০৪ মার্চ ২০২১
`

রামেক হাসপাতাল থেকে চুরি হওয়া নবজাতক উদ্ধার

রামেক হাসপাতাল থেকে চুরি হওয়া নবজাতক উদ্ধার - ছবি : সংগৃহীত

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল থেকে চুরি হওয়ার ২৭ ঘণ্টা পর নবজাতককে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুর ১টার দিকে নগরীর মোন্নাফের মোড় এলাকার একটি বস্তি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় অভিযুক্ত নারী ও তার স্বামীকে আটক করা হয়েছে। রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি দল এ অভিযান চালায়।

আটক নারীর নাম মৌসুমি বেগম (২৩)। তার স্বামীর নাম সজিব (২৫)। তারা নগরীর বোয়ালিয়া থানাধীন রানীনগর এলাকার এক বস্তির বাসিন্দা।

নবজাতকসহ তাদের আটকের পর বিকেলে আরএমপির ডিবি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক।

এ সময় তিনি বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি নবজাতক শিশুটিকে চুরি করা নারী নিঃসন্তান। আট বছর আগে বিয়ে হলেও তার সন্তান হয়নি। তবে তিনি কোনো শিশু চোর চক্রের সাথে জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখা হবে।’

পুলিশ কমিশনার জানান, ‘শিশুটিকে ইতোমধ্যে তার নানা-নানির কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। আর শিশু চুরি করে নিয়ে যাওয়ার অপরাধে আটক দু’জনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ডিবি কার্যালয়ে ওই নবজাতকের নানি তাপসী রবিদাস জানান, শিশুটির নাম রাখা হয়েছে লক্ষ্মী। তারা শিশুটিকে ফিরে পেয়ে খুব খুশি।

রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনেই জুতা সেলাইয়ের কাজ করেন শিশুটির বাবা মাসুম রবিদাস। তিনি বলেন, ‘আমি মানুষ দেখলেই চিনতে পারি। এই নারীকে (মৌসুমি) আমি হাসপাতালের সামনে মাঝে-মাঝে দেখেছি। চুরি হয়ে যাওয়া শিশু ফিরে পাওয়ায় তিনি পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।’

মাসুম রবিদাস নগরীর আইডি বাগানপাড়া এলাকার বাসিন্দা। প্রসববেদনা নিয়ে গত বুধবার তার স্ত্রী কমলী রবিদাস শিল্পীকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারে মেয়ে সন্তানের জন্ম দেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে মৌসুমি তার কাছে গিয়ে শিশুটিকে আদর করেন। শুক্রবার সকালে তিনি আবার যান। তখন শিশুটিকে বুকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন কমলী। এই ফাঁকে ওই নারী তার শিশুটিকে নিয়ে পালিয়ে যান। শিশুটিকে না পেয়ে তিনি পাশেই ঘুমিয়ে থাকা তার মাসিকে ডাকেন। এ সময় মাসি ওয়ার্ডের বাইরে গিয়ে আর তাকে পাননি। এ ঘটনার ২৭ ঘণ্টা পর শিশুটিকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।



আরো সংবাদ