নয়া দিগন্ত ডেস্ক
অতি দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করা শাহাবুল চার ভাইবোনের মধ্যে তৃতীয়। খুব অল্প বয়সেই নিতে হয়েছে পরিবারের দায়িত্ব। ঢাকার বাইপাইল এলাকায় তিনি ভ্রাম্যমাণ সবজি বিক্রি করতেন। টানাপড়েনের সংসারে তার স্ত্রীও এক সংগ্রামী নারী। তিনি একটি পোশাক শিল্পে কাজ করে অর্থ উপার্জন করেন। সবজি বিক্রির পাশাপাশি শাহাবুল স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে শুধু সমর্থন করতেন না তাদের সাথে মিছিলে, প্রতিবাদে, বিক্ষোভে নিয়মিত যোগদান করতেন। তত দিনে আন্দোলনে সারা দেশের সকল শ্রেণীর মানুষ রাস্তায় নেমে এসে হাসিনার পতনের এক দফা দাবিতে সোচ্চার হয়েছে। প্রতিবাদ সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল, গ্রাফিতি তৈরি, হ্যাশট্যাগ ব্যবহার, বিদেশী মিডিয়ার সংবাদ প্রকাশ ইত্যাদির মাধ্যমে ছাত্র-জনতা সরকার পতনের দাবি জানাতে থাকে। তবুও সরকার এদিকে ভ্রƒক্ষেপ না করে ছাত্র-জনতার ওপরে ভারী অস্ত্রের আক্রমণ চালাতে থাকে। ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়ে বিশ্বের কাছ থেকে লুকানো হয় নির্মম হত্যাকাণ্ডের চিত্র। তবুও বাংলার বীর সন্তানেরা থেমে থাকেনি তাদের আন্দোলন থেকে। ৪ আগস্ট ঘোষণা হয় ৫ তারিখের মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচি। এই দিনেও আহত নিহত হয় অসংখ্য মানুষ। নিহতদের মধ্যে অন্যতম পঞ্চগড়ের শহীদ মো: শাহাবুল ইসলাম।
শাহাবুল চার আগস্ট ২০২৪ তারিখ বেলা ১১টায় মিছিলে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়। যদিও তার স্ত্রী তাকে বলে, তুমি মিছিলে যেও না। পুলিশ গুলি করে মানুষ মারছে। তবুও শাহাবুল ইসলাম বের হয়ে যায়। তবে তার বাসায় ফেরা হয়নি। কেননা ১১টা ৩০ এর দিকে ছাত্র-জনতার প্রতিবাদ সমাবেশকে লক্ষ্য করে পুলিশ বৃষ্টির মতো গুলিবর্ষণ করে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। বাড়ি থেকে তার মেজো ভাই কল দিলে নার্স রিসিভ করে জানায় যে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছেন। তার লাশ নিতে হাসপাতালে গেলে পুলিশ রেফারেন্স ছাড়া লাশ দিতে অস্বীকার করে। তার ভাই ধামরাই থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করলে পুলিশ পোস্টমর্টেমের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যালে নিয়ে যান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পোস্টমর্টেম করে শাহাবুলের লাশ মর্গে রেখে দেয়।
পরদিন ৫ আগস্ট ধামরাই থানা পুলিশের কাছে ক্লিয়ারেন্স আনতে গেলে দেখতে পান থানায় আগুন জ্বলছে। যার কারণে সেখানে কোনো পুলিশ পাওয়া যায়নি। এরপর ১১ আগস্ট ধামরাই থানার একজন পুলিশ সদস্যের নাম্বার নিয়ে তার সাথে কথা বলে বিষয়গুলো খুলে বললে তিনি ১২ তারিখ সকালে থানায় আসতে বলেন। পরদিন ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট পেয়ে শাহাবুলের লাশ নিয়ে নিজ গ্রামে চলে যান তার ভাই।



