দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা এবং বাংলাদেশের ভাবাদর্শের সঙ্ঘাত

বাংলাদেশ দ্বিতীয়বার স্বাধীন হয়েছে আর কখনোই অধীন হবে না। যেকোনো অশুভ শক্তি দূরের কিংবা কাছের, তাকে পর্যুদস্ত করার শক্তি, সাহস ও দেশপ্রেম বাংলাদেশের মানুষের রয়েছে। দ্বি-দলীয় ব্যবস্থায় যে পরাজিত শক্তি ছিল শক্তি মদমত্ত, আজ তারা বিতাড়িত। নতুন নামে, নতুন ধামে, নতুন কলাকৌশলে তা যতই শাণিত হোক, জনতার সমর্থনে-জনতার উচ্চারণে এবং জনতার রক্তের বিনিময়ে তা অবশ্যই হবে পরিত্যাজ্য ও পরাভূত। যদি তুমি ভয় পাও তবে তুমি শেষ, যদি তুমি রুখে দাঁড়াও তবে তুমি বাংলাদেশ

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলের ওপরই রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ নির্ভর করে। আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বে রাজনৈতিক দলের আধিক্য লক্ষ করা যায়। রাজনৈতিক দল মূলত জনস্বার্থ ও রাষ্ট্রের সম্পদ সুবিধা বিতরণ করে। উন্নত রাষ্ট্রগুলোতে রাজনীতিবিদরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই রাষ্ট্রের সম্পদ ও সুবিধা ভোগ করেন না। তাদের নিজ নিজ আয় উপার্জন আছে। আর আমাদের দেশগুলোতে যেহেতু সম্পদের অভাব প্রকট, তাই রাজনীতিবিদদের লোভও প্রবল। বাংলাদেশে এই মুহূর্তে শতাধিক রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব রয়েছে। অনেকগুলোই ‘আই ডিক্লেয়ার পার্টি’ পদের। অর্থাৎ এক ব্যক্তি, এক দল, একই খাই খাই রব।

তৃতীয় বিশ্বের যেসব দেশে গণতন্ত্র খানিকটা প্রাতিষ্ঠানিকতা অর্জন করেছে, সেসব দেশে বিকশিত হচ্ছে একক প্রাধান্যশীল রাজনৈতিক দলব্যবস্থা (One Dominant Party System)। একেকটি রাজনৈতিক দল তাদের জনপ্রিয়তার জোরে আরো আরো ছোটখাটো দল নিয়ে আঁতাত করে দীর্ঘকাল ক্ষমতায় থাকছে। এ ক্ষেত্রে জাপানের লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি-এলডিপি এবং মালয়েশিয়ার মাহাথির মোহাম্মদের নেতৃত্বাধীন বারিসান ন্যাশনাল এবং পাকাতান হারাপান জোটের নাম করা যেতে পারে। সিঙ্গাপুরে লিকুয়ান ইউ দীর্ঘকাল ক্ষমতায় ছিলেন। সবাইকে নিয়ে গণতান্ত্রিক পন্থায় দেশ চালাতে চেয়েছেন তিনি। অপর দিকে, কিছু কিছু দেশে দ্বৈত রাজনৈতিক দলব্যবস্থা (Bi-Party Political System) বিকশিত হয়। ভারতে প্রাথমিকভাবে একক প্রাধান্যশীল দলীয় ব্যবস্থা বিকশিত হলেও বর্তমান সময়ে কংগ্রেস বনাম বিজেপির দ্বৈত শক্ত অবস্থান লক্ষ করা যায়। পাকিস্তানে জন্ম থেকে আমলাতন্ত্র ও সেনাতন্ত্রের কারণে রাজনৈতিক দলব্যবস্থা বিকশিত না হলেও এখন মুসলিম লিগ বনাম পিপিপি অথবা পিটিআই দ্বৈত জোট হিসেবে ক্রিয়াশীল রয়েছে। বাংলাদেশে প্রাথমিক অবস্থায় আওয়ামী লীগ একক প্রাধান্যশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও গণতন্ত্রের প্রতি এর অনাস্থার কারণে বাকশাল বা একদলীয় রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রয়াস লক্ষ করা যায়। রাজনৈতিক ব্যর্থতার কারণে সেনাবাহিনী ক্ষমতায় আসে এবং প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় দেশের শাসনব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠিত থাকে। নব্বইয়ের গণ-আন্দোলনের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার অধীনে দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা বিকাশের প্রবণতা প্রতিষ্ঠিত হয়।

দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা সবসময় সর্বত্রই যে সফলতা অর্জন করে এমন নয়। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এস ই ফিনের দ্বি-দলীয় ব্যবস্থাকে বলেছেন Adversary Politics। এর বাংলা অর্থ হলো প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাজনীতি বা বিরোধিতার রাজনীতি। এটি এমন একটি রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো একে- অপরের বিপরীতে অবস্থান নেয় এবং প্রতিটি নীতির ক্ষেত্রে বিরোধিতামূলক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে। এর বৈশিষ্ট্যগুলো এ রকম : ১. দ্বি-দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা সাধারণত দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ থাকে। ২. নিরবচ্ছিন্ন বিরোধিতা একটি দল যে নীতি গ্রহণ করে, বিরোধী দল সেটির বিরোধিতা করে, এমনকি যদি সেটি জনগণের জন্য ভালোও হয়। ৩. নীতিগত অস্থিরতা-ক্ষমতার পরিবর্তনের সাথে নীতিগুলো বদলে যায়, কারণ নতুন সরকার পুরনো নীতিগুলোর বিরোধিতা করে। ৪. সঙ্ঘাতময় পরিবেশ-রাজনৈতিক আলোচনার পরিবর্তে পারস্পরিক দোষারোপ বেশি দেখা যায়।

এস ই ফিনের ব্রিটেনের প্রতিষ্ঠিত দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা : লেবার পার্টি বনাম কনজারভেটিভ পার্টির মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে নেতিবাচকভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। আমেরিকায় এই দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা ডেমোক্র্যাট বনাম রিপাবলিক্যান পার্টির মধ্যে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিতা ও চির প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করে আসছে। সেখানেও সীমাবদ্ধতা ও গতানুগতিকতা লক্ষ করা যায়। বাংলাদেশে অনুরূপ ব্যবস্থার উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি বনাম আওয়ামী লীগের উদাহরণ দেয়া যায়।

১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতাসীন হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি জোট আবার ক্ষমতায় ফিরে আসে। স্বাভাবিকভাবে এ ব্যবস্থা চলমান থাকলে চক্রাকারে এই দুটো পার্টি বা জোট ক্ষমতায় আসত। তাতে পশ্চিমা ধাচের দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা স্থায়িত্ব অর্জনের সম্ভাবনা ছিল। দ্বি-দলীয় শাসনব্যবস্থার সৌন্দর্য এই যে, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠী ভবিষ্যতে জবাবদিহির আশঙ্কায় দুর্নীতি ও লুণ্ঠনে ভয় পায়। রাজনৈতিক বিভেদ ও ব্যক্তিরাজনীতির প্রাধান্য হ্র্রাস পায়। দু’টি দলই সেবা ও উন্নয়নের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকে। ফলে জনসাধারণের আস্থা ও বিশ্বাস বৃদ্ধি পায়। ব্রিটেন বা আমেরিকার আদলে বিকাশমান দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা আওয়ামী লীগ চুরমার করে দেয়। প্রথমত তারা নির্বাচনব্যবস্থার বিশ্বস্ত নিয়ামক তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপ করে নিজ দলের অবৈধ অবস্থান দীর্ঘায়িত করে। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪-এর নির্বাচনগুলো ছিল বোগাস এবং নির্বাচনের নামে তামাশা। যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত না করা হতো তাহলে যেভাবে দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা বিকশিত হচ্ছিল তা বাংলাদেশে একটি চমৎকার ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে পারত; কিন্তু শেখ হাসিনার নিকৃষ্ট ক্ষমতালিপ্সা সেই সম্ভাবনাকে তিরোহিত করে।

তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এই যে, শেখ হাসিনা দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা নির্বাচন পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাসনে দিলেও তার বিপরীতে এত জুলুম ও অন্যায় সত্ত্বেও বিরোধী দলের অবস্থান ও শক্তি মূলত এতটুকু ক্ষুণ্ন হয়নি। প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিএনপির জনপ্রিয়তায় এত বছরে ভাটা আসেনি। প্রমাণ হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে বা কেন্দ্রীয় পর্যায়ে অরাজনৈতিক নির্বাচনে বিএনপির প্রাধান্য সবসময়ই আওয়ামী লীগের ভীতির কারণ ছিল। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে পাঁচ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পাঁচটিতেই বিএনপি জয় লাভ করে। জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি যে জয় লাভ করবে তা জনমনে স্থায়ী অবস্থান সৃষ্টি করে। সম্ভাবনাটি এতই প্রবল ছিল যে, সরকারের নেতা, পাতিনেতারা আখের গোছাতে চেষ্টা করে। কেউ কেউ আগাম বিদেশে পালিয়ে যায়। সেই নির্বাচন কেন বিএনপি বর্জন করে সে আরেক গল্প। বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কোনো এক সভায় বুদ্ধিজীবীদের মতামত গ্রহণ করেন। তারা সবাই নির্বাচন বর্জনের পক্ষে মত দেন। একমাত্র মরহুম রাষ্ট্রবিজ্ঞানী তালুকদার মনিরুজ্জামান বলেন, নির্বাচনের জোয়ারে শেখ হাসিনা ভেসে যাবে। এখন মনে হয় সেটিই হয়তো সত্য ছিল। সে নির্বাচনে যদি বিএনপি জয় লাভ করত তাহলে দ্বি-দলীয় ব্যবস্থার পক্ষে আরেকটি পয়েন্ট যোগ হতো। বাংলাদেশের মানুষের দুর্ভাগ্য এই যে, বিকারগ্রস্ত ব্যক্তিতন্ত্র ও প্রতিবেশীর সরাসরি হস্তক্ষেপে নির্বাচনগুলো স্বৈরতন্ত্রের প্রতিনিধিত্ব করেছে, গণতন্ত্রের নয়।

শাসনক্ষমতায় গায়ের জোরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতার নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ করলেও সাধারণভাবে, স্বাভাবিকভাবে বিএনপি জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিল। আওয়ামী লীগ তথাকথিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে দেশটিকে বিভক্ত করেছিল। রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তারা বিভক্ত করেছে। কিন্তু জনগণের হৃদয় তো বিভক্ত করতে পারেনি। নিউটনের সূত্র মোতাবেক-Every Action has its Equal and Opposite reaction.. শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ যে, সে এই বিভেদের মাধ্যমে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে এক প্রান্তে ঠেলে দিয়েছে। প্রতিক্রিয়া হিসেবে তারা আরো সংগঠিত হয়েছে। প্রতিবাদী হয়েছে। এরা বাংলাদেশের গরিষ্ঠ ধর্মমতের প্রতিনিধিত্ব করে। বাংলাদেশের ভূগোল, ইতিহাস, নৃ-তত্ত্ব ও মুক্তিযুদ্ধ যে পরিচয় তাদেরকে দিয়েছে সেটিকেই আঁকড়ে ধরে ছিল সাধারণ মানুষ। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এগুলোকে মিলিয়ে বাংলাদেশের মানুষের জন্য যে সাধারণ পরিচয় নির্ণয় করেছিলেন, সেটির নাম বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ। শত নিপীড়ন-নির্যাতন সত্ত্বেও বাংলাদেশের মানুষ তাদের আদি অকৃত্রিম ও আসল পরিচয় ভুলে যায়নি। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর কর্নেল তাহের সৈনিকদের নিজের পছন্দের বিপ্লবের স্লোগান শিখিয়েছিলেন। বিস্ময়ের ব্যাপার রাজপথে বেরিয়ে ওই সব সৈনিক আল্লাহর নামে স্লোগান দিয়েছে, যা কেউ তাদের শিখিয়ে দেয়নি। এটি হৃদয়ের উচ্চারণ। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে একই ঘটনা ঘটেছে। এত বছর ধরে শেখানো বন্দনা সত্ত্বেও ওই একই ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হয়েছে জনতার মধ্যে। কেউ তাকে তা শিখিয়ে দেয়নি, এটি ছিল আবারো হৃদয়প্রসূত, সতত স্বতঃস্ফূর্ত। বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ কখনো আওয়ামী ধর্মনিরপেক্ষতাকে মেনে নেয়নি। তারা মেনে নিয়েছে আল্লাহর প্রতি গভীর আস্থা ও বিশ্বাসের কথা। শাহাবাগিরা ২০১৩ সালে বাংলাদেশের অস্তিত্বের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র শুরু করে হেফাজতে ইসলামের ঈমানের আন্দোলনে তা ভেসে যায়। যদিও পরবর্তীকালে একদল ওলামায়ে ছু বা সুবিধাবাদী আলেমশ্রেণীর বিভ্রান্তির কারণে তা কওমি জননীতে ‘পর্যবসিত হয়’। এসব কথার দ্বারা আমরা বোঝাতে চেষ্টা করছি এই যে, বাংলাদেশে দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা দৃশ্যমান না থাকলেও অদৃশ্যভাবে ভাবাদর্শের সঙ্ঘাত দীপ্তমান ছিল।

সেই সঙ্ঘাত তখনো ছিল-এখনো আছে। বুদ্ধি বিক্রিকারী বুদ্ধিজীবীরা গত ১৭ বছরে গণতন্ত্রের সংগ্রামকে সমর্থন করেননি; বরং আওয়ামী স্বৈরাচারকে অবৈধ সমর্থন দিয়েছেন, তারা এখন ৩২ নম্বর গুঁড়িয়ে দেয়ায় অশ্রুপাত করছেন। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময়কালে যখন স্বৈরাচার রক্তপাত ঘটাচ্ছিল তখন তারা আহা! উহু! করেননি। ক্রমেই তারা কচ্ছপের মতো একটু একটু করে মাথা বের করছেন। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন হচ্ছে বলে বিবৃতি দিচ্ছেন। অথচ ভারতে নিত্যদিন মুসলমানদের রক্তে যখন মাটি ভিজে যায় তখন তাদের করুণার উদ্বেগ হয় না। দেশে যখন নারী সম্ভ্রমের অসভ্যতা ঘটে তখন তার সুযোগে নারীর সম্মান পুনরুদ্ধারের নামে স্বৈরাচার পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন দেখেন। সেই মিছিল থেকে যখন আওয়ামী সোনার ছেলেদের গ্রেফতার করা হয় তখন অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়। বাংলাদেশের পতাকায় যখন আছড়ে পরে শকুন তখন তারা নীরব থাকে। অধিকারের নামে অনধিকার চর্চা করছে তারা। স্বাধীনতার নামে অধীনতার পাঁয়তারা করছে তারা।

গণতন্ত্র মানে স্বাধীনতা। স্বাধীনতা অবশ্যই অবাধ স্বাধীনতা নয়। রাষ্ট্র নাগরিকদের জীবন রক্ষার অধিকার দেয়, জীবন হরণের নয়। রাষ্ট্র মানুষের সম্মানের স্বাধীনতা দেয়। রাষ্ট্র মানুষের সম্পত্তির নিশ্চয়তা দেয়, দখলের নয়। যারা বিগত ১৭ বছর ধরে মানুষের জীবন নিয়েছে, সম্মান কেড়ে নিয়েছে এবং সম্পত্তি দখল করেছে, অধিকারের নামে তাদের স্বাধিকার দেয়া যায় না। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে অপশক্তি পর্যুদস্ত হয়েছে, কবরস্থ করা হয়েছে, যেকোনো শক্তি থেকে তার সমর্থনে আপ্তবাক্য উচ্চারিত হয় তা অবশ্যই প্রতিরোধযোগ্য। বাংলাদেশ দ্বিতীয়বার স্বাধীন হয়েছে আর কখনোই অধীন হবে না। যেকোনো অশুভ শক্তি দূরের কিংবা কাছের, তাকে পর্যুদস্ত করার শক্তি, সাহস ও দেশপ্রেম বাংলাদেশের মানুষের রয়েছে। দ্বি-দলীয় ব্যবস্থায় যে পরাজিত শক্তি ছিল শক্তি মদমত্ত, আজ তারা বিতাড়িত। নতুন নামে, নতুন ধামে, নতুন কলাকৌশলে তা যতই শাণিত হোক, জনতার সমর্থনে-জনতার উচ্চারণে এবং জনতার রক্তের বিনিময়ে তা অবশ্যই হবে পরিত্যাজ্য ও পরাভূত। যদি তুমি ভয় পাও তবে তুমি শেষ, যদি তুমি রুখে দাঁড়াও তবে তুমি বাংলাদেশ।

লেখক : অধ্যাপক (অব:), সরকার ও রাজনীতি বিভাগ,

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]