১২ জুলাই ২০২০

লিবিয়ার ঘটনার বর্ণনা দিলেন বেঁচে যাওয়া এক বাংলাদেশী

লিবিয়ার ঘটনার বর্ণনা দিলেন বেঁচে যাওয়া এক বাংলাদেশী - ছবি : সংগৃহীত

লিবিয়ায় মানবপাচারকারী চক্রের এলোপাতাড়ি গুলিতে ২৬ বাংলাদেশী নিহত ও ১১ জন গুরুতর আহত হলেও ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছেন একজন। তিনিই দূতাবাসকে ঘটনার বিস্তারিত জানিয়েছেন। তার নাম-পরিচয় গোপন রাখা হচ্ছে নিরাপত্তার স্বার্থে। তবে তিনি সম্পূর্ণ অক্ষত ও বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ত্রিপলীস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস।

তার বয়ান মতে, লিবিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিজদাহতে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। ঘটনাস্থলের অবস্থান ত্রিপলী শহর থেকে ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে। প্রায় ১৫ দিন আগে বেনগাজী থেকে মরুভূমি পাড়ি দিয়ে কাজের সন্ধানে তারা যাচ্ছিলেন। এমন সময় মানবপাচারকারীরা তাদের জিম্মি করে।

তারা মোট ৩৮ জনের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য একত্র জড়ো করে। তাদের রাজধানী ত্রিপলীতে নেয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু মিজদাহ শহরে নেয়ার পর তাদের ওপর শুরু করে বর্বর নির্যাতন। উদ্দেশ্য দ্রুত মুক্তিপণ আদায়। অত্যাচার-নির্যাতনের চরম পর্যায়ে সূযোগ বুঝে প্রতিরোধ গড়ে তোলো ভিকটিমরা। তারা মূল হোতা লিবিয়ান ব্যক্তির ওপর চড়াও হলে তার মৃত্যু ঘটে। কিন্তু ঘটনাটি তখনই তাদের আয়ত্তের বাইরে চলে যায় এবং বড় বিপদ হয়ে দাঁড়ায়। মুহূর্তের মধ্যে খবর ছড়িয়ে যায় ওই নিহত পাচারকারীর স্বজনদের কাছে। তারাসহ অন্য দুষ্কৃতিকারীরা আকষ্মিকভাবে জিম্মিদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি করলে অন্তত ২৬ জন বাংলাদেশী ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

ওই বাংলাদেশীসহ স্থানীয় সূত্রের বরাতে ত্রিপলীস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাতে ঢাকায় একটি রিপোর্ট পাঠিয়েছে। তাতেও প্রায় অভিন্ন বর্ণনা রয়েছে।

ই-মেইলযোগে পাঠানো বাংলাদেশ দূতাবাস ত্রিপলী, লিবিয়ার রিপোর্ট মতে, দূতাবাস বৃহস্পতিবার লিবিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিজদাহতে কমপক্ষে ২৬ জন বাংলাদেশীকে লিবিয়ান মিলিশিয়া গুলি করে হত্যা করার তথ্য পায়।

তাৎক্ষণিকভাবে দূতাবাস অনুসন্ধানে নামে। নিশ্চিত হন যে লিবিয়ার মিলিশিয়া বাহিনী বাংলাদেশীদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালালে প্রায় সবাই হতাহত হন। তবে একজন প্রাণে বেঁচে যান। তার সাথে বাংলাদেশ দূতাবাসের টেলিফোন যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়। তিনি বর্তমানে একজন হৃদয়বান লিবিয়ানের আশ্রয়ে আত্মগোপন করে আছেন। দূতাবাস ঢাকাকে জানায়, নিহত ২৬ বাংলাদেশীর লাশ মিজদাহ হাসপাতালে সংরক্ষিত রয়েছে। বাকী ১১ বাংলাদেশীরা হাতে-পায়ে, বুকে-পিঠে গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মিজদাহ হাসপাতালের পরিচালক টেলিফোনে এ বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসকে জানান যে, ওই লাশসমূহ বর্তমানে মিজদাহ হাসপাতাল মর্গে পরবর্তী প্রক্রিয়ার জন্য সংরক্ষিত রয়েছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন এবং ওই লাশসমূহের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান। দূতাবাস ঢাকাকে এটা নিশ্চিত করেছে যে, আহত ১১ বাংলাদেশীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ত্রিপলী মেডিক্যাল সেন্টারে (টিএমসি) পাঠানোর ব্যবস্থা এরইমধ্যে নেয়া হয়েছে হয়েছে।

ত্রিপলী মেডিক্যাল সেন্টারে পৌঁছার পর দূতাবাস থেকে আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ঘটনার বিশদ বিবরণ নেওয়াসহ নিহতদের পরিচয় উদঘাটনের ব্যবস্থা নেওয়ো হবে। তাছাড়া আহতদের চিকিৎসার ব্যাপারে দূতাবাস থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।


আরো সংবাদ

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অভিবাসীদের পুনর্বাসনে ২০০কোটি টাকার ‘সমঝোতা’ ডা. সাবরিনা বরখাস্ত, স্বাস্থ্য ডিজিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ বাবাকে ফাঁসাতে যেয়ে ফেঁসে গেল পুত্র ও পুত্রবধূ পরকীয়ার জেরে স্ত্রীর প্রেমিককে খুন, স্বামীর স্বীকারোক্তি চট্টগ্রামে পাহাড় কাটার অভিযোগে একজনের কারাদণ্ড একটার পর একটা কেলেঙ্কারি ধরা পড়ছে বাংলাদেশে নান্দাইলে দুই ভূয়া আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকের কারাদণ্ড বরিশালে চার হাজার ছাড়ালো করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ঢেউয়ের সাথে যুদ্ধ করে দিন কাটাচ্ছে শঙ্কিত হাওরবাসী সুন্দরগঞ্জে বন্যায় ফের পানিবন্দী ১০ হাজার পরিবার ‘কোরবানীর চামড়া নিয়ে কোন চক্রান্ত মেনে নেয়া হবে না’

সকল