০৯ আগস্ট ২০২০

পেটের জ্বালায় কুয়াতে মারণঝাঁপ!

24tkt

করোনা আর তার জেরে লকডাউন। এই দুইয়ের যুগলবন্দিতে বেনজিরভাবে প্রকাশ্যে এসেছে ভারতের গরিব মানুষের আসল চিত্র। শ্রমিকরা হাঁটছেন কয়েক হাজার কিলোমিটার, রাস্তাতেই মারা যাচ্ছেন দুর্ঘটনা বা ক্লান্তিতে। রাজনীতিও চলছে সমানতালে সেই মৃত্যু নিয়ে।

কিন্তু গরিবের অবস্থা পালটাচ্ছে আর কোথায়? এবারের ঘটনাও মারাত্মক! ভারতের তেলঙ্গানার ওয়ারাঙ্গলে একটি হিমঘরের বাইরে কুয়া থেকে উদ্ধার হল ৯ জন শ্রমিকের লাশ! যদিও ওই ঘটনা কি গণআত্মহত্যা? তা নিয়ে এখনও সন্দিহান পুলিশ।

জানা গেছে, তেলঙ্গানার ওয়ারাঙ্গলে গোররেকুন্তা গ্রামে একটি হিমঘরের পাশে খোলা কুয়া থেকে পাওয়া যায় নয় জন পরিযায়ী শ্রমিকের দেহ। তাদের দেহে আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই।

পুলিশসূত্রে খবর, মাকসুদ আলম এবং তার স্ত্রী নিশা আদতে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হলেও কাজের সূত্রে ২০ বছর ধরে ওয়ারাঙ্গল নিবাসী। সেখানে পাটের বস্তা সেলাইয়ের কাজ করতেন তারা। আলম, তার স্ত্রী, মেয়ে, দুই ছেলে এবং তিন বছরের নাতির দেহ উদ্ধার হয়েছে। সঙ্গে মিলেছে ত্রিপুরার শ্রমিক শাকিল আহমেদ এবং বিহারের পরিযায়ী শ্রমিক শ্রীরাম ও শ্যামের দেহ।

পুলিশ কর্মকর্তা শ্যামসুন্দরের কথায়, ‘এটা গণ আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে না, কারণ সেটা হলে ওই পরিবারের ছ’জনের দেহ মিলত। বাকি তিন জন কেন আত্মহত্যা করবেন, তা স্পষ্ট নয়। আমরা সব দিক খতিয়ে দেখছি।’

আলমের পরিবার করিমাবাদে একটি ভাড়া বাড়িতে থাকত। লকডাউনের পর জুটমিলের মালিকের কাছে এসে গোডাউনে থাকার অনুমতি চান আলম। মালিকের অনুমতি পাওয়ার পর সেখানেই থাকছিলেন। বিহার থেকে আসা দুই যুবক থাকতেন গোডাউনের দোতলায়।

কারখানার মালিক ভাস্করের অবশ্য দাবি, ফ্যাক্টরি বন্ধ থাকলেও তাদের কর্মীদের কাছে পর্যাপ্ত রেশন এবং টাকা ছিল। লকডাউন শিথিলের পর কারখানা খোলার পরিকল্পনা নিয়েই বৃহস্পতিবার বিকেলে কারখানায় আসেন ভাস্কর। কর্মীদের দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তার পর কুয়োতে ভাসতে দেখেন দেহ। সেগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

খোঁজখবর নিতে তেলেঙ্গানার পঞ্চায়েত মন্ত্রী এরাবেল্লি দয়াকর রাও হাসপাতালে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, 'সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখতে বলা হয়েছে।' তেলেঙ্গানা সরকারই ওই দেহগুলির দাফনের দায়িত্ব নিয়েছে। তবে, মৃতদের পরিবার যদি চায় তাহলে দেহগুলি পাঠানোর ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানিয়েছেন সেই রাজ্যের মন্ত্রী। এই সময়


আরো সংবাদ