মিয়ানমারে শুক্রবারের ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়েছে। এদিকে ত্রাণ কার্যক্রম সহজতর করার লক্ষ্যে মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন সেনাবাহিনী দেশটির গৃহযুদ্ধে সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে।
বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) দেশটির ক্ষমতাসীন জান্তা সরকার এই কথা জানিয়েছে।
জান্তা সরকারের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে ভূমিকম্পের পাঁচদিন পর তিন হাজার ৮৫ জন নিহত, ৩৪১ জন নিখোঁজ ও চার হাজার ৭১৫ জনের আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন।
মুখপাত্র ঝাউ মিন তুন আরো বলেছেন, ১৭টি দেশ থেকে উদ্ধারকমী, সহায়তাকর্মী এবং এই পর্যন্ত এক হাজার টন ত্রাণ সামগ্রী এসেছে।
এদিকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এমআরটিভিতে সামরিক বাহিনীর হাইকমান্ডের সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণাটি সম্প্রচার হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি ২২ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে।
ফরাসি বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, সামরিক শাসনবিরোধী সশস্ত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর একতরফা অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর জান্তার পক্ষ থেকে এই ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওই গোষ্ঠীগুলোকে রাষ্ট্রের ওপর আক্রমণ করা বা পুনরায় সংগঠিত হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে, অন্যথায় সেনাবাহিনী ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ নেবে।
এদিকে, বুধবার সকালের দিকে উদ্ধারকারীরা ভূমিকম্পের পাঁচদিন পর মিয়ানমারের রাজধানীতে একটি হোটেলের ধ্বংসাবশেষ থেকে দুইজনকে এবং অন্য একটি শহরের একটি গেস্টহাউস থেকে তৃতীয় একজনকে জীবিত উদ্ধার করেছে। যদিও লাশের সংখ্যাই বেশি।
এমআরটিভি জানিয়েছে, শুক্রবার দুপুরে মিয়ানমারে আঘাত হানা ভূমিকম্পে বহু ভবন, সেতু ও রাস্তাঘাট ধসে গেছে। এতে বুধবার পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিন হাজার ৮৫ জনে দাঁড়িয়েছে, আহত হয়েছেন সাড়ে চার হাজারের বেশি মানুষ।
তবে স্থানীয় প্রতিবেদনে হতাহতের সংখ্যা আরো বেশি বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
সূত্র : এএফপি/বাসস



