১০ আগস্ট ২০২০

করোনার ভ্যাকসিন তৈরীতে আর কত সময় লাগবে

করোনার ভ্যাকসিন তৈরীতে আর কত সময় লাগবে - ছবি : সংগৃহীত
24tkt

দিনকে দিন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে করোনাভাইরাস। এরইমধ্যে এই ভাইরাসের সংক্রমণকে মহামারি ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এই অবস্থায় সকলের দৃষ্টি ভ্যাকসিনের দিকে, কারণ একটি ভ্যাকসিনই পারে এই মহামারি থেকে মানুষকে মুক্ত করতে।

প্রায় ৩৫টি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান এই ধরণের টিকা তৈরির জন্য গবেষণা শুরু করছে। যার মধ্যে চারটি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে পশুপাখির মাধ্যমে প্রাথমিক পরীক্ষাও শেষ করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে আছে, বোস্টন ভিত্তিক বায়োটেক ফার্ম মোদারনা। এই প্রতিষ্ঠানটি খুব দ্রুত মানুষের শরীরে পরীক্ষা করবে।

জানুয়ারির প্রথম দিকে চীন জানিয়েছিল, দ্রুত ছড়িয়ে পরা কোভিড-১৯’র সাথে সারস কোভিড-২’র জিনগত উপাদানের প্রাথমিক মিল থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। করোনাভাইরাস কীভাবে মানব শরীরে প্রবেশ করে এবং মানুষকে অসুস্থ করে তা নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের প্রতিষ্ঠানকে উন্মুক্ত গবেষণার সুযোগ দিয়ে চীন এই তথ্য দিয়ে ছিলো।

তবে এখানে চিন্তার বড় কারণ হলো, কেউই তখন এই ভাইরাসটিকে নিয়ে এমন ভবিষ্যতদ্বাণী করতে পারেনি যে, এটা সারা পৃথিবীকে হুমকির মধ্যে ফেলবে।

সাধারণত ফ্লু সবচেয়ে বড় মহামারি হিসেবে দেখা যায়। অসলো-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপারেশন ইনোভেশনসের (সিপিআই) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিচার্ড হ্যাচেট বলেন, করোনভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরি সবচেয়ে বেশি নির্ভর করে বিনিয়োগের উপর, যেটি কাজের গতি অনেক বাড়িয়ে তোলে। অসলোর এই প্রতিষ্ঠানটি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন বিকাশের জন্য অর্থ ও সমন্বয় সাধনের নেতৃত্ব দিচ্ছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে করোনাভাইরাসের আরো দুটি রুপ মহামারি সৃষ্টি করে ছিলো। প্রথমটি, ২০০২-০৪ সালে চীনে সংক্রামিত হওয়া সেভার এ্যাকুট রেসপিরেটরি সিনড্রোম (সারস), দ্বিতীয়টি, মধ্য প্রাচ্যের রেসপিরেটরি সিনড্রোম (মেরস), যা সৌদি আরবে ২০১২ সালে শুরু হয়েছিল। উভয় ক্ষেত্রেই, প্রাদুর্ভাব চলাকালীন ভ্যাকসিনগুলোর কাজ শুরু ও শেষ করা হয়েছিল। মেরিল্যান্ড-ভিত্তিক নোভাভ্যাক্স নামে একটি সংস্থা এখন সারস-সিওভি -২ এর জন্য এই ভ্যাকসিনগুলি পুনরায় প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে যে এই বসন্তের মধ্যেই মানব পরীক্ষায় প্রবেশের জন্য বেশ কয়েকজন প্রার্থী প্রস্তুত রয়েছেন।

সারস-কোভিড-২ এর জিনগত উপাদানগুলির সাথে শতকরা ৮০ থেকে ৯০ ভাগ সামজস্য রয়েছে নতুন ভাইরাসটির। উভয়ই একটি গোলাকার প্রোটিন ক্যাপসুলের ভিতরে রাইবোনুক্লিক অ্যাসিডের (আরএনএ) একটি স্ট্রিপ নিয়ে গঠিত যা স্পাইকগুলিতে আবৃত। স্পাইকগুলি মানুষের ফুসফুসের রেখার কোষগুলির পৃষ্ঠের অভ্যন্তরে রিসেপটরগুলো বন্ধ করে দেয়। উভয় ক্ষেত্রে একই ধরণের রিসেপটর, ভাইরাসটি কোষে প্রবেশ করতে দেয়। একবার ভিতরে ঢুকে যাওয়ার পরে, এটি কোষের পুনরুত্পাদনকারী যন্ত্রটিকে নিজের মতো আরো অনুলিপি তৈরির জন্য হাইজ্যাক করে। কোষটি মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত এভাবে প্রক্রিয়াটি চলতে থাকে।

সমস্ত ভ্যাকসিন একই বেসিক নীতি অনুসারে কাজ করে। তারা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কিছু অংশ বা সমস্ত রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাতে সাধারণত ইনজেকশন আকারে ও একটি লোডোজ ব্যবহার করে সিস্টেমকে প্যাথোজেনের অ্যান্টিবডি তৈরি করে। অ্যান্টিবডিগুলি হলো এক প্রকারের প্রতিরোধ ক্ষমতা। সূত্র : গার্ডিয়ান


আরো সংবাদ