রংপুর ব্যুরো
রংপুরে সকল সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সকল বিভাগ বন্ধ রেখে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাদের সাথে যোগ দিয়েছে মিডলেভেল চিকিৎসকরাও।
এ সময় শিক্ষার্থীরা এমবিএস ও বিডিএস ছাড়া নামের আগে কেউ ডাক্তার লিখতে পারবে না নিশ্চিত করা এবং ম্যাটস শিক্ষার্থীদের স্যাকমো পদবি রহিতসহ পাঁচ দফা দাবি জানায়।
শনিবার (১ মার্চ) সকাল ৮টা থেকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সকল বিভাগে একযোগে অনির্দিষ্টকালের জন্য এ কর্মবিরতি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
এরপর দুপুরে ক্যাম্পাস থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মেডিক্যাল মোড়ে এক ঘণ্টার সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে তারা। মিছিল ও অবরোধে যোগ দেন রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ছাড়াও বেসরকারি রংপুর কমিউনিটি মেডিক্যাল ও হাসপাতাল, প্রাইম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল এবং আর্মি মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। তাদের সাথে যোগ দেন এসব কলেজ ও হাসপাতালে কর্মরত মিডলেভেল চিকিৎসকরাও।
অবরোধের কারণে রংপুরের সাথে দিনাজপুর, নীলফামারী ও ঠাঁকুরগাঁও জেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় আধাঘণ্টা। এ সময় বক্তব্য দেন ইন্টার্ন ডাক্তারদের মধ্যে রংপুর মেডিক্যালে কলেজের সমন্বয়ক মাহফুজুর রহমান ও ডা: আবু রায়হান, কমিউনিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সমন্বয়ক মো: রাশিদ সাবাব (নাসিফ), আর্মি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডা: নাহিদ আল হাসান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে রংপুর মেডিক্যালের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী সাদিক শাহরিয়ার, প্রাইম হাসপাতালের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী সিগবাতুল ইসলাম প্রমুখ।
রংপুর কমিউনিটি মেডিক্যাল কলেজের সমন্বয়ক ইন্টার্ন ডাক্তার মো: রাশিদ সাবাব (নাসিফ) বলেন, ‘ম্যাটস শিক্ষার্থীরা এইচএসসি পড়ে না। চার বছরের একটা ডিপ্লোমা করে। কিন্তু তারা ডাক্তার হতে চায়। এটি ঠিক নয়। ওদের কারণে চিকিৎসা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ভুল চিকিৎসা হচ্ছে। অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করছে না। মেডেক্যালে শিক্ষার্থীরা পাঁচ বছর পড়ে ইন্টার্ন করে চিকিৎসক হয়, আর তারা শাহবাগে আন্দোলন করে চিকিৎসক হতে চায়। এটা অনৈতিক ও অযৌক্তিক। এই পরিস্থিতির উত্তরণে বিএমডিসির করা রিট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে।
এদিকে একই দাবিতে রংপুরসহ বিভাগের সকল সরকারি-বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালেও একই কর্মসূচি চলমান আছে। শিক্ষার্থীরা ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করেছেন। ইন্টার্ন চিকিৎসকরা সেবা দেয়া বন্ধ রেখেছেন। ফলে অচলাবস্থা বিরাজ করছে ক্যাম্পাসগুলোতে। তবে হাসপাতালগুলোতে অন্য চিকিৎসকদের দিয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানান, ‘আন্দোলনকারীদের দাবির বিষয়টি আমরা দফতরে জানাচ্ছি। তাদের আপডেট দিচ্ছি। চিকিৎসা কার্যক্রম অন্য চিকিৎসক দিয়ে চলছে।’



