নয়া দিগন্ত অনলাইন
‘জামায়াতে ইসলামী শহীদ ও জীবন্ত শহীদ পরিবারের সদস্য’ উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামী শহীদ ও আহত-পঙ্গুত্ব বরণকারীদের জাতীয় সম্পদ হিসেবে মূল্যায়ন করে। জামায়াত শহীদের নিয়ে অন্যদের মতো রাজনীতি করে না এবং করবেও না।’
সোমবার (৩ মার্চ) আহত, পঙ্গু ও শহীদ পরিবারের সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে জামায়াত ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শহীদ পরিবারকে উদ্দেশ্য করে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘যেই মা-বাবা সন্তান হারিয়েছে, যে বোন স্বামী হারিয়েছে, যেই সন্তান পিতা-মাতা হারিয়েছে তারা গত বছর রমজানে একত্রে সাহরি ও ইফতার করেছে। এবছর সেই স্মৃতি মনে করে সাহরি ও ইফতার তৃপ্তিতে করতে পারে নাই পরিবারগুলো। এ বেদনা সহ্য করার নয়।’
এ সময় তিনি এবারের ঈদ শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত-পঙ্গুত্ব বরণকারীদের সাথে পালনের ঘোষণা দেন। একই সাথে শহীদদের নিয়ে প্রকাশিত শহীদ স্মরণিকা ঈদের পরপরই প্রত্যেক শহীদ পরিবারে পৌঁছানো হবে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো: নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে রাজধানীর লেডিস ক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলের আগে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসেন।
এ সময় মোবারক হোসেন বলেন, ‘যাদের রক্তের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে এখন পর্যন্ত কারো ভাবনা চোখে পড়েনি। একমাত্র জামায়াতে ইসলামীর আমিরের নির্দেশে প্রত্যেক শহীদ পরিবারকে দু’লাখ টাকা করে এবং আহতদের খুঁজে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছেন। এর সাক্ষী উপস্থিত শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত-পঙ্গুত্ব বরণকারী ভাই-বোন।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমিরে জামায়াত বলেছেন- ১৯৫২, ১৯৬৯, ১৯৭১, ১৯৯০ সহ আমাদের সব আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাস বিকৃত হয়েছে। ২০২৪-এর ইতিহাস বিকৃত করা যাবে না। এজন্য শহীদদের স্মরণে ১০ খণ্ডে দু’হাজার ৫০০ পৃষ্ঠার মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। এ বইতে শহীদদের পরিচয়, গণঅভ্যুত্থানে ভূমিকা ও শহীদ হওয়ার ঘটনা এবং স্থান সংরক্ষণ করা হয়েছে। এ গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস মুছে যেতে দিবে না জামায়াতে ইসলামী।’
তিনি উপস্থিত শহীদ পরিবার ও আহত পরিবারের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশ আপনাদের। আপনাদেরই গণঅভ্যুত্থানের অর্জন ধরে রাখতে হবে।’
সভায় বুয়েটের অধ্যাপক প্রকৌশলী ফখরুল ইসলাম, ‘সাবেক সমাজ কল্যাণমন্ত্রী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল শহীদ আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ছেলে আলী আহম্মদ তহকীক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
সভাপতির বক্তব্যে মো: নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘যারা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের হাত থেকে জাতিকে মুক্ত করতে গিয়ে আহত-পঙ্গুত্ব বরণ করেছে তারা ইসলামের দৃষ্টিতে গাজী এবং গণহত্যার শিকার সবাই শহীদ। আমাদের শহীদেরা স্বপ্ন দেখেছে, একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা, সেই স্বপ্নের বীজ জামায়াতে ইসলামী তার প্রতিষ্ঠাকালেই বুনেছে। সংগঠনটি দীর্ঘ সময় ধরে সেই আন্দোলনই করে আসছে। এ সংগঠনের আন্দোলন সঠিক ছিল তা এ দেশের ছাত্র-জনতা ২০২৪-এ বুঝতে পেরেছে। এজন্য তারা জীবনের মায়া ত্যাগ করে দেশকে ভালোবেসে ফ্যাসিবাদের হাত থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করেছে। শহীদদের স্বপ্ন পূরণে এ সংগঠন আগামীতেও কাজ করবে।’
এ সময় তিনি উপস্থিত সবাইকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রাজপথে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসের শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি যথাক্রমে মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসাইন, অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান, মোহাম্মদ কামাল হোসাইন ও মো: শামসুর রহমান, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন, অধ্যাপক মোকাররম হোসাইন, আবদুস সালাম, অধ্যাপক মোবারক হোসাইন, শাহীন আহমেদ খান, কামরুল আহসান হাসান।
এছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সাদিক কায়েম, শহীদ আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে শামীম সাঈদী, শহীদ কাদের মোল্লার ছেলে জামিল হাসান, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সহকারী সম্পাদক আব্দুস সাত্তার সুমনসহ মহানগরী দক্ষিণের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় শহীদ পরিবারের, আহত ও পঙ্গু এক হাজারের বেশি পরিবারের সদস্য ইফতার মাহফিলে অংশ নেন।
সভা শেষে গণহত্যার শিকার পরিবারকে হত্যাকারীদের বিচার দেখার সুযোগ দান এবং বাংলাদেশের জন্য আগামীতে ন্যায়পরায়ণ শাসক কামনায় বিশেষ মোনাজাত করেন জামায়াতের আমির। এ সময় উপস্থিত শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যরা আমিন বলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভেঙে পড়েন।



