মো: আবদুস সালিম
বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের ময়না পাখি আছে। যেমন পাতি ময়না, সোনাকানি ময়না, পাহাড়ি ময়না। এগুলো ছাড়া আরো কয়েক ধরনের ময়না আছে। আজ তোমরা ‘পাহাড়ি ময়না’ সম্বন্ধে জানবে। পাহাড়ি ময়না খুবই চকচকে পাখি। এটি পাহাড়ি এলাকায়ই বেশি দেখা যায়। এ কারণেই এ ময়নার নাম হয়েছে ‘পাহাড়ি ময়না’। এর ইংরেজি নাম কমন হিল ময়না (Common hill mynah)। পাখিটির সায়েন্টিফিক নাম গ্রাকুলা রেলিজিওসা (Gracula religiosa)।
পাহাড়ি ময়না বাংলাদেশের দুর্লভ আবাসিক পাখি । এ ময়না বেশি দেখা যায় বান্দরবান, সিলেট ও ময়মনসিংহে। বাংলাদেশ ছাড়াও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এদের দেখা যায়।
এলাকাভেদে এদের গায়ের রঙ ও ধরনে কিছুটা পার্থক্য হয়ে থাকে। চকচকে কালোর পাশাপাশি বেগুনি ও সবুজের মিশেল লক্ষ করা যায় এদের শরীরে। ডানা বা পাখার কিছুটা অংশ সাদা। মাথা কালো। মাথার পেছনে খানিকটা হলুদ রঙ এর সৌন্দর্য যেন আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। ফিকে হলদে-কমলার মিশেলে ঠোঁট। ঠোঁটের সামনের অংশ হলুদ। কালচে-বাদামি চোখ। সোনালি-হলুদের মিশেলে পা। পায়ের আঙুলও হলুদ। নখ কালো। হলদেটে সাদা কানের লতি।
পাখিদের বেলায় স্ত্রী-পুরুষের স্বভাব, রূপ ও রঙয়ে বেশ পার্থক্য লক্ষ করা যায়। তবে পাহাড়ি ময়নার স্ত্রী-পুরুষ দেখতে প্রায় একই ধরনের। এ কারণে অনেকে এ পাখির স্ত্রী-পুরুষ বুঝতে সমস্যায় পড়েন। প্রাপ্তবয়ষ্ক পাহাড়ি ময়নার রঙ উজ্জ্বল হলেও ছোটরা কিন্তু অনুজ্জ্বল। পাহাড়ি ময়না চিরসবুজ বনের আবাসিক পাখি। পাহাড়ি বন ছাড়াও চা বাগানের প্রাকৃতিক পরিবেশও বেশি পছন্দ। ওরা বিচরণ করে একাকী কিংবা দলবদ্ধ হয়ে। এদের বেশি দেখা যায় ন্যাড়া বা পাতাবিহীন গাছের মগডালে। খাবারের সন্ধান গাছে গাছেই। তার মানে খুব একটা মাটিতে নামে না। এ কারণে ওরা শিকারিদের ফাঁদে খুব একটা ধরা পড়ে না। প্রধান খাবার পাকা রসালো ফল, ফুলের রেণু, ফড়িং, প্রজাপতি ইত্যাদি। ডাকার সময়ে ইচ্ছে হলেই গলার স্বর পরিবর্তন করে। এ কারণে অনেক সময়ে এদের ডাক শুনে ওরা কী পাখি তা বুঝতে সমস্যা হয়। মধুর সুরে শিসও দেয়। মজার বিষয় হলো, ওরা অন্য পাখির স্বর নকল করে ডাকতে পারে। এ কারণেও কী পাখি ডাকছে তা বুঝতে সমস্যা হয় অনেকের।



