৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০

খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের সময় বাড়াতে আবেদন করবে পরিবার

খালেদা জিয়া
খালেদা জিয়া - ছবি : নয়া দিগন্ত

বেগম খালেদা জিয়ার সাজার ছয় মাসের স্থগিতাদেশের সময়সীমা শেষ পর্যায় উপনীত হওয়ায় মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানাবেন তার পরিবার। পরিবারের পক্ষ থেকে এই আবেদন জানানো হবে বলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল সাংবাদিকদের জানান। তিনি বলেন, সাজা স্থগিতের সময় বাড়াতে ম্যাডামের পরিবারের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়া হবে। যেহেতু তারা এর আগে আবেদন করে, সরকারের সাথে কথা বলে সাজা স্থগিত করিয়েছিলেন। এখনো যেহেতু ম্যাডাম সুস্থ হননি, তিনি একেবারেই একই (আগের) অবস্থাতেই আছেন। সুতরাং সাজা স্থগিতের সময়টা বাড়ানো এখন জরুরি প্রয়োজন। ‘সময় মতোই’ পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হবে বলে জানান মির্জা ফখরুল।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে দলের মহাসচিব বলেন, ম্যাডামের চিকিৎসা যেটা চলছিল সেটাই চলছে। হাসপাতালের ডাক্তাররা যে চিকিৎসা দিয়েছিল সেটাকেই ফলোআপ করছেন, এখন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা। এখন যতটুকু সম্ভব তার যে বউ মা (লন্ডনে অবস্থানরত বড় ছেলে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা: জোবায়দা রহমান) আছেন তার সাথে যোগাযোগ করে, তার পরামর্শ নিয়ে ম্যাডামের চিকিৎসা চলছে। 

পরিবারের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার ছোটভাই শামীম ইস্কান্দার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার বোনের শারীরিক অবস্থা জানিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য মুক্তি চেয়ে আবেদন করেন। সেই আবেদন বিবেচনায় নিয়ে গত ২৫ মার্চ সরকার নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়ার সাজা ছয় মাসের স্থগিত করে মুক্তি প্রদান করে। এই স্থগিতাদেশে বলা হয়েছিল যে, খালেদা জিয়া গুলশানের বাসায় থেকে চিকিৎসা নেবেন এবং তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না।

২৫ মার্চ বিএসএমএমইউর কেবিন ব্লক থেকে মুক্ত হওয়ার পর থেকে গুলশানে বাসভবন ‘ফিরোজা’য় খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসার জন্য তার ব্যক্তিগত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটা টিম রয়েছে। প্রতি সপ্তাহে তারা চিকিৎসার বিষয়টি পর্যালোচনা করেন বলে বিএনপি মহাসচিব।
৭৫ বছর বয়েসী খালেদা জিয়া হাতে ও পায়ের হাঁটুতে আর্থারাইটিসের ব্যথা, ডায়াবেটিক, চোখের সমস্যাসহ বার্ধক্যজনিত সমস্যায় আক্রান্ত। তিনি নিজে হাঁটতে পারেন না, অন্যের সহযোগিতায় তাকে চলতে হয়। 

সরকার কর্তৃক গত ২৫ মার্চ থেকে ছয় মাসের স্থগিতাদেশে খালেদা জিয়া তার বাসাতে একান্তে সময় কাটাচ্ছেন। পরিবারের কয়েকজন সদস্য ছাড়া কাউকে বাসায় প্রবেশ করতে দেয়া হয় না। দলের নেতাকর্মীরাও খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ পাননি।

দুই ঈদে অর্থাৎ ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাতে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ সাক্ষাৎ করেন।
খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্য মূলত দুইজন। তারা হলেনÑ বোন সেলিমা ইসলাম ও ভাই শামীম ইস্কান্দার। ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দারের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা সব সময় এবং মরহুম ভাই সাইদ ইস্কান্দারের স্ত্রী নাসরিন ইস্কান্দারও রয়েছেন যারা খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করেন মাঝে মধ্যে।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের সাজায় কারাবন্দিত্বে জীবন শুরু করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা ছাড়াও আরো ৩৪টি মামলা রয়েছে, যার বেশির ভাগ ১/১১ এর সরকারের আমলে দায়ের করা হয়েছিল।


আরো সংবাদ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয়ের (১২৯৪২)ড. কামাল ও আসিফ নজরুল ঢাবি এলাকায় অবা‌ঞ্ছিত : সন‌জিত (১১৭২৬)‘সনজিতকে ক্যাম্পাসে দেখতে চায় না ঢাবি শিক্ষার্থীরা’ (১০৩২০)এমসি কলেজে গণধর্ষণ : সাইফুরের যত অপকর্ম (৯০২০)আজারবাইজান ৬টি গ্রাম আর্মেনিয়ার দখল মুক্ত করেছে (৮৩৪১)নতুন বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সামনে আনলো ইরান (৫৭১১)যে কারণে এই শীতেই ভারত-চীন মারাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা রয়েছে (৫৬৫০)অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের জানাজা অনুষ্ঠিত (৫২২৯)আজারবাইজান-আর্মেনিয়ার মধ্যে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯ (৫১৬৭)ছাত্রলীগের ঢাবি সভাপতি বক্তব্য স্পষ্টত সন্ত্রাসবাদের বহিঃপ্রকাশ (৫১৫০)