১৯ এপ্রিল ২০২১
`

সোনালি বৃক্ষ সিসালv

-

সিসালের বৈজ্ঞানিক নাম অমধাব ংরংধষধহধ, সিসাল আগাভে প্রজাতির গাছ। গাছটিকে কখনো কখনো ‘সিসল শণ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। শণ ফাইবারের একটি প্রধান উৎস ছিল এবং অন্যান্য ফাইবার নামকরণ করা হয়। এক সময় ‘সিসাল’ গাছের পাতার তন্তু দিয়ে তৈরি হতো নানা পণ্য। সিসাল ফাইবার ঐতিহ্যগতভাবে দড়ি, কুণ্ডলী, কাগজ, কাপড়, প্রাচীর পাতার কার্পেট তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়। ঊনবিংশ শতাব্দীতে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় চাষ হতো ‘সিসাল’ গাছ।
শ্রীমঙ্গল শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে ভারতীয় সীমান্তবর্তী ওই এলাকার নামই ছিল ‘সিসালবাড়ি’। কালক্রমে ‘সিসালবাড়ি’ এলাকায় জেমস ফিনলে চা কোম্পানির চা-বাগান গড়ে ওঠে। সিসালের পরিবর্তে ওই এলাকায় চা-আবাদ হওয়ার কারণে ওই বাগানের নামকরণ হয় ‘সিসালবাড়ি চা-বাগান’। যা এখন ‘শিশিরবাড়ি চা-বাগান’ নামে পরিচিত। তবে স্থানীয় চা-বাগান শ্রমিকদের কাছে এখনো ওই বাগানটি সিসেলবাড়ি চা-বাগান নামে পরিচিত।
গাছটি দেখতে আনারস গাছের মতো। পাতা নকশা করা তলোয়ার আকৃতির। দৈর্ঘ্য ১.৫ থেকে দুই মিটার। রঙ গাঢ় সবুজ। কচি পাতার কিনারে অনেক দাঁত থাকে যা পরিপক্ব হলে ঝরে যায়। একটি সিসল ৭-১০ বছর জীবন লাভ করে এবং সাধারণত ২০০-২৫০ পাতার উৎপাদন করে। প্রতিটি গাছের পাতা থেকে প্রায় এক হাজার তন্তু গড়ে ওঠে। সিসল গাছ ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপ এবং রোদ উপরি উক্ত তাপমাত্রার থেকে উৎপাদন ভালো হয়। এটি ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় হিসেবে গণ্য করা হয়।
ফেব্রিক তৈরিতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় সিসাল। সিসালের পাতা দিয়ে তৈরি রশি, ব্যাগ, টুপি, পাপোশ, দোলনা, টেবিল ম্যাটসহ ঘর সাজানোর নানা সামগ্রী তৈরি করা হতো। প্লাস্টিকের রশি পদার্পণের আগে বিশ্বের সব দেশেই নৌকা বা জাহাজের নোঙরের রশি তৈরি হতো সিসালের পাতার তন্তু দিয়ে। যা সহজে পানিতে নষ্ট হয় না।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার ‘সিসালবাড়ি’ বা ‘শিশিরবাড়ি’ চা-বাগানে বাণিজ্যিকভাবে সিসালের চাষাবাদ হলেও বিচ্ছিন্নভাবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ গাছটির চাষ হতো বলে জানা যায়। ‘সিসালবাড়ি’ বা ‘শিশিরবাড়ি’ চা-বাগানে এখন আর কোনো সিসাল গাছের অস্তিত্ব নেই। ‘সিসালবাড়ি’ বা ‘শিশিরবাড়ি’ চা-বাগান ঘুরে কোথাও কোনো সিসাল গাছ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তবে জেমস ফিনলে চা কোম্পানির আরেকটি বাগানে ‘কালিঘাট চা-বাগান’ কয়েকটি সিসাল গাছ সগর্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এ গাছগুলো সিসালের এক সময়ের স্বর্ণযুগের সাক্ষ্য বহন করে আছে।হ



আরো সংবাদ