মুক্তাগাছায় শিশু ধর্ষণ : অভিযুক্তের বাড়িঘর ভাংচুর, আগুন

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় বেড়াতে নিয়ে ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় ভিকটিমকে চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ। এসময় উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত ধর্ষকের বাড়িতে ভাংচুর করে।

মুক্তাগাছায় শিশু ধর্ষণ : অভিযুক্তের বাড়িঘর ভাংচুর
মুক্তাগাছায় শিশু ধর্ষণ : অভিযুক্তের বাড়িঘর ভাংচুর |নয়া দিগন্ত

মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে নিয়ে ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে রাতভর ধর্ষণের ঘটনায় আহত ভিকটিমকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ। এসময় উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত ধর্ষকের বাড়িতে ভাংচুর করে এবং আগুন দেয়।

মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের নামা মহিষতারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও ভিকটিমের পরিবার জানায়, নামা মহিষতারা গ্রামের মন্নেছ আলীর ছেলে মো: দুলাল (৩০) শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে তার নিজের শিশু মেয়েকে দিয়ে ঈদের দিন বিকেলে প্রতিবেশীর ৯ বছরের শিশুকে ডেকে আনে। ওই শিশু মহিষতারা আহাম্মদিয়া এতিমখানার মাদরাসার নূরানির ছাত্রী। দুলাল নিজের মেয়েসহ ওই শিশুকে নিয়ে ঈদের দিন (সোমবার) বিকেলে বটতলা গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে যায়। মেয়েকে শ্বশুর বাড়িতে রেখে শিশুকে অন্যত্র নিয়ে রাতভর ধর্ষণ করার পর মঙ্গলবার সকালে শিশুকে একটি ভ্যানে করে অসুস্থ অবস্থায় তার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।

শিশুটি পরিবারকে রাতভর ধর্ষণের কথা জানায়। পরিবারের লোকজন দুলালকে আটক করতে গেলে স্থানীয় মজিদ দুলালকে ভাগিয়ে দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে ভিকটিককে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায়।

এ ঘটনায় উত্তেজিত গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে অভিযুক্ত ধর্ষকের বাড়িতে হামলা করে বাড়িঘর ভাংচুর করে এবং আগুন দেয়। পরে জনতা আসামিকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করার অভিযোগে আব্দুল মজিদকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করে। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা মজিদের দোকান ও বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে।

ভিকটিমের বড় বোন জানান,‘দুলাল ঈদের দিন বিকেলে নিজের মেয়েসহ আমার ছোট বোনকে নিয়ে তার শ্বশুর বাড়ি বটতলায় যায়। পরে সারারাত আমরা বোনের কোনো সন্ধান পাইনি। মঙ্গলবার সকালে দুলাল আমার বোনকে ভ্যান দিয়ে পাঠিয়ে দেয়। আমার বোন খুবই অসুস্থ। অসুস্থতার কারণ জিজ্ঞাস করলে সে সব খুলে বলে। এসময় আমার ভাইয়েরা দুলালকে ধরতে গেলে আতিক আর মজিদ দুলালকে সরিয়ে দেয়। বিষয়টি দেখছি বলে মজিদ আমার ভাইদের উল্টো সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। ধর্ষককে পালাতে সাহায্য করায় পুলিশ মজিদকে ধরে নিয়ে যায়।’

মুক্তাগাছা থানার ওসি (তদন্ত) রিপন চন্দ্র গোপ জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌছে মূল অভিযুক্তকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করায় মজিদ নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। ভিকটিম শিশুটিকে চিকিৎসা ও মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মূল অভিযুক্ত দুলাল পালিয়েছে। তাকে ধরাসহ আইনি প্রক্রিয়া চলমান আছে।