২২ অক্টোবর ২০২০, ৭ কার্তিক ১৪২৪, ১ সফর ১৪৩৯

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে চাল উদ্ভাবন করলেন জিনবিজ্ঞানী আবেদ

-

ডায়াবেটিস রোগ নিরাময়ের জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞান এখন পর্যন্ত কোনো সঠিক পদ্ধতি বা পথ্য আবিষ্কার করতে পারেনি। তবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু শৃঙ্খলা মেনে চলা এবং ঔষধ সেবনের ব্যাপারে পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। এরই মধ্যে জিনবিজ্ঞানী এবং ধানগবেষক, কুলাউড়ার কৃতী সন্তান ড. আবেদ চৌধুরী আবিষ্কার করেছেন এমন একটি চাল, যা প্রাত্যহিক খাদ্য হিসেবে খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। আবেদ চৌধুরী বলেছেন, আমাদের দেশে উৎপাদিত সোনালি মিনিকেট চাল খেলে রক্তে শর্করা এবং সুগার কমে যায়। ফলে ডায়াবেটিস অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। তিনি বলেন, সাদা রঙের চাল বলতে কিছু নেই। সব চালই লাল। তবে মেশিনে ধান থেকে চাল করার সময় চালের লাল অংশ ছেঁটে ফেলার কারণে চালের লাল অংশ ওঠে গিয়ে চাল সাদা এবং চিকন করা হয়। এতে অনেক পুষ্টিগুণ থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি।
বাংলাদেশসহ বিশ্বে দিনদিন ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এ কথা মাথায় রেখে তার এই পদ্ধতি আবিষ্কারের চিন্তা শুরু হয়। কী করে এর একটা সমাধান করা যায়। সেই চিন্তা থেকে আবেদ চৌধুরী আবিষ্কার করেন সোনালি মিনিকেট চাল। এটি পরে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি অনুমোদন করে। তার এইচকেজি অ্যাগ্রো থেকে প্রস্তুত বিশেষ এই চাল খেলে কার্বোহাইড্রেট এবং সুগার কমে যায়। ফলে ডায়াবেটিস অনেক নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।
ড. আবেদ চৌধুরী বলেন, মূলত এই চাল তিনি উদ্ভাবন করেছেন অন্যান্য সাদা বা চিকন চালের সাথে মিশিয়ে খাওয়ার জন্য, যা মেশাতে হবে মূল চালের সাথে ১৫ শতাংশ করে। এতে ওই সাদা চালের সুগার বাড়ার ক্ষমতা অনেক কমে যায়। কিন্তু সেই চালের সাথে যে সোনালি মিনিকেট মেশানো হয়েছে তা বোঝা যায় না। এর বাজারমূল্য অন্যান্য চালের মতো। তবে এই চাল তারা সাধারণ পণ্য হিসেবে বাজারজাত করছেন না। কেউ এই চাল কিনতে চাইলে সরাসরি তাদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। এরপর তারা ক্রেতার ঠিকানা অনুযায়ী তা পৌঁছে দেবেন। এ জন্য ক্রেতাদেরকে ০১৭৬৬-৩৭০৪৩৬ এবং ০১৭৬৬-৩৭০৭০৩ নম্বরে ফোন করে যোগাযোগ করতে হবে।
ড. আবেদ চৌধুরী জানান, তিনি বিলুপ্ত প্রায় ৩ শ’ জাতের ধান উদ্ধার করেছেন। সেই ৩ শ’ জাতের ধান তিনি এখন তার গবেষণা এলাকা হিসেবে সিলেটের কুলাউড়ায় নিয়মিত চাষ করছেন এবং বছরে তিন বার সেই ফসল ঘরে তুলছেন। গত ১৫ বছর ধরে তিনি এই কাজ করে আসছেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল রিসার্চ কাউন্সিলের মুখ্য বিজ্ঞানী ছিলেন। ড. আবেদ চৌধুরী সিলেটের মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর গ্রামের সন্তান। তিনি মৌলভীবাজার সরকারি স্কুল থেকে এসএসসি, নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেন। পরে তিনি হার্ভার্ডসহ বিশ্বের অনেক নামীদামি প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে সেখানে শিক্ষক-গবেষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৭৯ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ছিলেন। ২০০৩ সাল থেকে নিয়মিত দেশে আসা-যাওয়া শুরু করেন। ২০০৭ সাল থেকে তিনি পুরোপুরি বাংলাদেশে চলে আসেন। কুলাউড়ায় তার পৈতৃক নিবাসে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল রিসার্চ কাউন্সিলের যেসব গবেষকের নাম নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়নের তালিকায় রয়েছেন ড. আবেদ চৌধুরী তাদের একজন।


আরো সংবাদ

২০২০ সালের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি : পর্বসংখ্যা-৯৫ বাংলা নাটক : অবাক জলপান অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি : বিজ্ঞান ষষ্ঠ অধ্যায় : পরমাণুর গঠন অষ্টম শ্রেণীর প্রস্তুতি : বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অধ্যায়-৫ : সামাজিকীকরণ ও উন্নয়ন নবম-দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া : বাংলা দ্বিতীয়পত্র অস্ত্র মামলায় গজারিয়ার আ’লীগ নেতা ও তার ভাই তিন দিনের রিমান্ডে বহিষ্কৃত আ’লীগ নেতা এনু-রুপনের জামিন আবেদন খারিজ ঢাবির উন্নয়ন ফি প্রত্যাহার চেয়ে ভিসিকে ছাত্রলীগের স্মারকলিপি কবি ফররুখ আহমদের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত বাংলাদেশ লেবার পার্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ আলুর দাম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা ভুল সিদ্ধান্ত : জি এম কাদের

সকল