চট্টগ্রাম জামায়াতের ইফতারে শামসুল ইসলাম

গুম, খুনের বিচার ও প্রয়োজনীয় সংস্কার করে নির্বাচন দিন

চট্টগ্রাম ব্যুরো
Printed Edition
রাজনৈতিক ও সুধীজনের সম্মানে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিল : নয়া দিগন্ত
রাজনৈতিক ও সুধীজনের সম্মানে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিল : নয়া দিগন্ত

জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি ও সাবেক এমপি মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম বলেছেন, বিগত ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগ খুন, গুম, লুটপাট, অর্থপাচারসহ যে অপকর্ম করেছে, আগে তার বিচার করতে হবে। একই সাথে রাষ্ট্রকে এমনভাবে সংস্কার করতে হবে, যাতে আর কোনোভাবে ফ্যাসিবাদ ফিরে না আসতে পারে। ১৭ বছরের দুঃসহ অবস্থার পর জনগণ এখন একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ দেখতে চায়। সেই লক্ষ্যে কাজ করতে হবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে। সারা দেশের মানুষ এখন ইসলামী শাসনব্যবস্থার দিকে ঝুঁকে পড়ছে। তারা অনেকের শাসনামল দেখেছে, শান্তি কোথাও পায়নি। এবার খোলাফায়ে রাশেদার মতো ইসলামী শাসনের সুফল পেতে চাচ্ছে মানুষ। তিনি গতকাল রোববার চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের উদ্যোগে বিশিষ্টজনদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন।

কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাহফিলে বিশেষ অতিথি ছিলেন- কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আহসান উল্লাহ, চট্টগ্রাম মহানগরী আমির সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরী, কেন্দ্রীয় মজশিসে শূরা সদস্য অধ্যক্ষ আমীরুজ্জামান, জাফর সাদেক, নেজামে ইসলাম পার্টির নেতা আব্দুর রহমান চৌধুরী, এলডিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট কফিল উদ্দিন চৌধুরী, এলডিপি নেতা ইয়াকুব আলী চৌধুরী, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের ভিসি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী, চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের নায়েবে আমির পরিবেশবিদ মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইছহাক ও এস এম লুৎফর রহমান প্রমুখ।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ বদরুল হকের সঞ্চালনায় এতে আরো উপস্থিত ছিলেন- বনফুল গ্রুপের পরিচালক শিল্পপতি এম এ শুক্কুর, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মোহাম্মদ নুরুল্লাহ ও ড. হেলাল উদ্দিন মোহাম্মদ নোমান, চট্টগ্রাম-৮ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা: আবু নাসের, চট্টগ্রাম-১৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান, চট্টগ্রাম-১৪ আসনের প্রার্থী ডা: শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-১২ আসনের প্রার্থী ডা: ফরিদুল আলম, দক্ষিণ জেলা জামায়াতের অ্যাস্টিট্যান্ট সেক্রেটারি মুহাম্মদ জাকারিয়া, অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নাছের, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা নুরুল হোসাইন, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা কামালুদ্দিন, নুরুল হক, ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল মোস্তাফা, আরিফুর রশিদ ও অধ্যাপক আসাদুল্লাহ ইসলামাবাদীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।

জুলাই বিপ্লবে নিহতদের পরিবারকে ঈদ উপহার : জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেছেন, জুলাই আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পতন হলেও তাদের দোসরদের ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। তারা নানাভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে। ছাত্র-জনতার রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। এ দেশে গণহত্যাকারী নৃশংস আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার অধিকার নেই। দ্রুততম সময়ের মধ্যে গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ এবং বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

তিনি আরো বলেন, জুলাই আন্দোলন মৃত্যুবরণকারী ও আহতরা আমাদের সম্পদ। জামায়াত সবসময় তাদের পাশে ছিল, এখনো আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। জামায়াতের পক্ষ থেকে জুলাই আন্দোলনে নিহতদের পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার নগদ টাকা প্রদান করা হয়েছে। জুলাই আন্দোলনে স্বজন হারানো পরিবারে এবার অন্যরকম ঈদ পালন করবে। আমরা তাদের ঈদ আনন্দে শামিল করতে চাই।

গতকাল সিলেট মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার ও নগদ টাকা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, দক্ষিণ সুরমা থানা সেক্রেটারি ফয়জুল ইসলাম জায়গীরদার, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন দক্ষিণ সুরমা থানা সভাপতি কফিল উদ্দিন আলমগীর, ২৬ নং ওয়ার্ড সভাপতি এস এম মুসা, ২৫ নং ওয়ার্ড সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ, ২৬ নং ওয়ার্ড সেক্রেটারি আব্দুস সোবহান, সহকারী সেক্রেটারি মাহবুব আহমদ, ঝালোপাড়া ইউনিট সভাপতি মাতাব আহমদ, ভার্থখলা ইউনিট সভাপতি জামিল আহমদ, কামরুল ইসলাম ও পল্লব কুমার কর প্রমুখ। অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে সিলেটের সব শহীদ পরিবারকে জামায়াতের পক্ষ থেকে ঈদ উপহার প্রদান করা হয়।

মগবাজারে মেধাবী ছাত্রদের নিয়ে মতবিনিময় সভা : জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার- মিডিয়া সেক্রেটারি, নাগরিক উন্নয়ন ফোরাম হাতিরঝিলের সভাপতি আতাউর রহমান সরকার বলেছেন, দীর্ঘ ৫৪ বছর একশ্রেণীর রাজনীতিবিদ ছাত্র সমাজকে ক্ষমতার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করেছে। বই-কলমের পরিবর্তে অস্ত্র, মাদক হাতে তুলে দিয়ে তাদের অকালে ধ্বংস করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। ছাত্রদের দক্ষতা ও যোগ্যতা বৃদ্ধি এবং আলোকিত মানুষ গড়ার কোনো কর্মসূচি ছাত্রদের জন্য তারা দিতে পারেনি। একমাত্র জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরই এ ক্ষেত্রে একমাত্র ব্যতিক্রম। এ দুটি সংগঠন ছাত্রসমাজকে সৎ, যোগ্য, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরির জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়।

গতকাল রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে নাগরিক উন্নয়ন ফোরাম ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৩৫ নং ওয়ার্ডের উদ্যোগে মেধাবী ছাত্রদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ছাত্রশিবিরের হাতিরঝিল পশ্চিম থানা সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন শিহাবের সভাপতিত্বে এবং থানা বায়তুলমাল সম্পাদক ইজাজ আহমদ শাহর পরিচালনায় এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক কলিম উল্লাহ প্রমুখ।