০৫ মার্চ ২০২১
`

পাকিস্তানে চীনের করোনা ভ্যাকসিনের তৃতীয় ধাপের ট্রায়াল শুরু

পাকিস্তানে চীনের করোনা ভ্যাকসিনের তৃতীয় ধাপের ট্রায়াল শুরু - ছবি - সংগৃহীত

পাকিস্তানে চীনের তৈরি করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনের তৃতীয় ধাপের ট্রায়াল শুরু হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে একটি বেসরকারি হাসপাতালে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিয়ে এই কার্যক্রমে অংশ নেন মজিদ আব্বাসি নামে ২১ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী।

যদিও এই শিক্ষার্থীর পরিবার বিষয়টি নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। তবে মহামারিকে পরাজিত করতে তার এই ভ্যাকসিন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ভালো সুযোগ তৈরি করতে পারে এমন চিন্তা থেকেই আব্বাসি তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালে অংশ নিয়েছেন।

‘পাকিস্তানে মহামারী মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। লাখ লাখ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষ মারা গেছেন,’ বলেন আব্বাসি।

ভ্যাকসিন নেয়ার পর তিনি সিনহুয়াকে বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি ভ্যাকসিন নিলে এটা শুধু আমাকে রোগ থেকেই সুরক্ষা দেবে না, বরং আমি গর্বের সাথে আমার বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের বলতে পারবো যে, একজন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ভ্যাকসিন কার্যকমে অংশ নিয়ে পৃথিবীকে মহামারি থেকে রক্ষায় সাহায্য করতে পেরেছি।’

দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন সামাজিক সার্কেল এবং অঞ্চল থেকে প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার ব্যক্তি পাকিস্তানের প্রধান শহর ইসলামাবাদ, লাহোর এবং করাচিতে পাঁচটি বিভিন্ন সাইটে চলমান কার্যক্রমে অংশ নিতে স্বেচ্ছাসেবক হয়েছেন।

অ্যাড৫-এনকোভ হিসেবে পরিচিত এই ভ্যাকসিনটি চীনের ক্যানসিনো বায়োলজিকস এবং বেইজিং ইনস্টিটিউট অফ বায়োটেকনোলজির তৈরি। ইসলামাবাদের শিফা আন্তর্জাতিক হাসপাতাল পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সাথে সহযোগিতা করছে।

শিফার ভ্যাকসিন ট্রায়ালের তত্ত্বাবধায়ক ওমেরা নাসির সিনহুয়াকে বলেন, ‘স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে ভ্যাকসিন কার্যক্রমে অংশ নেয়ার মানদণ্ড খুব সহজ। সুস্থ যে কেউ এবং ১৮ বছরের বেশি বয়সী এই কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন।’

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে স্বেচ্ছাসেবীদের এই কার্যক্রমে অংশ নেয়ার বিষয়ে আগ্রহী করাটা খুবই চ্যালেঞ্জিং ছিল। কারণ পাকিস্তানের জন্য ছিল এটা এক নতুন অভিজ্ঞতা। তবে অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবীদের কাছ থেকে ইতিবাচক কথা শুনে অনেকেই এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে আমাদের সাথে যোগাযোগ করছেন। এই ভ্যাকসিন কার্যক্রম যে নিরাপদ সে সম্পর্কে এটি সাধারণ জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করেছে।

চীনের ভ্যাকসিনকে একটি আদর্শ ভ্যাকসিন হিসেবে উল্লেখ করেছে পাকিস্তানের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ‘৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এটি সংরক্ষণ করা যায়। এটির একটি ডোজই যথেষ্ট।’



আরো সংবাদ