২২ অক্টোবর ২০২০, ৭ কার্তিক ১৪২৪, ১ সফর ১৪৩৯

করোনা নিয়ে জাতিসঙ্ঘে পরস্পরকে দোষারোপ

আক্রান্ত বিশ্ব : চীনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ ট্রাম্পের; যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান চীনের; মৃত্যু পৌনে ১০ লাখ ছাড়িয়েছে
-

আক্রান্ত : ৩২,৫০৯,০৪৭ মৃত্যু : ৯,৮৯,২৭৫
দেশ আক্রান্ত মৃত্যু
যুক্তরাষ্ট্র ৭,১৯৫,০০৮ ২,০৭,৭৬৯
ভারত ৫,৮৪৩,৩৪৯ ৯২,৫৮৭
ব্রাজিল ৪,৬৫৯,৯০৯ ১,৩৯,৮৮৩
রাশিয়া ১,১৩৬,০৪৮ ২০,০৫৬
কলম্বিয়া ৭,৯০,৮২৩ ২৪,৯২৪
পেরু ৭,৮৮,৯৩০ ৩১,৯৩৮
মেক্সিকো ৭১৫,৪৫৭ ৭৫,৪৩৯
স্পেন ৭,০৪,২০৯ ৩১,১১৮
আর্জেন্টিনা ৬,৭৮,৭২৬৬ ১৪,৭৬৬
দ. আফ্রিকা ৬,৬৭,০৪৯ ১৬,২৮৩
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মহামারী ইস্যুতে জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সভায় যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার মধ্যে পরস্পরকে দোষারোপ ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে। জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস করোনা মোকাবেলায় নিরাপত্তা পরিষদের দেশগুলোর ব্যর্থতার কথা তুলে ধরার পর এই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। গুতেরেস বলেন, একটি বৈশ্বিক প্রস্তুতি, সহযোগিতা, একতা এবং সংহতির অভাবে করোনা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে এবং বিশ্বজুড়ে প্রায় দশ লাখের কাছাকাছি মৃত্যুর সংখ্যা চলে গিয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের উদ্দেশ্যে গুতেরেস বলেন, মহামারীটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি সুস্পষ্ট পরীক্ষা। আমরা এই পরীক্ষা মূলত ব্যর্থ হয়েছি।
এ দিকে গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বে করোনা ‘প্লেগ’ ছড়িয়ে দেয়ার জন্য চীনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। তার অভিযোগ করোনা নিয়ে চীনের স্বচ্ছতার অভাবেই ভাইরাসটির ভয়াবহভাবে ছড়িয়েছে। যদিও চীন যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
নিরাপত্তা পরিষদের ভার্চুয়াল বৈঠকে মার্কিন দূত কেলি ক্রাফটের এই অভিযোগ পুনরায় তুলে ধরলে তা খারিজ করে চীনা দূত ঝ্যাং জুন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান। ভাষণে চীনা দূত বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত মেডিক্যাল টেকনোলজি ও ব্যবস্থা থাকার পরও কেন যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যু ঘটছে। যদি কাউকে দায়ী করতে হয় তাহলে তা কয়েকজন মার্কিন রাজনীতিককে নিজেদের দায়ী করতে হবে। রাশিয়ার দূত চীনের এই অবস্থানকে সমর্থন জানালে ঝ্যাং জুন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একেবারে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে বিভিন্ন দেশের দূতদের সমালোচনা করেন মার্কিন দূত ক্রাফট। তিনি বলেন, আপনাদের সবার লজ্জা হওয়া উচিত। আজকের বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়ে আমি হতবাক ও মেনে নিতে পারছি না। এই পরিষদ নিয়ে সত্যিই আমি লজ্জিত। এই পরিষদের সদস্যরা চলমান সঙ্কট নিয়ে কথা বলার চেয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছেন। কী একটা অবস্থা!
কূটনীতিকরা জানান, মার্কিন দূতের কথা বলার ভঙ্গিতে তারা ধাঁধায় পড়ে যান। চীনা দূত কথা বলার আগেই ক্রাফট বৈঠক ছেড়ে চলে যান। এক কূটনীতিক নাম প্রকাশ না করে বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, মোটামুটি একটি ঐকমত্যের অধিবেশন শেষে ক্রাফট ছিলেন খুবই আক্রমণাত্মক।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ কোনো নাম উল্লেখ না করে বলেছেন, মহামারী বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে বিভাজন গভীর করেছে। তিনি বলেন, আমরা দেখছি বিভিন্ন দেশ নিজেদের সঙ্কীর্ণ স্বার্থের জন্য চলমান পরিস্থিতিকে কাজে লাগাচ্ছে। চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ইয়ি আরো ভালো সমন্বয় ও সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।
মৃত্যু ৯ লাখ ৮১ হাজার ছাড়াল
করোনাভাইরাসে বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা তিন কোটি ২১ লাখ ৩৬ হাজার ছাড়িয়েছে। আর মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৯ লাখ ৮১ হাজার। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯ লাখ ৮১ হাজার ৭৫৪ জনের এবং আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিন কোটি ২১ লাখ ৩৬ হাজার ৮৫৫ জনে। ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন দুই কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার ৮০৫ জন।
টিকা এলেও মাস্ক দরকার হবে
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্টনি ফাউসি বলেছেন, কার্যকর টিকা চলে এলেও জনস্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে। এর মধ্যে মাস্কপরা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও হাত ধোয়ার মতো বিষয়গুলো মেনে চলা দরকার হবে। গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির গভর্নর ফিল মারফির সাথে ফেসবুক লাইভ অনুষ্ঠানে ফাউসি এ কথা বলেন।
সিএনএনের খবরে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসের পরিচালক বলেন, যে টিকা পাওয়া যাবে তা শতভাগ কার্যকর হবে না এবং তা শতভাগ মানুষ পাবেও না। অর্থাৎ কোভিড-১৯ সংক্রমণ বিস্তারের জায়গা থেকে যাবে। তার মতে, ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষকেও যদি টিকা দেয়া সম্ভব হয় তবে তা গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচনা করা যাবে। তবে টিকা এলেও জনস্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
জিনের কোডই বদলে দিচ্ছে কোভিড :
হিউস্টন মেথডিস্ট হাসপাতালের ভাইরোলজিস্টরা বলেছেন, সার্স-কভ-২ ভাইরাল স্ট্রেন প্রায় পাঁচ হাজার জিনোম সিকুয়েন্সে প্রতিটি স্ট্রেন পৃথক করে দেখা গেছে জিনের কোডই বদলে দিচ্ছে কোভিড-১৯। তার মধ্যেকার অ্যামাইনো অ্যাসিডের সিকুয়েন্সই বদলে গেছে। ফলে ভাইরাস যখন মানুষের শরীরে বিভাজিত হচ্ছে তার প্রতিটি নতুন স্ট্রেনই হয়ে উঠছে আরো বেশি সংক্রামক।
টেক্সাসের বিজ্ঞানীরা বলছেন ভাইরাস স্ট্রেনের এই ঘন ঘন বদলের জন্য তাদের রিসেপটর বাইন্ডিং ডোমেন অর্থাৎ যে অংশকে কাজে লাগিয়ে তারা মানুষের দেহকোষে ঢুকতে পারে, তারও পরিবর্তন হয়ে যায়। এই কারণেই মানুষের নানা অঙ্গের কোষে ঢোকার রাস্তা খুঁজে নিচ্ছে কোভিড।
গবেষক জেমস মুসার বলেছেন, সিঙ্গল মিউটেশন হচ্ছে জিনের গঠনে। অর্থাৎ জিন বা ডিএনএএর যে সম্পূর্ণ বিন্যাস সেখানে একটা নির্দিষ্ট অ্যামাইনো অ্যাসিডের কোডে বদল হচ্ছে। এতে বিভাজন আরো দ্রুতগতি পাচ্ছে। মার্কিন গবেষকরা বলছেন, কোভিডের জিনের সামান্য অংশেই বদলে প্রভাব হচ্ছে মারাত্মক। তারা আরো দ্রুত রিসেপটর প্রোটিনের সাথে জোট বেঁধে কোষে ঢুকছে। এই মিউটেশনে শরীরে নতুন রিসেপটর প্রোটিনও খুঁজে নিচ্ছে স্ট্রেন।
জিনের একটা রিডিং ফ্রেমের তিনটি বেসের প্রতিটি বেসে একটি অ্যামাইনো অ্যাসিডের কোড যা বদলে দিচ্ছে ভাইরাস। ফলে সে আবার নতুন করে জিনের গঠন সাজিয়ে চেহারাও বদলে নিচ্ছে। এক মানুষের শরীর থেকে অন্য মানুষের শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এ কারণেই। ভাইরাস প্রতিরোধ ক্ষমতার বিরুদ্ধে নিজের প্রতিরোধ গড়ে তুলছে, ফলে কোভিড রিইনফেকশনও দেখা যাচ্ছে।
রাশিয়ায় ভালো ফল চীনের টিকার
চীনের টিকা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ক্যানসিনো বায়োলজিকস তাদের টিকা নিয়ে রাশিয়ায় বড় আকারের পরীক্ষা চালাচ্ছে। চলতি মাসের শুরুতে মস্কোয় যেসব স্বেচ্ছাসেবী পরীক্ষামূলকভাবে টিকাটি নিয়েছেন, তাদের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। সম্প্রতি মস্কো টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। টিকাটির নাম ‘অ্যাড৫-এন কোভ’। ক্যানসিনো চীনা সেনাবাহিনীর গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাথে মিলে এটি তৈরি করেছে।
পেট্রোভ্যাক্সের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ মুহূর্তে সব স্বেচ্ছাসেবক সুস্থ আছেন। তাদের কারো কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। যারা টিকা নিয়েছেন, সবার শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
আগামী বছরের শুরুতেই ব্যাপকভাবে টিকা
চূড়ান্ত ধাপের পরীক্ষায় থাকা কোভিড-১৯-এর একটি টিকা আগামী বছরের শুরুর দিকে জনগণের ব্যাপক ব্যবহারের জন্য পাওয়া যেতে পারে। চীনের ফার্মাসিউটিক্যাল ফার্ম সিনোভ্যাক বায়োটেকের প্রেসিডেন্ট ইয়িন ওয়েডং গত বৃহস্পতিবার স্পেনের সংবাদ সংস্থা ইএফইকে এ কথা বলেন। ইয়িন বলেছেন, বেইজিংয়ে তার কোম্পানির তৈরি করোনাভ্যাক নামের টিকাটি বছরে ৩০ কোটি ডোজ তৈরির সক্ষমতা রয়েছে। সিনোভ্যাক গত মার্চ মাসে বেইজিংয়ে বিশেষায়িত কোভিড-১৯ ল্যাব স্থাপন শুরু করে। কয়েক সপ্তাহ ধরে করোনার সম্ভাব্য টিকা উৎপাদনে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
ইয়িন দাবি করেছেন, টিকা দেয়ার সাতটি পৃথক পদ্ধতি বের করেছেন গবেষকেরা। তাদের ‘ইনঅ্যাকটিভেটেড টিকা’ অধিক কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে টিকার তৃতীয় ধাপের পরীক্ষায় কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। বিশ্বের সব ধরনের সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী সক্ষমতা দেখিয়েছে এই টিকা।
করোনা শনাক্তে কুকুর
করোনাভাইরাস শনাক্ত করতে এবার কুকুর ব্যবহার করা হচ্ছে। ফিনল্যান্ডের হেলসিংকি বিমানবন্দরে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুরের সাহায্যে করোনা শনাক্তের কাজ চলছে। একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় গবেষকেরা এই পদ্ধতির পরীক্ষা চালাচ্ছেন। দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় অর্থে এই গবেষণা চালানো হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, পিসিআর পরীক্ষার চেয়ে এই পদ্ধতি সাশ্রয়ী, কার্যকর ও দ্রুততম সময়ে করা সম্ভব হবে।
ইউনিভার্সিটি অব হেলসিংকির একদল গবেষক এই প্রকল্পে কাজ করছেন।
নোভাভ্যাক্সের চূড়ান্ত ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু
মার্কিন বায়োটেক কোম্পানি নোভাভ্যাক্স জানিয়েছে, তাদের উদ্ভাবিত কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক চূড়ান্ত তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করেছে। ব্রিটেনে এই পরীক্ষা চলবে বলে বৃহস্পতিবার এএফপি এ খবর জানিয়েছে। বিশ্বব্যাপী ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তৃতীয় ধাপে পৌঁছা ১১তম কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন হলো নোভাভ্যাক্স। করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন উদ্ভাবনে যুক্তরাষ্ট্র সরকার এ কোম্পানিকে ১৬০ কোটি ডলার দিয়েছে।


আরো সংবাদ

‘রোহিঙ্গাদের দুর্দশায় রেখে দূরে সরে না যেতে’ যুক্তরাজ্যের আহ্বান লিবিয়া উপকূলে অভিবাসন প্রত্যাশীদের নৌকা ডুবে ১৫ জনের মৃত্যু আলুর মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব গরীবের ভাত-সিঙ্গাড়ায়, চাহিদা বেড়েছে রুটি-কলায় প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ : যুবলীগ নেতার বাড়ি থেকে অস্ত্র উদ্ধার স্পেনে করোনা আক্রান্ত ১০ লাখ ছাড়াল ট্রাম্প নিজেকে অযোগ্য প্রমাণ করেছেন : ওবামা করোনায় বিশ্বব্যাপী আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল ৪ কোটি ১১ লাখ অক্সফোর্ডের টিকা নিয়ে স্বেচ্ছাসেবকের মৃত্যু রোহিঙ্গা সঙ্কটে আসিয়ানের দুর্বলতা প্রকাশ বাইডেনের পক্ষে প্রচারে নামলেন ওবামা লাদাখ থেকে কাশ্মির পর্যন্ত টানেল বানাচ্ছে ভারত

সকল