২৮ অক্টোবর ২০২০

আবার জেগে উঠেছে নাটকের গ্রাম

-

আবার জেগে উঠেছে নাটকের গ্রাম। করোনায় কয়েক মাস শুটিং বন্ধ থাকার পর নতুন করে সরব হয়ে উঠেছেন নির্মাতারা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে নেমেছেন নির্মাণ কাজে। শুরুতে শুধু রাজধানী ও আশপাশের লোকেশনে শুটিং শুরু করা হলেও এখন ঢাকার বাইরেও কাজ চলছে। বিশেষ করে নাটকের গ্রাম নামে পরিচিত গাজীপুরের ভাদুন গ্রাম আবার জেগে উঠেছে এমনটাই জানিয়েছেন নির্মাতারা।
করোনার কারণে গত মার্চ মাস থেকে বন্ধ ছিল টেলিভিশন নাটকের শুটিং। মে মাস থেকেই শুটিং করার অনুমতি মেলে। প্রথমে ঢাকায় শুরু হলেও একটু দেরিতে শুরু হয় ঢাকার বাইরে। গাজীপুর ছাড়াও শুটিং চলছে মানিকগঞ্জ, জামালপুর, সিলেট ও কক্সবাজারে। একাধিক নির্মাতা জানান, যেহেতু করোনা থেকে মুক্তির বিষয়টি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া তাই তারা বসে থাকতে পারছেন না। আপাতত স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এরই মধ্যে শুটিং চলাকালীন কারো কারো করোনা উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। এতে অবস্থা বিবেচনায় তারা কিছুদিন শুটিং বন্ধ রাখছেন।
শুধু নাটক নয় চলচ্চিত্রেও একই অবস্থা। চলচ্চিত্রে শুটিংয়ের অনুমতি পাওয়ার পরই স্বাস্থ্যবিধি মেনে সম্প্রতি ‘বিক্ষোভ’ সিনেমার শুটিং করেন নির্মাতা শামীম আহমেদ রনী। এর পরে ‘টুঙ্গীপাড়ার মিয়া ভাই’ সিনেমার কাস্টিং ডিরেক্টর হিসেবে তিনি বেশ সরব ছিলেন। সিনেমাটির শুটিংও টানা চলছিল। হঠাৎ রনীর ঠাণ্ডা জ্বর হওয়ায় শুটিং ইউনিটের সবাই করোনা আতঙ্কে ভুগতে থাকেন। পরে প্রযোজক শুটিং বন্ধ করে দেন। এভাবে পরিস্থিতি সামলে নিয়েই কাজ করছেন নির্মাতারা।
ঢাকা থেকে ভাদুনের দূরত্ব মাত্র ২১ কিলোমিটার। গ্রামটিতে ২০০৬ সাল পর্যন্ত মাত্র একটি শুটিং বাড়ি ছিল। সময়ের প্রয়োজনে ছোট–বড় মিলিয়ে সেই সংখ্যা ১৪ তে দাঁড়িয়েছে। ভাদুন গ্রামে শুটিং শুরু হয় ১৯৯৭ সাল থেকে। বাণিজ্যিকভাবে শুটিং শুরুর পর থেকে ভাদুনের মানুষ সবকিছু টাকার বিনিময়ে ভাড়া দিতে শুরু করেন। ‘ভাদুনে টাকা দিলেই ভাড়া পাওয়া যায় গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি, নানা বয়সী মানুষ, দোকান, গাছ, খেত খামার, নৌকা।
স্থানীয়রা জানান, তারকা ও নির্মাতারা দীর্ঘদিন ধরে ভাদুনের ভাড়া বাড়িতে শুটিং করতে করতে এখন নিজেরাই বনে গেছেন শুটিং হাউজের মালিক। পুবাইল কলেজ গেট থেকে হাতের ডানে ৫ মিনিট হাঁটলেই পাওয়া যায় চলচ্চিত্র অভিনেতা শাকিব খানের শুটিং বাড়ি, নাম ‘জান্নাত হাউজ’। তবে লোকমুখে ‘শাকিবের হাউজ’ নামেই পরিচিত এটা। আরেকটি বাড়ির নাম পরিচিত হয়ে উঠছে ‘মোশাররফ করিম-শামীম জামান-আ খ ম হাসানের বাড়ি’। একই এলাকায় আরেকটি বাড়ির নাম সালাহউদ্দিন লাভলুর বাড়ি।

 


আরো সংবাদ