বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোনের মেয়ে ও সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক বলেছেন, বাংলাদেশে দুর্নীতির সাথে তার জড়িত থাকার অভিযোগ সম্পর্কে যেকোনো আনুষ্ঠানিক প্রশ্নের জবাব দিতে প্রস্তুত তার আইনজীবীরা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজ বুধবার (২ এপ্রিল) জানিয়েছে, তাদের সাথে এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন টিউলিপ।
আওয়ামী লীগের সাথে তার সংশ্লিষ্টতার জন্য তিনি অনুতপ্ত কিনা জানতে চাইলে টিউলিপ বলেন, ‘আপনার আমার আইনি চিঠিটি দেখুন এবং দেখুন আমার কোনো প্রশ্নের উত্তর দেয়ার আছে কি-না। বাংলাদেশী কর্তৃপক্ষ একবারও আমার সাথে যোগাযোগ করেনি এবং আমি তাদের কাছ থেকে শোনার জন্য অপেক্ষা করছি।’
বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি দুর্নীতির তদন্তে তার নাম আসার পর লন্ডনের এই এমপি জানুয়ারিতে ট্রেজারি মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। সরকার ছাড়ার পর তিনি এই প্রথম প্রকাশ্য মন্তব্য করেন। টিউলিপ বলেন, ‘মাসখানেক হয়ে গেল অভিযোগ উঠেছে কিন্তু কেউ আমার সাথে যোগাযোগ করেনি।’
গত মাসে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্কাই নিউজকে বলেছিলেন, ‘টিউলিপ সিদ্দিক দেশে সম্পদ রেখে গেছেন এবং তার এ জন্য জবাবদিহি করা উচিত।’
এদিকে টিউলিপের আইনজীবীরা বেশ কয়েক সপ্তাহ আগে বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) চিঠি লিখে বলেছিলেন, অভিযোগগুলো ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘দুদককে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চের মধ্যে অথবা তার আগে টিউলিপ সিদ্দিককে প্রশ্ন করতে হবে, অন্যথায় আমরা ধরে নেব উত্তর দেয়ার মতো কোনো বৈধ প্রশ্ন নেই।’
টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো মূলত তার খালা শেখ হাসিনার সাথে সংশ্লিষ্টতাকে কেন্দ্র করে তৈরি। শেখ হাসিনা ২০ বছর ধরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। গত আগস্ট মাসে সারা দেশে তার বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের পর তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে স্বৈরশাসক হয়ে ওঠার অভিযোগ আনা হয়েছে। তার আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গ্রেফতার, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও ক্ষমতার অন্যান্য অপব্যবহার নিয়মিত ঘটেছে। তবে তিনি দাবি করেছেন, ‘এটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।’
টিউলিপ লন্ডনের বেশ কয়েকটি বাড়িতে বসবাস করতেন বলে জানা গেছে। সেগুলোর সাথে আওয়ামী লীগের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর টিউলিপ যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর মান নিয়ন্ত্রক উপদেষ্টা স্যার লরি ম্যাগনাসের সাথে যোগাযোগ করেন।
স্যার লরি ম্যাগনাস সে সময় বলেছিলেন, তিনি অনিয়মের প্রমাণ খুঁজে পাননি। তবে এটি দুঃখজনক যে টিউলিপ তার খালার সাথে সম্পর্কের ‘সম্ভাব্য সুনামগত ঝুঁকি’র বিষয়ে সতর্ক ছিলেন না।
টিউলিপ সিদ্দিক বলেন, তার পদে থাকা সরকারের জন্য ‘বিচ্যুতি’ তৈরি করবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তিনি কোনো ভুল করেননি।



