৩০ নভেম্বর ২০২০

পাহাড়ে বাণিজ্যিকভাবে বাড়ছে ড্রাগন চাষ

পাহাড়ে বাণিজ্যিকভাবে বাড়ছে ড্রাগন চাষ - নয়া দিগন্ত

বেটা কেরোটিন ও ভিটামিন সি’ সমৃদ্ধ ক্যাকটাস জাতীয় সুস্বাদু ও উচ্চ ফলনশীল ফসল ড্রাগন চাষে বেশ সফলতা পেয়েছে মানিকছড়ির এনজি এগ্রো ফার্ম। কলেজ প্রভাষক থেকে ড্রাগন চাষে নিজেকে আত্মনিয়োগ করা উদ্যোক্তার ধারাবাহিক সফলতায় পাহাড়ে প্রতিনিয়ত ড্রাগন চাষে পুঁজি বিনিয়োগ নতুন নতুন উদ্যোক্তারা। নিয়মিত এবং দীর্ঘস্থায়ী ফলনশীল এই ড্রাগন ফল বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ‘হালদা ভেলি’র স্বত্তাধিকারী নাদের খানের হাতধরে। এই উদ্যোক্তার দেখাদেখি এ অঞ্চলের পরতে পরতে এখন শোভা পাচ্ছে লাল-সবুজে নজরকাড়া ড্রাগন আর ড্রাগন।

উপজেলা কৃষি অফিস ও উদ্যোক্তা সূত্রে জানা গেছে, ক্যাকটাস জাতীয় বৃক্ষ ড্রাগন মূলত ‘বেটা কেরোটিন ও ভিটামিন সি’ সমৃদ্ধ সুস্বাদু ও উচ্চ ফলনশীল একটি ফসল। শাঁস গাঢ় গোলাপি রংয়ের রসালো ড্রাগন ফলে টিএসএস ১৩.২২% এবং খাদ্যোপযোগী ৮১% । বেটা কেরোটিন ১২.০৬% মিলিমাইক্রো গ্রাম ও ভিটামিন সি’ ৪১.২৭ মিলিগ্রাম পুষ্টিসমৃদ্ধ এই ফলটি চাষাবাদ এবং বাজারজাতে দিন দিন জনপ্রিয়তা বাড়ছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলে মূলত ২০০৪ সালে ঐতিহ্যবাহী ‘হালদা ভেলি’র পরিচালক খ্যাতিমান চা শিল্পের উদ্যোক্তা নাদের খান এর হাত ধরে ড্রাগন চাষ এবং ফল বাজারজাত শুরু হয়। আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ থাইল্যান্ড থেকে প্রশিক্ষিত কর্মী এনে ড্রাগন চাষ শুরু করেন নাদের খান। এই মহৎ উদ্যোক্তার হাতছানিতে আজ চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্গ্রামের পরতে পরতে উদীয়মান ও শিক্ষিত যুবকরা এগিয়ে এসেছেন এই লাভজনক ফসল ড্রাগন চাষে। শতভাগ সফলতা থাকায় এখন আর থেমে নেই কেউ ড্রাগন চাষে।

ফটিকছড়ি’র ‘গুলতাজ মেমোরিয়াল ডিগ্রী কলেজ’র হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ও সংবাদকর্মী সৈয়দ মুহাম্মদ মাসুদ ও তার সহপাঠি মো. দেলোয়ার হোসেন জনি মানিকছড়ি উপজেলায় প্রথম ২০১৫ সালে ৩ একর টিলা ভূমিতে ১ হাজার পিলারে ৪ হাজার ড্রাগন চারা রোপন করেন। এরপর ওদের আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এই দুই সফল উদ্যোক্তার অগ্রযাত্রা দেখে এখন পাহাড়ের পরতে পরতে শোভা পাচ্ছে ড্রাগন ফলের সফল চাষাবাদ। অঙ্গজ উপায়ে বংশবিস্তার করা ড্রাগন চারা রোপনের এক বছরের মধ্যে ফল আসা শুরু করে। ভালো পরিচর্যা পেলে টানা ৩০-৩৫ বছর ফল দিতে থাকে প্রতিটি গাছ। বছরে কমপক্ষে ৫/৬ বার ফলন আসে গাছে। ৩-৫ বছর বয়সী প্রতি গাছ বছরে কমপক্ষে ৯-১৫ টি ফল ধরবে এবং ফলের ওজন হবে ৩.২০ গ্রাম। এভাবে বছরে হেক্টর প্রতি ফল আসবে ২০.৬টন।

উপজেলার এই সফল উদ্যোক্তা সৈয়দ মুহাম্মদ মাসুদ এ প্রসঙ্গে বলেন, এমবিএ শেষ করে কলেজে প্রভাষক হিসেবে চাকুরীর পাশাপাশি চট্টগ্রাম তথা দেশের অহংকার হালদা ভেলি’র স্বপ্নদস্টা মো. নাদের খান এর ড্রাগন চাষ দেখে আমি এই বিদেশী ফল চাষাবাদে উদ্ভুদ্ধ হই। নাদের খান চা শিল্পের পাশাপাশি ২০০৪ সালে বিদেশী ফল ড্রাগন চাষ করে এ অঞ্চলে চমক সৃষ্টি করেন। তাঁর সৃজিত বাগানে ক্যাকটাস জাতীয় সুস্বাদু ও উচ্চ ফলনশীল এই ফলের স্বাদ এবং গুণ সর্ম্পকে জানতে পেরে আমরা দুই বন্ধু মিলে মানিকছড়ির গাড়ীটানা এলাকায় ৩ একর জায়গায় সম্পূর্ণ ড্রাগন চাষ এবং ২একর ভূমিতে রামবুটান ও লিচু’র মিশ্র বাগান সৃজন করি। জৈব সার নির্ভর এই ড্রাগন চাষ করে আমরা বেশ লাভবান হয়েছি। চার হাজার গাছ থেকে প্রতি বছর গড়ে ৫টন ড্রাগন বিক্রি করতে পারি। প্রতি কেজি ড্রাগনের পাইকারী মূল্য সাড়ে ৩শত টাকা। জনৈক ব্যবসায়ী ড্রাগন কিনতে সম্প্রতি আমাকে ২লক্ষ টাকা অগ্রীম বুকিং দিয়েছেন। আমরা এই ড্রাগন চাষে সফলতা দেখছি। যার কারণে নতুন নতুন উদ্যোক্তারা অল্প পুঁজিতে দীর্ঘস্থায়ী ফল ড্রাগন চাষে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানাচ্ছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম মজুমদার এ প্রসঙ্গে বলেন, বেটা কেরোটিন ও ভিটামিন সি’ সমৃদ্ধ ক্যাকটাস জাতীয় ফল অত্যান্ত সুস্বাদু ও উচ্চ ফলনশীল ফসল। বর্তমানে উপজেলার প্রায় ৬হেক্টর ভূমিতে ড্রাগনের চাষ হচ্ছে। রোগ-বালাই কম থাকায় এবং কম পুঁজিতে অধিক লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকায় প্রতিনিয়ত পাহাড়ে ড্রাগন চাষ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। আমার তৃণমূলে এসব লাভবান ও পুষ্টিগুনে সমৃদ্ধ ড্রাগন ফল চাষাবাদে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে কাজ করছি।

 


আরো সংবাদ