নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের পরে প্রথম কর্মসূচি হিসেবে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের এবং রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গতকাল সকাল ৮টার দিকে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন দলটির নেতাকর্মীরা। এর আগে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে স্মৃতিসৌধে পৌঁছান তারা। স্মৃতিসৌধ থেকে ফিরে সকাল ১০টায় রায়েরবাজার বদ্ধভূমিতে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
সাভারে শ্রদ্ধা জানানো শেষে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন সংবিধান প্রকৃত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় উত্তরণে সহায়তা করবে। জাতীয় নির্বাচনে গণপরিষদ নির্বাচন ও সংসদ নির্বাচন একসাথে হতে পারে সেই দাবিটা আমরা জানাচ্ছি। এর মাধ্যমেই নতুন কাঠামো এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। মুক্তিযুদ্ধসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আকাক্সক্ষা পূরণে কাজ করবে নাগরিক পার্টি। দলের নিবন্ধন নিতে শর্তাবলী পূরণ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে আগাবো। গঠনতন্ত্র প্রণয়নের কাজ চলছে।
সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ শহীদের জীবনের বিনিময়ে যে স্বাধীনতা এসেছে, যার মূলমন্ত্র ছিল সাম্য ও সামাজিক সুবিচারের বাংলাদেশ। গত ৫৪ বছরে তা অধরা থেকে গেছে। আমরা এনসিপির নেতাকর্মীরা অঙ্গীকারবদ্ধ, সেই বাংলাদেশ নির্মাণে কাজ করে যাবো। সারা বাংলাদেশে আমাদের অনেকগুলো প্রস্তাবনার জায়গা রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম, বাংলাদেশ পুরো বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে, ঢাকা শহরকে গ্লোবাল সাউথের প্রধান হিসেবে দেখা, এমন অনেকগুলো স্বপ্ন নিয়ে আমরা এগোচ্ছি। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমরা বিশ্বাস করি, নতুন একটি সংবিধানের বাস্তবতা রয়েছে। এর ভিত্তিতে আমরা গণপরিষদ নির্বাচনের কথা বলেছি। একই সাথে সে গণপরিষদ নির্বাচনে যারা জয়ী হবেন, তারা সংসদ সদস্য হিসেবে ভূমিকা পালন করবেন এমন প্রস্তাবনাও আমাদের আছে। অল্প সময়ের মধ্যে সারা দেশে জেলা ও উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টি কার্যক্রম বিস্তৃত করবে।
এরপর সকাল ১০টার দিকে গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে সাভার থেকে মিরপুর রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে যান এনসিপি নেতাকর্মীরা। এ সময় চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদদের কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তারা। জুলাই আন্দোলনে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়াও করা হয়। স্মৃতিসৌধ ও বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধা জানানোর সময় পার্টির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসুদ, যুগ্ম সদস্যসচিব রিফাত রশীদসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।



