১১৩ প্রস্তাবে সম্মতি, দ্বিমত ২২ প্রস্তাবে

ঐকমত্য কমিশনে এনসিপির সুপারিশ জমা

নিজস্ব প্রতিবেদক
Printed Edition
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কো-চেয়ারম্যান অধ্যাপক আলী রীয়াজের কাছে প্রতিবেদন জমা দিচ্ছেন  জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা : পিআইডি
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কো-চেয়ারম্যান অধ্যাপক আলী রীয়াজের কাছে প্রতিবেদন জমা দিচ্ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা : পিআইডি

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কাছে সংস্কার প্রস্তাব বিষয়ে মতামত জমা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশের ১৬৬টি প্রস্তাবের মধ্যে ১১৩টির সাথে একমত হয়েছে নাগরিক পার্টি। এ ছাড়া ২৯টি প্রস্তাবের সাথে আংশিক একমত ও ২২টি প্রস্তাবের সাথে দ্বিমত পোষণ করেছে সদ্য গঠিত নতুন রাজনৈতিক দলটি। গতকাল রোববার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে ঐকমত্য কমিশনের কাছে সুপারিশ জমা দেন দলের নেতারা। এরপর সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংস্কারবিষয়ক কমিটির কো-অর্ডিনেটর সারোয়ার তুষার। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব (দফতর) ও সংস্কারবিষয়ক কমিটির সদস্য সালেহ উদ্দিন সিফাত, সদস্য মনিরা শারমিন, জাবেদ রাসিন ও আরমান হোসাইন।

সারোয়ার তুষার বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পাঠানো ১৬৬টি প্রস্তাবের মধ্যে আমরা ১১৩টি প্রস্তাবের সাথে পুরোপুরি একমত হয়েছি। ২৯টি প্রস্তাবের সাথে আমরা আংশিক একমত হয়েছি। আর ২২টি প্রস্তাবের ব্যাপারে আমরা একমত হতে পারিনি। অনেক প্রস্তাবের সাথে একমত হওয়ার পরও আমরা মন্তব্য করেছি। আংশিক একমত যেসব প্রস্তাবের সাথে হয়েছি সেগুলোর পাশে মতামত জানিয়েছি। যেগুলোর সাথে একমত হইনি, সেগুলোর পাশে কেন একমত হইনি সেটাও জানিয়েছি।

সংস্কার প্রস্তাবের ওপর জানানো মতামতের বিষয়ে সারোয়ার তুষার বলেন, প্রস্তাবে রাষ্ট্রভাষা বাংলার কথা বলেছেন। আমাদের তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু আমরা বলেছি এটি দাফতরিক ভাষা হওয়া উচিত। বাংলাদেশের নাগরিকরা বাংলাদেশী হিসেবে পরিচিত হবেন। আমরা এটির সাথে একমত হয়েছি। পাশাপাশি আমরা মন্তব্য করেছি, বিভিন্ন যে জাতিসত্তা আছে তাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি থাকতে হবে। তাদের ১২টি প্রস্তাবের সাথে আমরা একমত হয়েছি, ১১টি প্রস্তাবের সাথে একমত হতে পারিনি, তিনটির সাথে আংশিক একমত হয়েছি। একটি বিষয়ে আমরা ঘোরতর বিরোধিতা করেছি। সেটি হচ্ছে প্রাদেশিক শাসনব্যবস্থা। আমরা বলেছি, এই ধারণা বিপজ্জনক। এটি নিয়ে আলোচনারই দরকার নেই। এটি বাংলাদেশের জন্য ভালো হবে না।

সংস্কার প্রস্তাবের ওপর মতামতের পাশাপাশি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কাছে তিনটি বিষয়ে জানতে চেয়েছে নতুন এই দলটি। এ ব্যাপারে সারোয়ার বলেন, জুলাই চার্টার হবে ঐকমত্যের ভিত্তিতে; অর্থাৎ সুপারিশের যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হবে তার ওপর ভিত্তি করে জুলাই চার্টার হবে। আমরা বুঝতে পারছি ১৬৬টি সুপারিশমালার সবগুলো জুলাই চার্টারে থাকবে না। তাহলে গুরুত্ব¡পূর্ণ যেসব সুপারিশ জুলাই চার্টারে থাকবে না সেগুলোর ব্যাপারে কমিশন কী ভাবছে সেটি আমরা জানতে চেয়েছি। সরকার ১১১টি সংস্কার প্রস্তাব কোনো ধরনের সংলাপ ছাড়া বাস্তবায়নের কথা ভাবছে। এই ১১১টির মধ্যে অনেকগুলো সংস্কার আছে, যেগুলো আমাদের কাছে মনে হয়েছে আলোচনা করার প্রয়োজন আছে। এগুলো কোন প্রক্রিয়ায় নির্ধারণ করা হলো এটি আমরা জানতে চেয়েছি।

দু’টি কমিশনের সুপারিশ তাদের কাছে পাঠানো হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, খুবই গুরুত্বপূর্ণ দু’টি কমিশনের সুপারিশ আমাদের কাছে পাঠানো হয়নি। একটি হলো পুলিশ সংস্কার কমিশন, আরেকটি হলো স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন। এগুলোর ব্যাপারে আমরা আমাদের মতামত জানাতে পারিনি। এ ব্যাপারে ঐকমত্য কমিশনের অবস্থান আমরা জানতে চেয়েছি।

এ ছাড়াও নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বয়স ২৩ বছর এবং ভোটদানের বয়স ১৬ বছর, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে পুলিশের গুলি করার নিয়ম না রাখাসহ বেশ কিছু মন্তব্য করেছে দলটি। জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাদের দাবি যেসব বিষয়ে তারা একমত হতে পারেনি, সেসব বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা করে কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।