১৪ আগস্ট ২০২০

কেবল ভর্তিকৃত রোগীদের করোনা পরীক্ষা করছে ঢাকা মেডিক্যাল, সেবা নিয়ে অভিযোগ

24tkt

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের পরীক্ষা করা হচ্ছে কেবল হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের। যারা করোনা উপসর্গ নিয়ে ঢামেক হাসপাতালে আসেন, তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে পরার্মশ দেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। আর এটাকে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষার চাপ কমাতে ডাক্তারদের অভিনব কৌশল বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী রোগীরা।

করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে নমুনা পরীক্ষা ও চিকিৎসা সেবা নিতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আসা রোগীরা অভিযোগ করছেন- হাসপাতালে এসে ডাক্তার দেখানোর জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাদের। করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর জন্য হাসপাতালে ভর্তি হওয়ারও এক কঠিন সমস্যা।

করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর থেকে ঢামেক হাসপাতালে আসা দেলোয়ার হোসেন নামে এক রোগী এই প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ করেন, আমি সকালে এই হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছি কিনা জানতে নমুনা পরীক্ষা করার জন্য আসি। কিন্তু আমি হাসপাতালে এসে ভিন্নরকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হই। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে একপর্যায়ে চিকিৎসকের দেখা পাই। পরে চিকিৎসক আমাকে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দেন এবং করোনার নমুনা পরীক্ষা করার জন্য এক সপ্তাহে পরে আবারো হাসপাতালে আসতে বলেন।

দেলোয়ার হোসেন আরো বলেন, আজ কেন করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা হবে না; এমন প্রশ্নের উত্তরে চিকিৎসক বলেন- আগে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে, তারপর করোনা পরীক্ষা করা হবে। এখন রোগীর অনেক চাপ রয়েছে উল্লেখ করে তাকে সামনের সপ্তাহে আবারো হাসপাতালে আসার পরামর্শ দেন ওই চিকিৎসক।

তবে এই অভিযোগের ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করছে যে, যে সকল রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা দরকার তাদেরই ভর্তি করা হচ্ছে। আর ভর্তি হওয়া রোগীদের করোনাভাইরাস পরীক্ষাও করা হচ্ছে।

আজ বুধবার এ ব্যাপারে ঢামেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, ঢামেক হাসপাতালে শিশু করোনা ইউনিটসহ ৭৭০ বেডের তিনটি করোনা ইউনিট চালু করা হয়েছে। প্রতিদিন ভাইরোলজি বিভাগের লোকজন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গিয়ে ভর্তিকতৃ রোগীদের নিকট থেকে করোনা পরীক্ষার জন্য স্যাম্পল সংগ্রহ করেন। প্রতিদিন অনেক রোগীর স্যাম্পল সংগ্রহ করা হয়ে থাকে।

তিনি আরো বলেন, প্রথম দিকে যখন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কম ছিল, তখন যারা উপসর্গ নিয়ে আসতেন, তাদের স্যাম্পল সংগ্রহ করা হতো। কিন্তু এখন সেটা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কারণ, অনেকের কোনো উপসর্গ নেই, শুধু শুধু ভয়ের কারণে অনেক মানুষ হাসপাতালে এসে করোনা পরীক্ষা করিয়েছেন। আগত করোনা ভাইরাস পরীক্ষার্থী রোগীদের জন্য হাসপাতালে প্রচণ্ড ভিড় লেগেই থাকতো। এ কারণে সেই নিয়ম বাতিল করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আগের নিয়ম বাতিল করে আমরা ৭৭০ বেডের তিনটি করোনা ইউনিট করেছি। সেখানেই ভর্তি করে রোগীদের করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কারোনা পরীক্ষা করা হয়। এছাড়া তাদের ফ্যামিলি সদস্যদেরকে এই আওতায় আনা হয়েছে। কারণ হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের অধিকার বেশি। তারা করোনা রোগীদের চিকিৎসা ও সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। ঢামেকে ভাইরোলজি বিভাগেই হাসপাতালের আগত প্রতিদিন শত শত রোগীসহ ডাক্তার, নার্স ও কর্মচারীদের করোনা পরীক্ষা করা হয়। এ কারণে ভাইরোলজি বিভাগে পরীক্ষার চাপ থাকে অনেক। তাই ভর্তিকৃত রোগীরা ছাড়া অন্য কেউ হাসপাতালে এসেই করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করাতে পারবে না।

তিনি বলেন, গত ২ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত ঢামেক হাসপাতালে ৯৫ জন কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া করোনা উপসর্গ নিয়ে আরও অনেকেই মারা গেছেন। মৃত্যুর পাশাপাশি রোগীর সুস্থতার সংখ্যাও কম নয়। প্রতিদিন অনেক রোগী ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। আবার করোনা উপসর্গ অনেকে প্রতিদিনই ভর্তি হচ্ছেন। প্রতিদিনই জরুরি বিভাগ এবং বর্হিবিভাগে রোগীরা আসছেন, কর্তব্যরত চিকিৎসকরা যাদের মনে করছেন তাদের ভর্তি নিচ্ছেন। আর যাদের ভর্তি হওয়া দরকার নেই, তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলছেন।


আরো সংবাদ

ফেনীতে জয়নাল হাজারীর বাড়ীতে গুলি-ভাংচুর যশোরে তিন কিশোরকে হত্যা : কী ঘটেছিল কিশোর অপরাধী সংশোধন কেন্দ্রের ভেতরে কটিয়াদীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল আলম করোনা মুক্ত কোভিড-১৯: সেপ্টেম্বরে অ্যাভিজেনের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা শেষ করবে জাপান নবীগঞ্জে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত বগুড়ায় আরো ৭২ জন করোনায় আক্রান্ত, এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু প্রথম ভাষণেই ট্রাম্পকে তীব্র আক্রমণ কমলার বঙ্গবন্ধুর ছাত্রত্ব পুনরুদ্ধার উপলক্ষে ডাকটিকিট অবমুক্ত করোনা ও বন্যার কারণে মাস্টার্স প্রফেশনাল কোর্সে ভর্তির আবেদনের সময় বৃদ্ধি রুহিয়া থানা ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটি গঠন রেমিট্যান্স প্রবাহ নিয়ে আত্মতৃপ্তির সুযোগ নেই, বলছেন অর্থনীতিবিদরা

সকল