০৭ জুলাই ২০২২, ২৩ আষাঢ় ১৪২৯, ৭ জিলহজ ১৪৪৩
`
অনন্য স্থাপত্য

সিরাজগঞ্জ ইলিয়ট ব্রিজ ঘিরে অনেক ইতিহাস


পৃথিবীতে এমন কিছু নিদর্শন রয়েছে যেগুলো ঘিরে থাকে অনেক ইতিহাস। সিরাজগঞ্জ শহরের বিখ্যাত ইলিয়ট ব্রিজ বা বড়পুল তেমন একটি সেতু।

সিরাজগঞ্জ শহর দাঁড়িয়ে আছে যমুনা নদীর পাশে। শহরটির অনেক আগে থেকেই বিশেষ একটি পরিচিতি ছিল। এই সিরাজগঞ্জ শহরের মাঝ দিয়ে একটি বিশাল খাল বয়ে গেছে। নাম কাটাখালি খাল। যেহেতু যমুনা নদীর পাশে সিরাজগঞ্জ, তাই এখানে পানির স্রোত ছিল অনেক বেশি। এই খালের জন্য সিরাজগঞ্জ শহর দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এই দুই ভাগের নাম স্থানীয়রা দিয়েছিলেন এপার ও ওপাড়। দুই পাড়ের মধ্যে যাতায়াতে ছিল বিশেষ সমস্যা।

১৮৯২ সালের দিকে তৎকালীন সিরাজগঞ্জের সাব ডিভিশনাল অফিসার ছিলেন বিটসনবিল। তিনি চিন্তা করলেন বড়াল নদীর ওপর একটি সেতু তৈরি করবেন। তিনি চেয়েছিলেন সিরাজগঞ্জ শহরকে যেন দেখা যায় ভালো করে। তিনি তখন সিরাজগঞ্জের বড় বড় ব্যবসায়ীদের ডাকলেন। তাদের বললেন, তিনি একটি সেতু বানাতে চান। সবাই অনেক খুশি হলো এবং একমত হলো। তিনি সবাইকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করেন এবং ডিস্ট্রিক্ট বোর্ড থেকে অনুদান আদায় করলেন প্রায় ১৫০০ টাকা। কমিটির অন্য সদস্যরা তাদের সাধ্যমতো এখানে দান করলেন। ব্রিজ তৈরির কাজ শুরু হলো। ব্রিটিশ ইঞ্জিনিয়ার স্টুয়ার্ট হার্টল্যান্ড এই ব্রিজ তৈরি করেন। তখন প্রায় ৪৫ হাজার টাকা লেগেছিল এই ব্রিজ তৈরিতে। ব্রিজটির নাম রাখা হয় তৎকালীন আসামের গভর্নর চার্লস ইলিয়টের নামে। কারণ ইলিয়ট সাহেব ১৮৯২ সালের ৬ আগস্ট এই ব্রিজের ফাউন্ডেশনের কাজের উদ্বোধন করেন। ১৮৯৫ সালে এই ব্রিজ সম্পূর্ণ হয়।

সেতুটি ১৮০ ফুট লম্বা ও ১৬ ফুট চওড়া। এই সেতুর বিশেষ একটি বৈশিষ্ট্য আছে। তা হলো এই সেতুর কোনো পিলার নেই। আর্চ দিয়ে সেতুটি তৈরি হয়েছিল। লোহা ও সিমেন্টের সমন্বয়ে এই ব্রিজটি কাটাখালের ওপর প্রায় ৩০ ফুট উঁচুতে তৈরি হয়েছিল। পুরো সেতু স্টিলের কাঠামোর ওপর তৈরি। আগে কাটাখালির নিচ দিয়ে অনেক বড় বড় নৌকা ও জাহাজ চলত। পিলার না থাকায় সেগুলো সহজে চলাচল করতে পারত। এই সেতুকে স্থানীয় লোকেরা বড়পুল নামে ডাকেন।

এখনো এই সেতু টিকে আছে। মানুষ ছোট ছোট গাড়ি এই সেতুর ওপর দিয়ে নিয়ে যায়। হেঁটেও পাড় হওয়া যায় এই সেতু। দেখতেও খুব সুন্দর। সেতুটি বানানো হয়েছিল সিরাজগঞ্জ শহরকে ভালোভাবে দেখার জন্য। রাতে সে সময় সিরাজগঞ্জ শহরকে এই সেতুর ওপর দিয়ে দেখতে অন্যরকম লাগত। এখনো খুব সুন্দর লাগে সিরাজগঞ্জ শহরকে দেখতে এই সেতুর ওপর দিয়ে।

বর্তমানে কাটাখালির পানির প্রবাহ অনেক কমে গেছে। কিন্তু সেতুটি এখনো দাঁড়িয়ে আছে। এ ছাড়া যাতায়াত করতে অনেক সুবিধা হয়েছে। অনেক দর্শনার্থী এই সেতু দেখতে এখানে আসেন। ছিমছাম পরিবেশে খুব ভালো লাগে সবার এই সেতু দেখতে। যদিও আগের মতো নিচ দিয়ে পানির প্রবাহ নেই। তবুও সবাই খুব আনন্দ নিয়ে দেখেন। সিরাজগঞ্জ শহরে গেলে এই ইলিয়ট ব্রিজ দেখতে কেউ ভুল করেন না।


আরো সংবাদ


premium cement
পদ্মা সেতুর নাট খোলা বায়েজিদের জামিন নামঞ্জুর ফরিদপুর জেলা ছাত্রদল সভাপতির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা চিকিৎসার জন্য আবার ব্যাংককে রওশন এরশাদ সিলেটে আবারো বাড়ছে পানি, অবনতি বন্যা পরিস্থিতির লঞ্চে মোটরসাইকেল ১০ দিনের জন্য নিষিদ্ধ ব্রিটেনে ক্ষমতাসীন দলের ভেতরে বিদ্রোহ, কতক্ষণ টিকে থাকতে পারবেন বরিস জনসন ঢাবি অধ্যাপক ড. মোর্শেদের রিট খারিজ করায় উদ্বেগ আগস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে যাবে বাংলাদেশ ‘এ’ দল শিক্ষকদের ওপর হামলা মানে শিক্ষার ওপর হামলা : ইউনিসেফ মানিকনগরে উঠতি মাস্তানদের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা রেকর্ড রাজস্ব আদায়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ভূরিভোজ করালেন মেয়র

সকল