০৩ এপ্রিল ২০২০

পিপিই ছাড়াও চিকিৎসা না দিলে শাস্তির নির্দেশ

পিপিই ছাড়াও চিকিৎসা না দিলে শাস্তির নির্দেশ - ছবি : সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে নভেল করোনাভাইরাস। সংক্রমণের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে আসছে রোগীরা। কিন্তু চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় পার্সোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই) না থাকায় তারা চিকিৎসা দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। হাসপাতালগুলোতে রোগীদের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে চিকিৎসকদের সেবা দিতে নির্দেশনা দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

নির্দেশনায় বলা হয়, সব ধরনের হাসপাতালে রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসা, জরুরি চিকিৎসা, রোগী ভর্তি ও ভর্তিকৃত রোগীর চিকিৎসা প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো হাসপাতাল এই নির্দেশ অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে টহলরত সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা কিংবা থানায় অভিযোগ করা যাবে এবং এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের রেজিস্ট্রেশন বাতিল, লাইসেন্স বাতিলসহ বিভিন্ন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ না করে এমন নির্দেশনা দেয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে চিকিৎসকরা। এ নির্দেশনা প্রত্যাহার না করলে গণপদত্যাগের হুমকি দেয় বিসিএস হেলথ ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশন। ২৬ মার্চ সন্ধ্যার মধ্যে নির্দেশনা প্রত্যাহার না করা হলে এ ধরনের অপমানের ভার নিয়ে দায়িত্বপালন করবেন না বলে তারা প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখ করেন।

চিকিৎসকরা বলছেন, কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবেলায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা যেভাবে অরক্ষিত অবস্থায়ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জনগণের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন, এমতাবস্থায় এ রকম একটি আদেশ জারি হওয়া ভীতিকর, অপমানজনক ও জনগণের স্বাস্থ্যের প্রতি চূড়ান্ত উদাসীনতা ও অবহেলার শামিল।

দেশের বেশির ভাগ চিকিৎসকের কাছেই এখন পর্যন্ত কোনো সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম পৌঁছেনি এবং এখন পর্যন্ত একজন চিকিৎসক ও দুইজন নার্স কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছেন, সন্দেহভাজন হিসেবে কোয়ারেন্টিনে আছেন ৪০ জনেরও অধিক চিকিৎসক-নার্স। এভাবে চলতে থাকলে যথাযথ সুরক্ষার অভাবে হাসপাতাল থেকেই করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়বে এবং কিছুদিনের মধ্যে ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবাকর্মী আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো: আসাদুল ইসলাম বলেন, যা হয়েছে সেটা মূর্খতা। আদেশটি আমাকে না জানিয়ে করা হয়েছে। অফিস আজ বন্ধ। কিভাবে এই আদেশ এলো সে সম্পর্কে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। রাতে আমি জানার পরই আদেশটি বাতিল করে দিতে বলেছি।

এ দিকে চিকিৎসকদের প্রতি সহমর্মিতা ও আমলাদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ায় ময়মনসিংহ ও বরিশালে সরকারি কলেজের দু’জন শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়েছে।

তারা হলেনÑ ময়মনসিংহের গফরগাঁও সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী জাকিয়া ফেরদৌসী এবং বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের দর্শন বিভাগের প্রভাষক সাহাদাত উল্লাহ কায়সার।

পাশাপাশি সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী কেন তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে না, তা আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে জানাতে তাদের নোটিশও পাঠানো হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো: মাহবুব হোসেন স্বারিত এক আদেশে গত বুধবার তাদের সাময়িক বরখাস্ত করে শোকজ করা হয়।

এই শিক্ষকদের বরখাস্তের আদেশে বলা হয়েছে, দেশব্যাপী করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, দফতর, সংস্থা বর্তমানে বিভিন্ন পর্যায়ে সমন্বিতভাবে কার্যক্রম পরচালনা করছে।

‘সে অবস্থায় আপনি আপনার ফেসবুক আইডি থেকে নিজ নামে অনভিপ্রেত ও উসকানিমূলক বক্তব্য ও ছবি পোস্ট করেছেন, যা সরকারের চলমান সমন্বিত কার্যক্রমের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’ শিক্ষা ক্যাডারের এসব কর্মকর্তাদের আচরণকে ‘সরকারি ব্যবস্থাপনা ও জনস্বার্থবিরোধী এবং শৃঙ্খলা পরিপন্থী’ আচরণ উল্লেখ করে একে অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো: মাহবুব হোসেনকে মোবাইল ফোনে পাওয়া যায়নি। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) শাহেদুল খবির চৌধুরী বলেন, এ দু’জন ছাড়াও রাজশাহী বোর্ডের সচিবকে বদলি করা হয়েছে। তিনি বলেন, দুর্যোগকালীন এ সময়ে কেউ যেন গুজব বা রাষ্ট্র বিরোধী কোনো স্ট্যাটাস দেয় সেজন্য ফেসবুক মনিটরিং করা হচ্ছে।


আরো সংবাদ