পাবনার ঈশ্বরদীতে ভাড়া বাসার বসতঘরের জানালা সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় আইরিন সুলতানা এশা (২৮) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
তবে এ ঘটনার আগে শনিবার দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এশা একটি রহস্যজনক আবেগীয় স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তাতে লিখেছেন, ‘আমার সবটুকু বিশ্বাস যে ভেঙে দিয়েছে তাকে কৃতজ্ঞতা জানাই।’
রোববার (২৩ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে আইরিনের লাশ উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
আইরিন পাবনার সদর উপজেলার চকছাতিয়ানী গ্রামের মো: আইয়ুব আলীর মেয়ে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এক বছর আগে নাটোর গুরুদাসপুর উপজেলার নারিবাড়ি গ্রামের মো: জহুরুল ইসলামের ছেলে শেখ রুবেলের সাথে এশার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। এশার স্বামী শেখ রুবেল ঈশ্বরদীতে ব্রাক ব্যাংকে কর্মরত থাকার কারণে তারা স্বামী-স্ত্রী নতুনহাট গোলচত্বর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। দু’দিন আগে সাহরি রান্না করা নিয়ে রুবেলের সাথে এশার কথা কাটাকাটি হয়। পরে স্বাভাবিকভাবে তারা দুজনেই ঘুমিয়ে পড়েন। কিন্তু সাহরি খেতে উঠে পাশে স্ত্রীকে না পেয়ে অন্য রুমে খুঁজতে থাকে রুবেল। পরে পাশের একটি কক্ষের জানালার সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে চিৎকার-চেঁচামেচি করলে আশেপাশের লোকজন উপস্থিত হয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে।’
নিহত এশার স্বামী শেখ রুবেলের বরাত দিয়ে তার বন্ধু মো: রকি সরদার বলেন, ‘গতরাতে তাদের মধ্যে সাহরি রান্না করা নিয়ে সামান্য বাগ্বিতণ্ডা হয়। আর সকালেই ঘুম থেকে উঠে এই অবস্থা দেখতে পাই। ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের কারণে এ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।’
ঘটনার সত্যতা জানিয়ে ঈশ্বরদী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শফিক ইসলাম বলেন, ‘স্থানীয় কিছু লোকজন জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দিয়ে বিষয়টি জানালে আমরা এসে ওই গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করি। তবে দেখে যতটুকু মনে হচ্ছে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। শুনেছি তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। তবুও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে লাশটি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। পরিবার থেকে কোনো অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি শহীদুল ইসলাম শহিদ জানান, ‘প্রাথমিকভাবে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা হতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে বলা যাবে। লাশের ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’



