বিএনপির সাবেক মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বিএনপির সাবেক মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমানের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০৭ সালের ২১ মার্চ মৃত্যু হয় তার।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
কে এম ওবায়দুর রহমান
কে এম ওবায়দুর রহমান |ছবি : সংগৃহীত

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বিএনপির সাবেক মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমানের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০৭ সালের ২১ মার্চ মৃত্যু হয় তার।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলটির সাবেক মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গণমাধ্যমে বাণী দিয়েছেন।

কে এম ওবায়দুর রহমানের ১৯৪০ সালের ৫ মে ব্রিটিশ ভারতের পূর্ব বাংলার ফরিদপুরের নগরকান্দার লস্করদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ভিপি নির্বাচিত হন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় একবার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও দু’বার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬২-১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬২ সালে তিনি আইয়ুব-বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ১৯৬৩ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেন।

অসহযোগ আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধে তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। ফরিদপুর জেলা সমন্বয় ও প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে তিনি অসহযোগ আন্দোলনে ফরিদপুরে যুব সমাজকে সংগঠিত করেন।

১৯৭৮ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দেন এবং ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি প্রথমে মৎস্য ও পশুপালন এবং পরে বিমান ও পর্যটনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬-১৯৮৮ সালে তিনি বিএনপির মহাসচিব ছিলেন।

১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি থেকে ফরিদপুর-২ আসনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আমৃত্যু বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। কে এম ওবায়দুর রহমানের কন্যা শামা ওবায়েদ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক।

২০০৭ সালের ২১ মার্চ ঢাকায় মৃত্যু হয় কে এম ওবায়দুর রহমানের। তাকে ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলা লস্করদিয়া গ্রামে দাফন করা হয়।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বাণীতে বলেন, মরহুম কে এম ওবায়দুর রহমান দেশে একজন গণসম্পৃক্ত জাতীয় নেতা হিসেবে সবার নিকট সমাদৃত ছিলেন। যোগ্য নেতৃত্ব দিয়ে তিনি দলকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি বলেন, ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে পরবর্তীতে জাতীয় রাজনৈতিক জীবনে স্বাধিকার, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র তথা সকল আন্দোলন সংগ্রামে সোচ্চার থেকে তিনি আজীবন দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে নিজেকে নিবেদিত রেখেছিলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, মরহুম কে এম ওবায়দুর রহমান মনেপ্রাণে গণতন্ত্রী ছিলেন এবং গণতন্ত্রে বহুমত সহিষ্ণুতার ঐতিহ্যকে মান্য করতেন। তিনি ছিলেন বহুদলীয় গণতন্ত্রের একনিষ্ঠ অনুসারী। স্বাধীনতা যুদ্ধে অন্যতম সংগঠকের ভূমিকা পালন করে তিনি আমাদের জাতীয় ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছেন। তার অনুসৃত পথ বর্তমান প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।

মহাসচিব বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী দর্শন ও আদর্শকে বুকে লালন করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে স্বৈরাচারের কবল থেকে গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের প্রত্যেকটি আন্দোলন সংগ্রামে কে এম ওবায়দুর রহমানের অবদান দল ও দেশবাসী চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ রাখবে।

সূত্র : বাসস