সেই জাঙ্গালিয়ায় গতিরোধক বসিয়েই দায় সারল সওজ, মূল দাবি ৬ লেনের

মোছাদ্দেক হোসাইন, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম)
Printed Edition
লোহাগাড়ার জাঙ্গালিয়া সড়কের বর্তমান দৃশ্য : নয়া দিগন্ত
লোহাগাড়ার জাঙ্গালিয়া সড়কের বর্তমান দৃশ্য : নয়া দিগন্ত

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সবচেয়ে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা লোহাগাড়ার চুনতি জাঙ্গালিয়ায় বসানো হয়েছে ৬টি গতিরোধক (স্পিড ব্রেকার)। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টার নির্দেশে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এসব গতিরোধক বসিয়েছে। পাশাপাশি সড়কের পাশে বসানো খুঁটিতে উড়ছে লাল নিশানা। ঈদের ছুটিতে তিন দিনে এই এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত হন। আহত হন অনেকে। চট্টগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগ দক্ষিণের উপপ্রকৌশলী আবু হানিফ বলেন, দুর্ঘটনা রোধে ৮ ইঞ্চি উচ্চতার এসব গতিরোধক বসানো হয়েছে। দোহাজারী থানার ওসি শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামমুখী সড়কের জাঙ্গালিয়া তুলনামূলক ঢালু এবং ডান দিকে বাঁক আছে। ফলে এখানে দ্রুতগতির গাড়ি বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ি দেখার পর গতি কমানোর সুযোগ পায় না। এই গতিরোধকের কারণে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রিত হবে, দুর্ঘটনা কমবে।

তবে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এই এলাকার মহাসড়কের একপাশে চুনতি অভয়ারণ্য, আরেক পাশে সংরক্ষিত চেপে ধরে লাশের খণ্ডগুলো দেখার চেষ্টা করছে।

এলাকাবাসী জানায়, সকাল ১১টার দিকে পড়ে থাকা কার্টনগুলো কয়েকটি কুকুর টানা হেঁচড়া করে। এতে একটি কার্টনের মুখ খুলে লাশের টুকরো বের হয়ে পড়ে। এরপর তারা পুলিশে খবর দিলে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশের ক্রাইম সিনকে খবর দেয়। বিকেল পাঁচটায় পিবিআই, ক্রাইম সিন ও কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে কার্টন তিনটি উদ্ধার করে ঘটনাস্থলে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে।

এতে দেখা যায়, অজ্ঞাত এক পুরুষ মানুষকে হত্যার পর তার লাশ টুকরো টুকরো করে ৫ ভাগে বিভক্ত করে ছয়টি কার্টনে ভরা হয়। এরপর তিনটি কার্টন কেরানীগঞ্জে এবং তিনটি কার্টন মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পদ্মা সেতু উত্তর থানা এলাকায় ফেলে যায় খুনিরা। কেরানীগঞ্জে পাওয়া তিনটি কার্টনের একটিতে রয়েছে লাশের দুই হাত ও দুই পা এবং হাঁটু থেকে পায়ের নিচ পর্যন্ত। আরেকটি কার্টনে রয়েছে লাশের কোমর থেকে পেট ও পেট থেকে গলার অংশবিশেষ। আরেকটি কার্টনে রয়েছে গলার দুই টুকরা, হাতের কনুই থেকে আঙুল ও দুই হাতের আলাদা অংশবিশেষ। অন্যদিকে লৌহজং থেকে পাওয়া তিনটি কার্টনে রয়েছে লাশের মাথা, কোমর থেকে হাঁটুর নিচ ও শরীরের অন্যান্য অংশবিশেষ।

পদ্মা সেতু উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন নয়া দিগন্তকে জানান, এলাকাবাসীর মাধ্যমে ট্রিপল নাইনে ফোন পেয়ে মেদিনিমণ্ডল গার্লস কলেজের পাশ থেকে মাটিতে পড়ে থাকা স্কচটেপে মোড়ানো মানুষের মাথা ও শরীরের উরুর দু’টি টুকরা পাওয়া যায়। অন্যদিকে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে হাত-পা-শরীরের অন্যান্য অংশ কেরানীগঞ্জ মডেল থানা এলাকায় পাওয়া যায়। পৃথক স্থানে প্রাপ্ত খণ্ডিত লাশটি একই ব্যক্তির। লাশ শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকারীরা অন্য কোথাও এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়ে লাশের অংশগুলো এখানে ফেলে রেখে গেছে।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: সোহরাব আল হোসাইন জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার মালঞ্চ এলাকায় মানবদেহের হাত-পা-শরীরের খণ্ডিত অন্যান্য অংশ পাওয়া গেছে। লাশ একই ব্যক্তির কি না খণ্ডিত অংশগুলো মেলালে তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট এটা নিশ্চিত বলতে পারবেন। ধারণা করা হচ্ছে, অন্য কোথাও এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে লাশের অংশগুলো এখানে ফেলে রেখে গেছে বলে তিনি জানান।