১৭ এপ্রিল ২০২১
`
৭ বছরে ৭ অভিযান

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান থেকে আরো ১৮টি রকেট লঞ্চারের গোলা উদ্ধার

১৮টি রকেট লঞ্চারের গোলা উদ্ধার করেছে বিজিবি। - ছবি : নয়া দিগন্ত

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান থেকে মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে ১৮টি রকেট লঞ্চারের গোলা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বুধবার সকাল ১১টায় বিজিবি ৫৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল সামিউন্নবী চৌধুরী প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা উদ্যানের ভেতরে নজর রাখছিলাম। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তির গতিবিধি লক্ষ্য করি। সেই ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গহীন অরণ্য থেকে লঞ্চারগুলো উদ্ধার করা হয়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব করা হয়নি। এছাড়া কয়েকজনের গতিবিধি লক্ষ্য করে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করলেও কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

তিনি আরো বলেন, রকেট লঞ্চারের গোলাগুলো অনেক পুরনো। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের দেড় কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বনের ভেতরে মাটি খুঁড়ে এগুলো রাখা হয়েছিল। গোলাগুলো প্লাস্টিকের কাভারের ভেতরে পলিথিনে মোড়ানো ছিল। এ ব্যাপারে মামলা হবে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুর থেকে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের গহীন অরণ্যে অভিযান চালায় বিজিবি’র সদস্যরা। রাতভর অভিযানের ফলে এগুলো উদ্ধার হয়। প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় সেক্টর কমান্ডার তুহিন মাসুদসহ বিজিবি সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সাল থেকে ২০২১ সাল। এই সাত বছরে হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাতে সপ্তম দফা অভিযান চালিয়ে ১৮টি রকেট লঞ্চারের গোলা উদ্ধার করেছে আইন-শৃংখলা বাহিনী। সাত বছরে সাতটি বড় ধরনের অস্ত্র উদ্ধার অভিযানের পর উদ্যানটিকে এখন অস্ত্রের কারখানা হিসেবে আখ্যায়িত করেন অনেক পর্যটক। ফলে দিন দিন পর্যটক সংখ্যা কমছে। এলাকার আবাসনের উপরও এক ধরনের নেতিবাচক চাপ পড়ছে। এখন সাতছড়ি মানেই গোলাবারুদ, রকেট ইত্যাদি অস্ত্রকে সাধারণ মানুষ বুঝে থাকে।

২০১৪ সালের ১ জুন থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দফায় অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে ৩৩৪টি কামান বিধ্বংসী রকেট, ২৯৬টি রকেট চার্জার, একটি রকেট লঞ্চার, ১৬টি মেশিনগান, একটি বেটাগান, ছয়টি এসএলআর, একটি অটোরাইফেল, পাঁচটি মেশিনগানের অতিরিক্ত খালি ব্যারেল, প্রায় ১৬ হাজার রাউন্ড বুলেটসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করে র‌্যাব।

এরপর আবারো ওই বছরের ১৬ অক্টোবর থেকে চতুর্থ দফার প্রথম পর্যায়ে উদ্যানের গহিন অরণ্যে মাটি খুঁড়ে তিনটি মেশিনগান, চারটি ব্যারেল, আটটি ম্যাগাজিন, ২৫০ গুলির ধারণক্ষমতা সম্পন্ন আটটি বেল্ট ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একটি রেডিও উদ্ধার করা হয়। পরে ১৭ অক্টোবর দুপুরে এসএমজি ও এলএমজির ৮ হাজার ৩৬০ রাউন্ড, ত্রি নট ত্রি রাইফেলের ১৫২ রাউন্ড, পিস্তলের ৫১৭ রাউন্ড, মেশিনগানের ৪২৫ রাউন্ডসহ মোট ৯ হাজার ৪৫৪ রাউন্ড বুলেট উদ্ধার করা হয়।

পঞ্চম দফায় ২০১৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সাতছড়িতে অভিযান পরিচালনা করে ১০টি হাই এক্সক্লুসিভ ৪০ এমএম অ্যান্টি-ট্যাংক রকেট উদ্ধার করা হয়। সবশেষ ষষ্ঠ দফায় ২০১৯ সালের ২৪ নভেম্বর সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান থেকে ১৩টি রকেট লঞ্চারের শেলসহ বেশকিছু বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। ২০২১ সালের ২ জুন সপ্তম দফা অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করে আইন-শৃংখলা বাহিনী। অস্ত্র মজুদ রাখার সাথে জড়িত কাউকে বিগত সাত বছরে গ্রেফতার করতে পারেনি আইন-শৃংখলা বাহিনী।



আরো সংবাদ