২৯ নভেম্বর ২০২০

পরমাণু প্রকল্প ঘিরে চীনা-মার্কিন চাপে যুক্তরাজ্য

পরমাণু প্রকল্প ঘিরে চীনা-মার্কিন চাপে যুক্তরাজ্য - ছবি -ইন্টারনেট

মাত্র চার বছর আগেই চীন-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের ‘স্বর্ণ যুগ’ শুরু হয়৷ এই সম্পর্কের মূলে ছিল যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন পরমাণু প্রকল্পে চীনা অর্থায়ন, বিশেষ করে চীনা সরকারী সংস্থা সিজিএন বা ‘চায়না জেনারেল নিউক্লিয়ার পাওয়ার গ্রুপ’ যারা ইতোমধ্যে পরমাণুখাতে যুক্তরাজ্যে প্রায় ৪ বিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ৪৫ হাজার কোটি বাংলাদেশি টাকা) লগ্নি করেছে৷

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে, হংকং বিষয়ে নতুন চীনা নীতিকে ঘিরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অসন্তুষ্ট৷ একই ইস্যুকে ঘিরে চীনের সাথে দূরত্ব বাড়াতে তাই যুক্তরাজ্যের ওপর চাপও দেয়া হয় বলে খবর পাওয়া গেছে৷ সেই চাপের মুখেই চীন-যুক্তরাজ্যের সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে৷ যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, চলতি বছরের শেষ থেকে হুয়াওয়েই এর থেকে আর কোনো নতুন পণ্য কিনবে না তারা৷ হুয়াওয়েই ছাড়াও আরো ১৮টি সংস্থা সিজিএন-গোষ্ঠীর সদস্য৷

এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর চীনও যুক্তরাজ্যকে সতর্ক করে দেয়৷ বলে, ‘এমন অসহযোগিতার ফলাফল ভোগ করতে হতে পারে যুক্তরাজ্যকে’৷ যুক্তরাজ্যে চীনা রাষ্ট্রদূত লিউ শিয়াওমিং বলেন, এমনটা ঘটলে ব্রিটিশ পরমাণু প্রকল্পে সব ধরনের লগ্নি বন্ধ করতে বাধ্য হবে তারা৷

কতটা গুরুত্বপূর্ণ চীন?
চীনা অর্থায়নের হাত ধরে যুক্তরাজ্যের বেশ কয়েকটি পরমাণু প্রকল্পে কাজ চলছে, যার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হিংকলি পয়েন্ট ও সাইজওয়েল৷ এছাড়াও, ব্র্যাডওয়েল পরমাণু প্রকল্পে একটি স্বতন্ত্র প্রকল্প গড়তে চায় চীন, যেটি চীনের বাইরে সবচেয়ে বড় চীনা পরমাণু প্রকল্প হবার সম্ভাবনা রাখে৷

সাইজওয়েল ও হিংকলি প্রকল্পে সরাসরি কাঁচা টাকা বা ‘হার্ড ক্যাশ’ লগ্নি করেছে সিজিএন বা ‘চায়না জেনারেল নিউক্লিয়ার পাওয়ার গ্রুপ’৷ দুটি প্রকল্পেরই ৬৬ শতাংশের মালিকানা তাদের হাতে৷ সিজিএন এই প্রকল্পগুলি থেকে সরে গেলে এর জায়গায় আসতে পারে ফরাসি সংস্থা ইডিএফ-এর আর্থিক সাহায্য৷ কিন্তু অর্থায়নের হাতবদলের ফলে প্রকল্পগুলির পেছনে খরচ বাড়তে পারে ব্যাপকভাবে৷

যুক্তরাজ্যের এনার্জি অ্যান্ড ক্লাইমেট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের জনাথন মার্শাল বলেন, ‘অনেকগুলো প্রকল্প রয়েছে কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে শুধু হিংকলি প্রকল্পই এগোবে বলে মনে হচ্ছে৷ ব্র্যাডওয়েল তো রাজনৈতিক কারণে এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে৷ আর সেটা সম্পূর্ণরূপে একটি চীনা প্রকল্প৷’

এই সমস্যা থেকে বেরোতে অন্যতম উপায় হতে পারে পরমাণুখাতে সরকারি লগ্নি বাড়ানো, যা এই মুহূর্তে বাস্তবিক নয়৷ যুক্তরাজ্যের পরমাণুনীতির ভবিষ্যৎ কেমন হবে, তা ঠিক করবে এই বছরের শেষে প্রকাশ হতে চলা জাতীয় পরমাণুনীতি৷

এ বিষয়, যুক্তরাজ্যের এনার্জি রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক রব গ্রস বলেন, ‘এখনই আমরা বলতে পারছি না নতুন পরমাণুনীতিতে কি থাকবে, কারণ রাজনীতি এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে৷ কিন্তু এটাও মাথায় রাখতে হবে যে, যে সংস্থাগুলি প্রকল্প তৈরি করবে তারা আর নীতিনির্ধারক সংস্থাগুলো এক নয়৷’ সূত্র: ডয়চে ভেলে


আরো সংবাদ