ ধারায় ১০ বছর এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। পৃথক তিন ধারায় দেয়া সাজায় তাকে মোট ২৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

Location :

Noakhali
নোয়াখালীর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো: শওকত আলী এ রায় দেন
নোয়াখালীর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো: শওকত আলী এ রায় দেন |নয়া দিগন্ত

নোয়াখালী অফিস

নোয়াখালীতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় লক্ষ্মীপুরের রামগতি বাজার শাখার সাবেক রূপালী ব্যাংক ব্যবস্থাপক মো: আবদুল মজিদকে ২৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ১৮ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

এছাড়া অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত এক কোটি ২৪ লাখ ১৫ হাজার ৫৪৩ টাকার সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে নোয়াখালীর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো: শওকত আলী এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত মো: আবদুল মজিদ (৪৮) লক্ষ্মীপুর সদর থানার কাফিলাতলি এলাকার মরহুম আমিনুল হকের ছেলে। মামলার বিবরণ ও দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালের ১৪ নভেম্বর থেকে ২০১৩ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের রামগতি বাজার শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আবদুল মজিদ।

দায়িত্বপালনকালে তিনি ব্যাংকের এসটিডি হিসাব নম্বর-৪-এ থাকা চার লাখ ৬৫ হাজার ৭৯৮ টাকা, এসটিডি হিসাব নম্বর-৬-এ থাকা ৪৯ লাখ ৬১ হাজার ১১৭ টাকা এবং সরকারি কর্মচারীদের পেনশন বাবদ উত্তোলন করা ১৬ লাখ ৩০ হাজার ২৩১ টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। এছাড়া ব্যাংকিং নীতিমালা লঙ্ঘন করে তিনি আরো ৭০ লাখ ৫৭ হাজার ১৪৫ টাকা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগে বলা হয়।

তদন্তে দুদক তার বিরুদ্ধে মোট এক কোটি ২৪ লাখ ১৫ হাজার ৫৪৩ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পায়।

নোয়াখালী দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোহাম্মদ জহির উদ্দিন জানান, মামলাটির তদন্ত শেষে দুদকের তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক মো: হোসাইন শরীফ ও সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আজগর হোসেন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

তিনি জানান, শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত দণ্ডবিধির ৪৬৭ ধারায় ১০ বছর, ৪০৯ ধারায় ১০ বছর এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। পৃথক তিন ধারায় দেয়া সাজায় তাকে মোট ২৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।