সিগারেটের মূল্যস্তর চারটি থেকে কমিয়ে তিনটি করার দাবি জানিয়েছে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স (আত্মা)।
রোববার (২৩ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, চারটি মূল্যস্তর (নিম্ন, মধ্যম, উচ্চ ও প্রিমিয়াম) থাকায় তামাক কর ও মূল্য পদক্ষেপ সঠিকভাবে কাজ করে না। নিম্ন ও মধ্যম স্তরকে একত্রিত করে দাম বাড়ালে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে এবং তরুণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী সিগারেট ব্যবহারে নিরুৎসাহিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে তামাক কর ও মূল্য সংক্রান্ত প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। প্রজ্ঞার তামাক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক প্রকল্প প্রধান হাসান শাহরিয়ার বলেন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তামাক ব্যবহারের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ৩০ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা, যা একই সময়ে তামাক খাত থেকে অর্জিত রাজস্ব আয়ের (২২ হাজার ৮১০ কোটি টাকা) চেয়ে বেশি। তামাকজনিত রোগে প্রতিবছর এক লাখ ৬১ হাজারের বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে।
তারা প্রস্তাব করেন, নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেটের প্রতি ১০ শলাকার মূল্য ৯০ টাকা, উচ্চস্তরের ১৪০ টাকা (অপরিবর্তিত) এবং প্রিমিয়াম স্তরের ১৯০ টাকা নির্ধারণ করা হোক। এছাড়া বিড়ি, জর্দা ও গুলের মূল্যও বাড়ানোর প্রস্তাব করেন তারা। তামাকজাত দ্রব্যের উপর সম্পূরক শুল্ক, ভ্যাট ও স্বাস্থ্য সারচার্জ বহাল রাখার দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন আত্মা’র কনভেনর মতুর্জা হায়দার লিটন, কো-কনভেনর মিজান চৌধুরী, প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আত্মা’র কো-কনভেনর নাদিরা কিরণ।
বিআইআইএসএস এর রিসার্চ ডিরেক্টর ড. মাহফুজ কবীর বলেন, ‘৮০ শতাংশের বেশি ধূমপায়ী নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট ব্যবহার করেন। এই দুই স্তরের দাম বাড়ালে রাজস্ব আয় বাড়বে এবং সিগারেটের ব্যবহার কমবে।’
ইআরএফ'র সভাপতি দৌলত আকতার মালা বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সব ধরনের তামাকজাত দ্রব্যের দাম বাড়িয়ে জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যাওয়া উচিত।’



