পবিত্র রমজান উপলক্ষে ‘সুলভ’ মূল্যে দুধ, ডিম, গোশত বিক্রি কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় সিরাজ মিয়া মেমোরিয়াল মডেল স্কুল প্রাঙ্গণে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।
উদ্বোধনের পর দুধ, ডিম, গোশত নিয়ে ফ্রিজিংভ্যানগুলো গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেয়। রাজধানীর ২৫টি স্থানে এসব পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে।
এবার গরুর গোশত প্রতি কেজি ৬৫০ টাকা, ড্রেসড (চামড়া ছাড়া) ব্রয়লার প্রতি কেজি ২৫০ টাকা, দুধ প্রতি লিটার ৮০ টাকা ও ডিম প্রতি ডজন ১১৪ টাকা মূল্যে বিক্রয় করা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, বাজারে যারা অহেতুক দাম বাড়ায়, তাদের ছাড় দেয়া যাবে না। এবারের রমজান ভিন্ন হবে। আমরা স্বাধীন দেশে নতুন করে পবিত্র রমজান পালন করব। সে ক্ষেত্রে আমাদের দায়িত্ব অনেক বেশি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হিসেবে কিছু সংস্কার করব তা না, আমাদের কাজ হচ্ছে সাধারণ মানুষ যেসব কারণে কষ্ট পাচ্ছিল, বিশেষ করে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি কমিয়ে আনা। এখনো দ্রব্যমূল্য পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। সেজন্য আমরা চেষ্টা করছি রমজান মাসকে কেন্দ্র করে হলেও অতিপ্রয়োজনীয় কিছু পণ্য সাশ্রয় মূল্যে বিক্রি করতে।
প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: তোফাজ্জেল হোসেন, বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেডের (মিল্ক ভিটা) চেয়ারম্যান কমান্ডার জাহিরুল আলিম, এলডিডিপির প্রকল্প পরিচালক মো: জসিম উদ্দিন, বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের (বিপিআইসিসি) সভাপতি শামসুল আরেফিন খালেদ, বাংলাদেশ ডেইরি অ্যান্ড ফ্যাটেনিং ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিডিএফএফএ) সভাপতি মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন।
ঢাকা শহরের ২৫টি স্থানে ২৮ রমজান পর্যন্ত সুলভ মূল্যে প্রাণিজাত পণ্য বিক্রয় করা হবে। এই এলাকাগুলো হচ্ছে সচিবালয়ের পাশে (আব্দুল গণি রোড), খামারবাড়ী (ফার্মগেট), ষাট ফিট রোড (মিরপুর), আজিমপুর মাতৃসদন, নয়াবাজার (পুরান ঢাকা), বনশ্রী, হাজারীবাগ (সেকশন), আরামবাগ (মতিঝিল), মোহাম্মদপুর (বাবর রোড), কালশী (মিরপুর), যাত্রাবাড়ী (মানিকনগর গলির মুখে), শাহজাদপুর (বাড্ডা), কড়াইল বস্তি (বনানী), কামরাঙ্গীরচর, খিলগাঁও (রেল ক্রসিং দক্ষিণে), নাখালপাড়া (লুকাস মোড়), সেগুনবাগিচা (কাঁচা বাজার), বসিলা (মোহাম্মদপুর), উত্তরা (হাউজ বিল্ডিং), রামপুরা (বাজার), মিরপুর ১০, কল্যাণপুর (ঝিলপাড়), তেজগাঁও, পুরান ঢাকা (বঙ্গবাজার) ও কাকরাইল।
শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি বিক্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন করে দেখা গেছে, ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্রে গরুর গোশতের দাম অন্যান্য বছরের চেয়ে ৫০ টাকা বেশি হওয়ায় অনেক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, বাজারে গরুর গোশতের দাম ৭৫০ টাকা। গত বছরও বাজারে একই দাম ছিল, তখন সরকার ৬০০ টাকা কেজি দরে গরুর গোশত বিক্রি করেছে। কিন্তু এবার ৫০ টাকা বাড়িয়ে দেয়ায় বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। অন্যান্য বছর দৈনিক প্রায় পাঁচ হাজার কেজি গরুর গোশত বিক্রি হলেও এবার বিক্রি হচ্ছে মাত্র এক হাজার কেজি।
প্রথম দিনে বিক্রি হয়েছে প্রায় ৫০০ কেজির মতো। পাশাপাশি এ বছর বিক্রয়কেন্দ্রের আওতা কমানো হয়েছে। গত বছর রাজধানীর ৩০ এলাকা, পাঁচটি বাজারে সুলভ মূল্যে মাছ, দুধ, ডিম, মুরগি, গরু ও খাসির মাংস বিক্রি হলেও এবার রাজধানীতে ২৫ এলাকায় কর্মসূচি চলছে। এ বছর মাছ ও খাসি বিক্রি হচ্ছে না। বাজারে গরু ও খাসির উচ্চমূল্যের কারণে নিম্নবিত্ত মানুষের ভরসা ছিল ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্র। গরু ৬০০ ও খাসি ৯০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতো। গত বছর ছয় লাখ মানুষ ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্রের সুবিধা পেয়েছেন।



