১৬ আগস্ট ২০২২
`

সীতাকুণ্ডের ঘটনাকে ‘হত্যাকাণ্ড’ বলে দাবি ব্যারিস্টার রুমিনের

সীতাকুণ্ডের ঘটনাকে ‘হত্যাকাণ্ড’ বলে দাবি করলেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা - ফাইল ছবি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, এ ঘটনার জন্য ডিপোর মালিকপক্ষের উদাসীনতা ছিল তা স্পষ্ট। তারপরও দুই দিন পার হয়ে গেলো এখনো ডিপোর মালিকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

সোমবার (০৬ জুন) জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দেয়া বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন।

ডিপোর মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়ে
বিরোধীদলীয় এই আইনপ্রণেতা বলেন, সীতাকুণ্ডের ঘটনা কোনো দুর্ঘটনা নয়, এটি হত্যাকাণ্ড। চট্টগ্রামের বিস্ফোরক পরিদফতর বলেছে, ওই ডিপোতে দাহ্য পদার্থ রাখার বিষয়টি তাদের জানানো হয়নি। এ ধরনের পণ্য সংরক্ষণে বিশেষ ধরনের অবকাঠামো দরকার, কিন্তু ওই ডিপোতে সে ধরনের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। অনুমোদন না নিয়ে ডিপোতে কেমিক্যাল রাখা হয়েছিল।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ডিপোর পরিচালক মুজিবুর রহমান চট্টগ্রাম দক্ষিণ আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ, এটাই তার খুঁটির জোর। ক্ষমতাসীন দলের এমন একটি পদে থেকে কোনো নিয়ম-কানুন মানার প্রয়োজনীয়তা সম্ভবত তিনি বোধ করেননি।

রুমিন বলেন, ফায়ার সার্ভিসও বলেছে, ডিপোর মালিকপক্ষের কেউ সেখানে কেমিক্যাল রাখার বিষয়টি তাদের জানায়নি। সেটা তাদের জানা থাকলে অগ্নিনির্বাপণের জন্য ভিন্ন ব্যবস্থা নেয়া যেত। তাতে বিস্ফোরণ হওয়ার আশঙ্কা কমে যেত। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের মৃত্যুর ঘটনা হয়তো এত হতো না। এই জীবনগুলো ঝরে গেছে কনটেইনার ডিপোর মালিকের চরম উদাসীনতায়।

তিনি বলেন, দেশে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করার সংস্কৃতি নেই। তাই তিনি নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ চান না।

ব্যারিস্টার রুমিন বলেন, ২০১০ সালে নিমতলীতে অগ্নিকাণ্ডে মারা যায় ১২৪ জন। সে ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। একটি জিডি হয়েছিল, যার তদন্ত এখনো চলমান। যার ফলে চুড়িহাট্টায় একই ঘটনা। এ দুটি ঘটনার কারণ একটাই, কেমিক্যালের গুদাম। ওই ঘটনার পর সরকার বলেছিল, কেমিক্যাল গুদাম সরিয়ে দেয়া হবে। কিন্তু এখনো পুরান ঢাকা থেকে সেই গুদাম সরানো হয়নি। সেখানে ১৫ হাজার কেমিক্যাল গুদাম ও দোকানের নামে বারুদ রয়েছে। মানুষ বসবাস করছে এর মধ্যে।

তিনি বলেন, আশুলিয়ার তাজরীন ফ্যাশনসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২০১২ সালে মারা যান ১১১ জন পোশাককর্মী। সেই ঘটনার মূল আসামি তাজরীনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন। ওই মামলার ১০ বছর হয়ে গেল, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি। বরং ওই দেলোয়ার হোসেনকে সম্প্রতি ঢাকা মহানর উত্তর আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছে।


আরো সংবাদ


premium cement