ইরান-ইসরাইল যুদ্ধবিরতি সম্পর্কে এখন পর্যন্ত যা জানা গেছে

ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার জন্য ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে ফোনে কথা বলেন। অপরদিকে, কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল থানি ইরানকে চুক্তিতে রাজি করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংগৃহীত

ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বেশ কয়েকটি পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় গত ১৩ জুন ইসরাইলি বাহিনী হামলা চালানোর মধ্য দিয়ে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। টানা ১২ দিনের প্রাণঘাতী সংঘাতের পর ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে আজ মঙ্গলবার থেকে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতির সুনির্দিষ্ট বিবরণ এবং সময় নিয়ে এখনো বিভ্রান্তি রয়ে গেছে।

এর আগে, সোমবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিকমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে জানান, ইরান ও ইসরাইল সম্পূর্ণ ও পুরোপুরি যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পর্যায়ক্রমে কার্যকর হবে।

সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে ট্রাম্প লেখেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। আনুষ্ঠানিকভাবে ইরান ১২তম ঘণ্টায় এবং ইসরাইল ২৪তম ঘণ্টায় এ যুদ্ধ শেষ করবে। সবকিছু ঠিকভাবে চললে ১২ দিনের এ যুদ্ধ শেষ হবে, যাকে স্বাগত জানাবে বিশ্ব। যুদ্ধবিরতির সময় উভয়পক্ষ শান্তি বজায় রাখবে ও শ্রদ্ধাশীল থাকবে।

স্থানীয় প্রতিবেদন অনুসারে, পরবর্তী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ইরানের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর দেয়। এতে ইসরাইলে কমপক্ষে তিনজন নিহত হন।

একজন ইরানি কর্মকর্তা বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে জানান, ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, তবে সে সময় ইসরাইলের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেয়া এক পোস্টে বলেন, যুদ্ধবিরতি এখনো হয়নি। তবে ইসরাইল হামলা বন্ধ করলে ইরানও হামলা বন্ধ করবে।

পোস্টে তিনি বলেন, দখলদার ইসরাইল যদি তাদের ‘অবৈধ হামলা বন্ধ করে’ তাহলে ‘ইরানেরও হামলা চালিয়ে নেয়ার আর কোনো ইচ্ছা নেই’। তিনি দখলদারদের ইরানি সময় মঙ্গলবার ভোর ৪টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন।

এদিকে হোয়াইট হাউসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ইরান আর কোনো আক্রমণ না চালালে ইসরাইল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হবে।

চুক্তি কিভাবে হলো?

ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার জন্য ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে ফোনে কথা বলেন। অপরদিকে, কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল থানি ইরানকে চুক্তিতে রাজি করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফও ইরানের সাথে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে যোগাযোগ করেছেন।

ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, ইসরাইল ও ইরান তাদের চলমান সামরিক অভিযান সম্পন্ন করার জন্য কিছুটা সময় পাবে, এরপর ধাপে ধাপে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘সবকিছু প্রত্যাশা মতো চলবে এই ধারণা থেকে আমি ইসরাইল ও ইরান উভয় দেশকে অভিনন্দন জানাতে চাই তারা যে ধৈর্য, সাহস ও বুদ্ধিমত্তা দেখিয়ে ১২ দিনের এই যুদ্ধের ইতি টানছে।’

এর কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনজন ইসরাইলি কর্মকর্তা জানান, ইসরাইল ইরানে তার সামরিক অভিযান দ্রুত শেষ করতে চায় এবং এই বার্তাটি তারা যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে।

সূত্র : এসবিএস নিউজ