৫৬ বাংলাদেশী জেলেকে ছেড়ে দিয়েছে মিয়ানমার নৌবাহিনী

টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান বাসসকে বলেন, ‘মিয়ানমারের নৌবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার পর তারা জেলেদের ছেড়ে দিয়েছেন।’

কক্সবাজারের টেকনাফের সেন্টমার্টিন দ্বীপের অদূরে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় ধরে নিয়ে যাওয়ার ১৯ ঘণ্টা পর ছয়টি ট্রলারসহ বাংলাদেশের ৫৬ জেলেকে ছেড়ে দিয়েছে মিয়ানমারের নৌবাহিনী। তবে জেলেদের ট্রলারে থাকা মাছ, তেল, জাল ও খাদ্যসামগ্রী রেখে দিয়েছে তারা।

বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সেন্টমার্টিনের দক্ষিণে ১ হাজার ১৫ কিলোমিটার দূরে মিয়ানমার পানিসীমানা থেকে তাদের ছেড়ে দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল মান্নান।

তিনি বলেন, স্থানীয় জেলে ও ট্রলার মালিক সমিতির লোকজন ছয়টি ট্রলার ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শাহপরীর দ্বীপ দক্ষিণপাড়া ঘাটে এসে নোঙর করেছে ট্রলারগুলো। তবে ট্রলারের ১০-১২ লাখ টাকার রূপচান্দা, ইলিশ, তেল, জাল ও খাদ্য সামগ্রী কেড়ে নিয়েছে। কয়েকজন জেলেকে মারধরও করা হয়েছে।

ট্রলারগুলোর মালিকরা হলেন- টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা বশির আহমদ, মো: আমিন, নুরুল আমিন, আবদুর রহিম ও মো: শফিক।

এ বিষয়ে টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান বাসসকে বলেন, ‘মিয়ানমারের নৌবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার পর তারা জেলেদের ছেড়ে দিয়েছেন।’

এর আগে, বুধবার দুপুর ১টার দিকে সেন্টমার্টিনের দক্ষিণে অদূরে বঙ্গোপসাগর থেকে ট্রলারগুলো ধরে নিয়ে যায় মিয়ানমারের নৌবাহিনী। এরপর থেকে তাদের কোনো খোঁজখবর পাওয়া যায়নি।

ফেরত আসা ট্রলারের কয়েকজন জেলে বলেন, মাছ ধরার সময় হঠাৎ অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আমাদের ছয়টি ট্রলারসহ ৫৬ জন জেলেকে নৌবাহিনীর জাহাজের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় কয়েকজন জেলেকে মারধর করা হয়। ধরে নেয়া লোকজন মিয়ানমারের নৌবাহিনীর সদস্য।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তারা (জেলেরা) বর্তমানে শাহপরীর দ্বীপ দক্ষিণপাড়া ঘাটে অবস্থান করছেন।

সূত্র : বাসস