৩০ মে ২০২০

শিক্ষায় করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তিন বিকল্প চিন্তা

শিক্ষায় করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তিন বিকল্প চিন্তা - নয়া দিগন্ত

করোনার প্রাদুর্ভাবে কয়েক দফায় বাড়ানো হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সবারই আশা আগামী ঈদুল ফিতরের পরেই খুলবে স্কুল-কলেজ। তবে দীর্ঘ এই ছুটির কারণে শিক্ষার্থীদের অপূরণীয় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তিনটি বিকল্পের কথা এখনই ভাবছে সরকার। গত মঙ্গলবার শিক্ষা সচিবের সাথে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানদের ভার্চুয়াল সভায় এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

এ দিকে দীর্ঘ ছুটিতে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে প্রথম অবস্থায় যে তিনটি বিকল্প নিয়ে ওই দিনের সভায় আলোচনা হয় সেগুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঐচ্ছিক ছুটি কমিয়ে এনে বাকি দিনগুলোতে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরানো, শিক্ষার্থীদের বিবেচনায় প্রতিটি কঠিন ও জটিল (বিশেষ করে গণিত ও ইংরেজি) ক্লাসের সময়সীমা ৪০ মিনিট থেকে বাড়িয়ে এক ঘণ্টা করা এবং এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর অপেক্ষাকৃত কম সময়ের মধ্যেই কলেজ বা বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, করোনা আতঙ্কে চলতি বছর দীর্ঘ সময় ধরে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ঐচ্ছিক ছুটি সীমিত করার কথা ভাবা হচ্ছে। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে আসন্ন রোজা ও ঈদুল ফিতরের এই ছুটি কাটছাঁট করার কোনো চিন্তা নেই। সংশ্লিষ্টরা বলছেন আগামীতে ঈদুল আজহা এবং গ্রীষ্মের ছুটি মিলিয়ে ১৫ দিনের পরিবর্তে ১০ দিন ছুটি দেয়া হবে। একইভাবে দুর্গাপূজার ছুটিও ৭ দিনের পরিবর্তে ৩ দিন করার সিদ্ধান্ত হতে পারে। পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে গণিত ও ইংরেজি ক্লাসের সময়সীমা ৪০ মিনিটের পরিবর্তে এক ঘণ্টা করা হবে।

অন্য দিকে চলতি শিক্ষাবর্ষের লম্বা একটি সময় চলে যাওয়ার পর এখন বাকি সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর চিন্তা করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট প্রকাশের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরবর্তী ক্লাসে ভর্তির প্রক্রিয়া শেষ করে ওই সব ক্লাস শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে।

সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো: মাহবুব হোসেনের সঙ্গে ১১টি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্টসহ সংশ্লিষ্টদের ভিডিও কনফারেন্সে এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়। তবে সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুহাম্মদ জিয়াউল হক জানান, আমরা শিক্ষার্থীদের ক্ষতির বিষয়টি এবং পরবর্তীতে কিভাবে তা কাটিয়ে ওঠা যায় সে বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা করেছি। তবে একটি বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন যে, পরীক্ষার রেজাল্টের পর আগের মতো দীর্ঘ সময় আর নেয়া যাবে না। যত দ্রুত সম্ভব এসএসসি এবং এইচএসসির ফলাফল ঘোষণার পরপরই পরবর্তী ক্লাসে ভর্তির কার্যক্রম শুরু করতে হবে। অন্য সব বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই) সবার সাথে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।


আরো সংবাদ