বানারীপাড়া (বরিশাল) সংবাদদাতা
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাওলাদ হোসেন সানাকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ। বুধবার (৩০ এপ্রিল) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে তিনি যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার সময় ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
থানা সূত্র জানিয়েছে, বানারীপাড়া থানায় বিএনপি নেতার করা চাদাবাজি মামলায় তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। ১ মে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ থেকে তাকে বানারীপাড়া থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়।
সানা সাবেক ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুর্সম্পর্কীয় আত্মীয় ও বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর একান্ত কাছের লোক ছিলেন।
এ প্রসঙ্গে বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো: মোস্তফা জানান, বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাওলাদ হোসেন সানার বিরুদ্ধে মামলা থাকার বিষয়টি বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে আগেই তথ্য দেয়া হয়েছিল।১ মে বিকালে ঢাকা থেকে বানারীপাড়ায় নিয়ে আসার পরে উপজেলার চাখারের বিএনপি নেতা ফারুক সিকদারের দায়েরকৃত চাঁদাবাজি মামলার আসামি হিসেবে তাকে বরিশালে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে।
সানার বিরুদ্ধে ঢাকার উত্তরা থানায়ও একটি হত্যা মামলা রয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কুখ্যাত সন্ত্রাসী মাওলাদ হোসেন সানার গ্রেফতারের খবরে তার ফাঁসির দাবিতে ১ মে বৃহস্পতিবার দুপুরে বানারীপাড়ায় বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদলসহ সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এ সময় সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ ও স্বতঃস্ফুর্ত এ মিছিলে অংশগ্রহণ করে। বিক্ষোভকারীরা ফ্যাসিবাদের অন্যতম দোসর মাওলাদ হোসেন সানাকে কুখ্যাত সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে তার ফাঁসির দাবি জানান।
উল্লেখ্য যে নানা সমালোচিত ও অসংখ্য অপকর্মের হোতা মাওলাদ হোসেন সানার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা ছাড়াও বানারীপাড়া এবং ঢাকায় উত্তরা পশ্চিম থানায় হত্যা ও অস্ত্র মামলাসহ পাঁচটি মামলা চলমান রয়েছে।
ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানার হত্যা মামলা নং ১২,তারিখ: ০৪/১২/২০২৪ ইং।এছাড়া ২০০৯ সালের ২৯ মার্চ তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাওলাদ হোসেন সানা ও তার ছোট ভাই বানারীপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক রাহাদ ননীর নেতৃত্বে বানারীপাড়া বাসস্ট্যান্ডে স্থানীয় জনতার উপর নির্বিচারে গুলি চালালে অনেকে গুলিবিদ্ধ হয়।এ সময় তাকে গ্রেফতার করেছিল থানা পুলিশ এবং ২০০৯ সালের ৩০ মার্চ তার বিরুদ্ধে বানারীপাড়া থানায় অস্ত্র মামলা করা হয়। মামলা নম্বর ১২।



