দিদার উল আলম
রহমত, বরকত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস মাহে রমজান সমাগত। মাহে রমজানে ঈমানদার নারী-পুরুষ মাত্রই আল্লাহমুখী হয়, সর্বত্র বিরাজ করে ধর্মীয় আমেজ। সারা দিনের সিয়াম সাধনার পর ক্লান্তি-শ্রান্তি নিয়েও রোজাদার তারাবির নামাজ আদায়ে যতœবান হয় কুরআনের আকর্ষণে, সচেষ্ট হয় খতম তারাবিতে অংশগ্রহণের জন্য। মাহে রমজান কুরআন নাজিলের মাস। কুরআনের প্রতি তাই তো এত আকর্ষণ!
বর্তমান জটিল ও বিভিন্নমুখী অর্থনীতিতে ধর্ম সম্পর্কে সঠিকভাবে জানার, বিশেষ করে কুরআনে বর্ণিত আদেশ ও নিষেধগুলো জানার ইচ্ছে এবং আগ্রহ থাকলেও সময়-সুযোগের কারণে তা অনেকের পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না। খতম তারাবি প্রতি রাতে কুরআনের যেটুকু পড়া হয় ওই পড়ার মধ্যে শুধু কুরআনের আদেশ ও নিষেধগুলো জানানোর ও জানার উপযুক্ত সময় বলে মনে করি। মসজিদ কমিটি, হাফেজ ও ইমামরা সাধারণ মুসল্লিদেরকে সহজেই এ সুযোগ করে দিতে পারেন। এজন্য খুব বেশি সময় প্রয়োজন নয়, মাত্র তিন থেকে পাঁচ মিনিট সময়ই যথেষ্ট।
তারাবিহ নামাজে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কুরআনের তিলাওয়াত শোনার পাশাপাশি সবাই যদি কুরআনে আল্লাহ মানুষকে কী করতে বলেছেন আর কী করতে নিষেধ করেছেন তা জানতেন, তাহলে হয়তো তা নিয়ে ভাবতেন এবং নিজের জীবনকেও সেভাবে গড়ে তুলতে পারতেন। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের ভূমিকা ও ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ প্রয়োজন নেই। তারাবির তিলাওয়াতের আলোকে শুধু আল্লাহ তায়ালা এ কাজগুলো করতে আদেশ করেছেন এবং ওই কাজগুলো থেকে বিরত থাকতে বলেছেন উল্লেখ করাই যথেষ্ট হবে। ইমাম সাহেব, হাফেজ সাহেব, মসজিদ কমিটির কেউ বা মুসল্লিদের মধ্যে থেকে উপযুক্ত যে কেউ পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে আদেশ-নিষেধগুলো বলতে পারেন। পয়েন্ট আকারে তুলে ধরার এ কাজটি কঠিন ও জটিল নয়, অবশ্যই সহজ। আসলে ধর্ম সহজ, ধর্মীয় রীতি-নীতি সহজ, উপদেশ গ্রহণের জন্য কুরআনও সহজ। আল্লাহ বলেন- ‘আমি কুরআনকে উপদেশ গ্রহণের জন্য সহজ করে দিয়েছি। সুতরাং আছে কী কেউ, যে উপদেশ গ্রহণ করবে?’ (সূরা কামার-১৭)
কুরআনের আদেশ ও নিষেধগুলো জানা এবং জানানোর প্রয়োজনীয়তা কত বেশি তা কুরআনে বর্ণিত হয়েছে-
১. ‘এটি (কুরআন) মানবজাতির জন্য সুস্পষ্ট বিবরণ (সব মানুষের জন্য বিশদ বর্ণনা) এবং মুত্তাকিদের জন্য হেদায়েত ও উপদেশ।’ (সূরা আলে ইমরান, আয়াত-১৩৮)
২. ‘এ কিতাব সৌভাগ্যের চাবিকাঠি (এটি এক বরকতপূর্ণ কিতাব), যা আমি নাজিল করেছি। সুতরাং এর অনুসরণ করো এবং সতর্ক হও যাতে তোমাদের প্রতি রহমত বর্ষিত হয়।’ (সূরা আনআম, আয়াতদ-১৫৫)
৩. ‘এ কুরআন একটি কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি নাজিল করেছি, যাতে আপনি মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন।’ (সূরা ইবরাহিম, আয়াত-১)
৪. ‘এটি (কুরআন) একটি আশীর্বাদ। এ আশীর্বাদ গ্রন্থ আমি আপনার প্রতি নাজিল করেছি যাতে করে মানুষ এর আয়াতগুলো অনুধাবন করে (বোঝে, চিন্তা-ভাবনা করে) এবং জ্ঞানবান লোকেরা যেন এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে (উপদেশ গ্রহণ করে)।’ (সূরা সোয়াদ, আয়াত-২৯) যেসব মসজিদে সূরা তারাবি হয়, সেসব মসজিদেও তারাবির পরে বা আগে শুধু কুরআনের আলোকে কিছু করণীয় ও কিছু বর্জনীয় তুলে ধরা যায়।
কুরআন নাজিলের মাসে কুরআনের আলোকে আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে তার আদেশ-নিষেধ জানার ও জানানোর এবং তার আলোকে চলার তাওফিক দান করুন এবং আমাদেরকে মুত্তাকি হিসেবে কবুল করুন। আমিন।
লেখক : শিক্ষক, সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক



