১৮ জুলাই ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১, ১১ মহররম ১৪৪৬
`

মানবহিতৈষী প্রতিষ্ঠান সিআরপি

সনদ হাতে প্রতিবন্ধীরা : নয়া দিগন্ত -


পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্র বা সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্য প্যারালাইজড (সিআরপি) একটি পুনর্বাসন কেন্দ্র। এর মূল কাজ শারীরিকভাবে অক্ষমদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা। ভেলরি এ টেইলর ১১ ডিসেম্বর ১৯৭৯ইং সালে ফিজিওথেরাপিস্ট প্রতিষ্ঠা করেন। যা সাভার পৌর এলাকার চাপাইনে ১১ একর আয়তনের প্রধান শাখাসহ মোট ১৩টি শাখা রয়েছে মানবহিতৈষী প্রতিষ্ঠানটির। এসব শাখায় চিকিৎসা, ফিজিওথেরাপি, নার্সিং ইত্যাদি শিক্ষার জন্য সিআরপিতে একটি ইনস্টিটিউট ও একটি কলেজ রয়েছে। শুরুতে প্রতিষ্ঠানটি রাজধানী শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল হলেও পরবর্তীতে সাভারকে স্থায়ীভাবে বেছে নিয়ে এর কার্যক্রম চলছে। বর্তমানে এর সদরদফতর সাভারের চাপাইন। সড়ক দুর্ঘটনাসহ যারাই গুরুতর বিভিন্ন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন তাদের চিকিৎসা সেবাসহ পুনর্বাসন করে আসছেন সিআরপি তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে। যারা জীবনে দুর্ঘটনায় কবলিত হয়ে জীবনের আশা ছেড়ে দিয়েছেন তারা আজ চিকৎসাসেবা নিয়ে সাভারের সিআরপিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একজন সুস্থ ও শারীরিক সবল ব্যক্তির চেয়ে কোনো অংশে কমতি নেই এই শারীরিক প্রতিবন্ধী নারী ও পুরুষরা। এরই ধারাবাহিকতায় নহর ইনিশিয়েটিভস ২০২০ সাল থেকে অটিজম ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কল্যাণে নানা ধরনের জনসেবামূলক কাজ পরিচালনা করে আসছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির একটা ফেলোশিপ প্রোগ্রাম চালু রয়েছে। ফেলোশিপ প্রোগ্রামের আওতায় ২০০ প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ নিচ্ছে।

ফেলোশিপ প্রোগ্রামের আওতায় প্রশিক্ষণ নেয়া ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে নহর ইনিশিয়েটিভস। পাশাপাশি রেডিও, টেলিভিশন ও সোস্যাল মিডিয়ায় নহর ইনিশিয়েটিভ নিয়মিত বিভিন্ন রকেমর অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করে যাচ্ছে বলে জানান নহর ইনিশিয়েটিভের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ফরিদ খান। শনিবার দিনব্যাপী সাভারের চাপাইন সিআরপির মূল ক্যাম্পাসে শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন নহর ইনিশিয়েটিভসের ফেলোশিপ প্রোগ্রামের প্রথম ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীদের সমাবর্তন সম্পন্ন হয়েছে। একই সাথে ওরিয়েন্টশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে বরণ করে নেয়া হয়েছে ফেলোশিপ প্রোগ্রামের নতুন প্রশিক্ষণার্থীদের। সাভার সিআরপি সেন্টারের অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্য প্যারালাইজডের (সিআরপি) প্রতিষ্ঠাতা ও নহর ইনিশিয়েটিভের চেয়ারম্যান ভ্যালেরি এ টেইলর। ভ্যালেরি তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয়ের পর বর্তমানের বড় বিজয় হচ্ছে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী করার বিজয়। যে বিজয়ের মাধ্যমে শুধু বাংলাদেশেই না বিশ্বের আরো ৯টি দেশের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা হয়েছে। তিনি ফেলোশিপ সম্পন্ন করা ব্যক্তিদের কর্মজীবনের জন্য শুভকামনা ব্যক্ত করেন। প্রতিষ্ঠানটির ভাইস চেয়ারম্যান ও রাজনীতিবিদ ববি হাজ্জাজ বলেন, আজকের এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয় প্রতিবন্ধকতা কোনো বাধা নয়। একটু ভিন্নভাবে দেখলে তারা এগিয়ে যাবে, বিশ্ব জয় করবে। তিনি আরো বলেন আমি আশা করি নহর ইনিশিয়েটিভস সর্বদা সবাইকে পাশে পাবে। এ সময় তিনি আরো বলেন সবাইকে এ ধরনের কাজে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে দেশের জনশক্তি বৃদ্ধি করে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দাঁড় করাতে পারবে।

আরো উপস্থিত ছিলেন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব জাবেদ সুলতান পিয়াস। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া নহর ইনিশিয়েটিভ প্রসংশার দাবিবার। আশা করি এ ধারাবাহিকতা নহর ইনিশিয়েটিভ সবসময় ধরে রাখবে। এ সময় ইনিশিয়েটিভসের পরিচালক এইচ এম আতিফ ওয়াফিক বলেন, আমরা সবার কাছে সাহায্য চাই। সর্বপ্রথম আমাদের প্রয়োজন সবার দোয়া। সবার দোয়ার মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশ নয় শুধু বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্পেশাল এসব মানুষদের পাশে দাঁড়াতে পারব। ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্সের ভাইস চেয়ারম্যান আরিফুল হক সোহান বলেন, নহর ইনিশিয়েটিভসের পাশে ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্স সবসময় পাশে থাকবে। প্রতি বছর ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্সে নহর ইনিশিয়েটিভস থেকে দুইজন শিক্ষার্থী ফুল ফ্রি স্কলাশিপে পড়াশোনা করার সুযোগ পাবে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা এবং নির্বাহী পরিচালক ফরিদ খান বলেন, আজকের এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা এই বিষয়ে অবহিত হয়েছি এবং প্রমাণ করতে পেরেছি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সুযোগ দিলে বিশ্বের বুকে নিজেকে দৃষ্টান্ত হিসেবে দাঁড় করাতে পারে। আমি আপনাদের কাছে সবিনয় নিবেদন করি, আমাদেরকে সুযোগ দিন, আমাদেরকে সামনে এগিয়ে যেতে দিন। আমরা প্রতিষ্ঠা করব এমন এক সমাজ যেখানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা তাদের নেতৃত্বের গুণাবলি এবং তাদের কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে প্রশংসিত হবে, সমাদৃত হবে এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন নহর ফেলোশিপ ডাইরেক্টর মেজর (অব:) মো: জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।

 


আরো সংবাদ



premium cement