পিরোজপুরে কালীগঙ্গা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনে হারিয়ে যাচ্ছে কয়েক গ্রাম

কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজল মোল্লা জানান, ‘কাউখালীতে কোনো বালু মহল নেই। অবৈধভাবে যদি কেউ বালু উত্তোলন করে তার বিরুদ্ধে আইনিব্যবস্থা নেয়া হবে।’

কালীগঙ্গা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তলনের দৃশ্য
কালীগঙ্গা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তলনের দৃশ্য |ছবি : নয়া দিগন্ত

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার কালীগঙ্গা নদীর সয়নার মোহনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে ব-দ্বীপ খ্যাত সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নে হারিয়ে যাচ্ছে কয়েক গ্রাম।

জানা গেছে, উপজেলার সয়না রঘনাথপুর ইউনিয়নে সয়না গ্রামের পশ্চিম পাশ থেকে বয়ে যাওয়া কালীগঙ্গা নদী। নদীর পিরোজপুরের হুলারহাট অংশে একটি বালু মহল রয়েছে। এই মহলটি সরকার ইজারা দিয়ে নিয়মিত রাজস্ব আদায় করছে।

অপরদিকে কাউখালীর অংশে কোনো বালু মহল না থাকলেও বালু মহল ইজারা মালিকানা কর্তৃপক্ষ নিয়মিত অবৈধভাবে বালু মহলের বাইরে গিয়েও কাউখালী উপজেলার মধ্যে দু’থেকে তিন কিলোমিটার এলাকায় প্রবেশ করে দিনে ও রাতে সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের মেঘপাল, সয়না ও রঘুনাথপুর গ্রামের পাশে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে অসাধুব্যবসায়ীরা।

বালু উত্তলনের কারণে কাউখালীর সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম নদী ভাঙন সৃষ্টি হয়। বর্তমানে নদীর তীরে অতিরিক্ত স্রোত বয়ে যাওয়ায় নিয়মিত নদীর পাড় ভেঙে কাউখালির মানচিত্র থেকে ওই গ্রামগুলো বিলিন হয়ে যাওয়ার হুমকিতে পড়েছে। গ্রামগুলো হলো সয়না, রগুনাথপুর, মেঘপাল, ধাবড়ীসহ আশেপাশের এলাকা। এসব গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ ভিটেমাটি হারানোর শঙ্কায় দিন পার করছে।

প্রতিনিয়িত বালু উত্তোলনের ফলে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রুস্তম আলী। নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ধাবড়ীর মাহবুব হোসেন, সত্তার শেখ, হানিফ শেখ, সুকুরঞ্জন হালদার, মন্নান হাওলাদারসহ অসংখ্য মানুষ। অনেকেই জমি ও বাড়ি হারিয়ে ভূমিহীন হওয়ায় সরকারের নির্মিত আশ্রয় কেন্দ্রে বসবাস করছেন। নদী ভাঙন রোধ ও বালু উত্তোলন বন্ধ করার জন্য সংশিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো: আবু সাঈদ কয়েক মাস আগে জেলা প্রসাশক বরাবরে লিখিত আবেদনও করেছিলেন বলে জানান তিনি।

কালীগঙ্গা নদীর সয়না মোহনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে গত ৮ জানুয়ারি সন্ধ্যার দিকে কাউখালী উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করেন। ওই সময় মা-বাবার দোয়া এন্টারপ্রাইজ, তুষার এন্টারপ্রাইজ ও বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ নামের তিনটি বালুকাটা ড্রেজার জাহাজ ও একটি বাল্কহেড পরিচালনার জাহাজ জব্দ করে। এই জাহাজগুলোতে বালুকাটা অথবা পরিবহন করার কোনো বৈধ কাগজপত্র ছিল না বলে বিশ্বস্ত সূত্র থেকে জানা যায়।

বিভিন্ন সময় অভিযান চলাকালে জাহাজের মালিকরা ভুল স্বীকার করে, আর কখনো অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করবে না শর্তে বালু মহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে জরিমানা করে জাহাজগুলো ছেড়ে দিয়েছিল। এরপরও তারা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এখনো পর্যন্ত তাদেরকে কেউ দমাতে পারেনি। রাতের আঁধারে কালীগঙ্গা নদীর মোহনাকে মনে হয় মেশিনের শহর। সরজমিনে উপস্থিত হলে স্থানীয়রা তাদের সমস্যার কথা এভাবেই বর্ণনা করেন।

উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব এইচ এম দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, ‘কাউখালীতে কোনো বালু মহল না থাকার পরেও প্রশাসনের চোখের সামনেই দিনরাত কালীগঙ্গা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোল করছে অবৈধ একটি চক্র। যার ফলে এই এলাকার কয়েকটি গ্রাম ইতোমধ্যে নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে শতাধিক বাড়িঘর নদীর গর্ভে বিলীন হয়েছে।

এছাড়া নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে হাজারো পরিবার। এটা বন্ধ করা না হলে মানচিত্র থেকে এই গ্রামগুলো অচিরেই হারিয়ে যাবে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করার জন্য আইনিব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান।

কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজল মোল্লা জানান, ‘কাউখালীতে কোনো বালু মহল নেই। অবৈধভাবে যদি কেউ বালু উত্তোলন করে তার বিরুদ্ধে আইনিব্যবস্থা নেয়া হবে।’