ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের জোরালো দাবি বিএনপির

সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ২০১৩ সালের ৫ শাপলা চত্বরে গণহত্যা চালিয়েছে, এমন কী শহীদের সংখ্যাটাও এখনো জানা যায়নি। ২০২১ সালে...

অনলাইন প্রতিবেদক
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ |নয়া দিগন্ত

ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের জোরালো দাবি জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা অতিদ্রুত জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ দিবেন, যাতে ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা যায়। কারণ কখনো শুনি, ডিসেম্বর থেকে জুন আবার জুন থেকে ডিসেম্বরে, শিফটিং হচ্ছে। কিছু গোষ্ঠী নির্বাচন বিলম্বের পাঁয়তারা করে যাচ্ছে।

শনিবার রাতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ নেতাদের সাথে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয় এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ২০১৩ সালের ৫ শাপলা চত্বরে গণহত্যা চালিয়েছে, এমন কী শহীদের সংখ্যাটাও এখনো জানা যায়নি। ২০২১ সালে চট্টগ্রামে ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ওপর ফের গুলি চালায় ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার। এতে অনেক কর্মী শহীদ হয়েছেন। এ হত্যার বিচার চেয়ে মামলা করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। তারা সুষ্ঠু বিচারদের মাধ্যমে এ মামলার নিষ্পত্তি চায়। আমরাও একমত হয়েছি এবং বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে অসংখ্য মিথ্যা মামলা ও হেফাজত কর্মীদের জেলে ভরানো হয়েছে। সেগুলোর প্রত্যাহার চেয়েছে, আমরা একমত পোষণ করেছি। আমরা আহ্বান জানাবো, দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

তিনি বলেন, হেফাজত ইসলামের নেতারা রাজনীতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবি করেছে, যেটি আমরা প্রকাশ্যে, লিখিত আকারে করেছি। আমরা চাই, আওয়ামী লীগকে গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিচারের আওতায় আনা হোক। এজন্য প্রয়োজনে সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন করা যায়। বিচারিক প্রক্রিয়ায় মধ্যে দিয়ে যদি আওয়ামী লীগের ভাগ্য নির্ধারণ হয়, তবে দেশের জনগণ সেটা মেনে নেবে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, গণহত্যা, মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের দায়ে যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, শেখ হাসিনাসহ তার দোসরদের, সেই মামলাগুলোতে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। সমগ্র জাতি উদগ্রীব, তারা প্রত্যাশা করে যেন দ্রুত এই মামলা গুলো নিষ্পত্তি হয়। সেজন্য আমরা প্রস্তাব করছি, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হোক, সেইসাথে জনবল ও লজিস্টিক সাপোর্ট বৃদ্ধি করা হোক। প্রয়োজনে বিভাগীয় শহরে ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করা যেতে পারে।

বৈঠকে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ অংশ নেন।