শামীম সরদার সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা)
প্রান্তিক কৃষক নেছার সরকার লুলু। বর্তমানে কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে বেশ পরিচিতি পেয়েছেন। নানা জাতের শাক-সবজি উৎপাদনই তার নেশা ও পেশা তার। এরই মধ্যে চলতি রবি মৌসুমে আবাদ করেছেন ভিনদেশী সবজি ‘বিটরুট’। পরীক্ষামূলভাবে বিটরুট চাষে সফল হয়েছেন তিনি। পাচ্ছেন আশানুরূপ ফলন ও ভালো দাম। ইতোমধ্যে সাড়া ফেলেছেন তিনি। ভোক্তার চাহিদা থাকায় খুব খুশি এই উদ্যোক্তা।
সম্প্রতি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের রাঘবেন্দপুর কৃষিমাঠে দেখা গেছে, সবুজ পাতার ফাকে অর্ধেক মুখ বের করে মাটির নিচে লুকিয়ে আছে গোলাকৃতির রক্তিম এই সবজি। থাইল্যান্ডের বিটরুট এখন নিজ এলাকায় আবাদ হওয়ার খবরে উৎসুক জনতা একনজর দেখতে ভিড় করছেন তার ক্ষেতে। কেউ কেউ মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ করছেন ছবি ও ভিডিও। অনেকে কিনেও নিচ্ছন পুষ্টিগুণের এই বিটরুট।
সরজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইদিলপুর ইউনিয়নের কাঁঠাল লক্ষ্মীপুর গ্রামের আবদুল কুদ্দুস মিয়ার একমাত্র ছেলে নেছার সরকার লুলু। তিনি লেখাপড়ায় হাইস্কুলের গণ্ডি পেরুতে পারেনি। পেশা হিসেবে বেছে নেন কৃষি কাজ। এরপর বাবার ৪ বিঘা ও বন্ধকী আড়াই বিঘাসহ মোট সাড়ে ৬ বিঘা জমিতে বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি উৎপাদন করে আসছেন। এসব ফসলের ওপর চলে তার সংসার।
এরই ধারাবাহিকতায় নাছের সরকার লুলু ইউটিউবে দেখতে পান থাইল্যান্ডের সবজি বিটরুট আবাদের দৃশ্য। এ থেকে নিজেও পরিকল্পনা নেন এই সবজি আবাদের। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে যশোর জেলা থেকে মফিজল নামের এক কৃষকের কাছ থেকে ২০ গ্রাম বীজ ২৫০ টাকায় সংগ্রহ করেন। এরপর গেল ডিসেম্বর শেষ সপ্তাহের দিকে বপণ করে বীজতলায়। তা গজিয়ে ওঠার পর জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে ৪০০ চারা রোপণ করা হয় জমিতে। আর সেই চারার মাটির নিচে এখন দেখা দিয়েছে স্বপ্নের বিটরুট। একেকটি সবজির ওজন প্রায় সাড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম। এতে সার-সেচসহ অন্যান্য খরচ প্রায় আড়াই হাজার টাকা। ইতোমধ্যে ফসল বিক্রি শুরু করেছেন ১০০ টাকা কেজি দামে। ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় প্রায় ৩০ হাজার টাকা বিক্রি করবেন বলে আশা করছেন কৃষক নাছের সরকার লুলু।
পুষ্টিবিদরা বলছেন, বিটরুট খেলে মানবদেহে দ্রুত হজমে সাহায্য করে। যা রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রকারের পুষ্টি গুণ রয়েছে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস ও ক্যানসার রোগের ঝুঁকি কমায় এই বিটরুট।
স্থানীয় কৃষক ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য শাহারুল ইসলাম বলেন, অনেক আগে থেকে জানি যে, বিটরুট চাষ হয় থাইল্যান্ডে। কিন্তু সেই সবজি এখন আবাদ করছেন লুলু। ফলনও হয়েছে বাম্পার। দেখে অনেকটা ভালো লেগেছে। সামনের বছরে আমিও এই সবজির আবাদ করব।
উদ্যোক্তা নাছের সরকার লুলু বলেন, আমি বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি চাষাবাদ করি। হঠাৎ ইউটিউবে বিটরুট চাষ পদ্ধতি দেখতে পাই। এ থেকে উৎসাহিত হয়ে খুব খোঁজাখুঁজি করে যশোর জেলা থেকে বীজ সংগ্রহের মাধ্যমে আবাদ করেছি। কিন্তু এই আবাদে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ চেয়েও তা পাইনি। তবুও হাল ছাড়িনি। ইউটিউব দেখে দেখে দৃঢ় মনোবলে আবাদ করেছি। ফলন ও দাম ভালো পাচ্ছি। আগামী বছরে দুই বিঘা জমিতে বিটরুট চাষের পরিকল্পনা রয়েছে।
সাদুল্লাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মতিউল আলম জানান, এ উপজেলায় প্রথম বিটরুট আবাদ করেছে কৃষক লুলু। যা খুবই লাভজনক ফসল। দোআঁশ ও এঁটেল মাটিতে বিটরুট চাষে যে কেউ লাভবান হতে পারবেন।



