১৮ আগস্ট ২০১৯

আমরা কি অ্যাপ্রুভালের অধীন হয়ে যাবো

-

রাজনীতির অনেক সংজ্ঞা হয়। এর একটা হলো, রাজনীতি মানে ফ্রেন্ড অ্যান্ড এনিমির পরিষ্কার সেন্স থাকা; মানে বন্ধু ও শত্রু চিনবার, ভাগ করার সক্ষমতা দেখানো। এ ব্যাপারে শেখ হাসিনা কি তার বাবাকে ঠিক ঠিক পাঠকারী ন্যূনতম যোগ্য একজন বলে নিজেকে হাজির করতে পেরেছেন ও পারবেন? কারণ, বলা যায় সম্ভবত আমরা এক ঘেরার মধ্যে পড়তে যাচ্ছি। গত ২০০৮ সালে ক্ষমতা নেয়ার সময় এ ব্যাপারে শেখ হাসিনা কিছু ভুল করেছিলেন। গত বছর নির্বাচনের আগে, বছরের শুরুর দিকে তিনি আরো কিছু মারাত্মক ভুল অনুমানের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেসব ভুলের কি পুনরাবৃত্তি ঘটবে? এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠে আসছে। তবে শেখ হাসিনা যদি তার বাবাকে ঠিক ঠিক পাঠ করেন তাহলে তিনি ভুল করবেন না, এই এক সরল ক্লু এখানে আছে।

আগামী দিনের ইতিহাসে কি বাংলাদেশে হিন্দুত্বের রাজনীতি আনার ও একে তৎপর হতে দেয়ার দায় শেখ হাসিনার ওপর আসবে? নাকি এর আগেই তিনি পদক্ষেপ নিতে মাঠে নেমে যাবেন?

আড়ালে এত দিন তৎপর থাকা এসব নানান প্রশ্ন এখন প্রিয়া সাহা ও তার বন্ধুদের হাতে পরে পুরো সমাজকে অস্থির চঞ্চল করে, সবাইকে কান খাড়া অ্যাটেনশন দিতে বাধ্য করে ফেলেছে। এতে আপাতত প্রিয়া সাহার সার্কেলের প্রায় সবাই সব ‘দায় প্রিয়ার’ বলে সব অস্বীকার করে আপাতত খামোশ হয়ে গেলেও হিন্দু মহাজোটের গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক আপাতত প্রধান প্রবক্তা, বীর হয়ে থাকতে চাইছেন। আর বাংলাদেশের ইতিহাসে এটা আসলে অদৃশ্যপূর্ব ঘটনা যে, কোনো হিন্দু ব্যক্তিত্বের আচরণে অন্য হিন্দু ব্যক্তিত্ব বা সংগঠন ঘোষণা দিয়ে তার দায় নিতে অস্বীকার করছেন।

ফ্যাক্টস হচ্ছে, বাংলাদেশে ট্র্যাডিশনাল হিন্দু রাজনীতি হলো পুরনো জমিদার হিন্দুর জমিদারি আর সামাজিক রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক হেজিমনি বা কর্তৃত্ব হারানোর দুঃখ থেকে জাত। এমন দুঃখ কমবে বা মিটবে কী করে, এর চিন্তার ওপর দাঁড়ানো। কিন্তু আজিব ব্যাপারটা হচ্ছে, বাংলা সাধারণ আম-হিন্দুরা পুরনো জমিদারের জমিদারি হারানোর দুঃখকে নিজে বেখবরে থাকার কারণে এটা নিজেদেরই ‘দুঃখ’ মনে করে বসে আছে। এটাই আমাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার একটা দিক। যার অন্য দিকটা হলো, আমাদের উপমহাদেশের ভারত-বাংলাদেশ ও পাকিস্তান- এ তিন দেশে কোথাও নাগরিক বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়তে কেউ সক্ষমতা দেখাতে পারেনি। বৈষম্যহীন নাগরিক-সাম্য, মানুষের মর্যাদা আর ন্যায়বিচারে নিশ্চিত হয়নি। ধর্ম বা যেকোনো পরিচয় নির্বিশেষে সব নাগরিককে সমান চোখে দেখা হবে, বৈষম্য হতে দেবে না- এই নীতিতে রাষ্ট্র গড়ে তুলতে সক্ষম হয়নি, ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি আইডিয়াই রাজনীতিক বা অ্যাকাডেমিক সমাজেও স্পষ্ট হয়ে পৌঁছেনি। এ ছাড়া কী দেখলে একটা রিপাবলিক রাষ্ট্রকে চেনা যায়, এর প্রধান বৈশিষ্ট্য কী ইত্যাদি এসব ধারণা স্বচ্ছ না তো বটেই।

ওই দিকে সেকুলারিজম বলে এক ধারণা এসে জায়গা নিয়েছিল। যদিও এই ইসলামবিদ্বেষী সেকুলারিজম বাংলাদেশে হিন্দু জনগোষ্ঠী নিজেদের জন্য এক রক্ষক ধারণা মনে করত, অনেকে করে এখনো। এর সাথে অবশ্যই ১৬৪৮ সালের প্রথম ‘ক্লাসিক সেকুলারিজম’ ধারণার কোনো সম্পর্কই নেই। তবুও ভারতে এই ইসলামবিদ্বেষী সেকুলারিজম ধারণার পপুলারিটি আরো বেশি। অথচ এই সেকুলারিজম ভারতের কনস্টিটিউশনে ঢুকানো হয়েছে ইন্দিরার হাতে ১৯৭৬ সালে, মানে ১৯৪৯ সালে ভারতে কনস্টিটিউশন গৃহীত হওয়ারও ২৭ বছর পরে। এখন আমরা প্রশ্ন করতে পারি, এর মানে কি প্রথম ২৭ বছর ভারত সেকুলার রাষ্ট্র ছিল না!

ইন্দিরা গান্ধীসহ কারো কাছেই এর জবাব কী, কখনো শোনা যায়নি। আবার মোদির আমলে এসে ভারতের কনস্টিটিউশনে সেকুলারিজম লটকানো থাকলেও মোদির রাজত্বে কেউ ‘জয় শ্রীরাম’ না বলতে রাজি না হলে তার মাথায় কোপ দিতে মোদির কোনোই অসুবিধা হচ্ছে না। কারণ, এসব কাণ্ড দেখে বোঝার উপায় নেই যে, ভারতে কোনো সুপ্রিম কোর্ট অথবা কোনো নির্বাচন কমিশনার বলে কিছু আছে নাকি নেই। কারণ, এরা পুরোপুরি অ্যাকশনবিহীন। এর কারণ এরা সম্ভবত সমাজে থাকে না। অথবা না হয় তারা আরএসএসে যোগ দিয়েছে তাই, ‘জয় শ্রীরাম’ বলানোর ধ্বনি তাদের কানে পৌঁছাচ্ছে না। অথবা এ-ও হতে পারে তারা এটা অনুমোদন করেছে। এই হলো এখনকার ভারতে সেকুলারিজমের নমুনা।

সেটি যাই হোক, বাংলাদেশের হিন্দু জনগোষ্ঠী নিজেদের এখন খুবই চালাক লোক বলে ভাবছে। তারা আর এখন তত সেকুলারিজম জপে না। তাদের এখনকার নেতা আর মণি সিংহ কমিউনিস্ট বা পঙ্কজ ভট্টাচার্যের ন্যাপ পার্টি না। তাদের নেতা এখন আরএসএস নেতা গোবিন্দ প্রামাণিক; যে নেতা বলছেন, হিন্দুরা এখন ‘ভারত-বাংলাদেশ দুই দেশেরই নাগরিক’ থাকবে, আর এক ‘অখণ্ড ভারতের’ পক্ষে কাজ করে যাবে। এ ছাড়া অবস্থা এখন এমন জায়গায় পৌঁছেছে যেন লীগ-বিএনপি কোনো দলের বাংলাদেশে ক্ষমতায় আসতে গেলে ভারতের অ্যাপ্রুভাল লাগবে, এটা তারা মেনেই নিয়েছে। তাই সেই লোভে লীগ-বিএনপি কার আগে কে কত বেশি তাড়াতাড়ি হিন্দু মহাজোটকে খাতির করবে, ৬০ আসন দেবে ইত্যাদি নিয়ে প্রতিযোগিতা লেগে গেছে। আমরা এমন দেউলিয়া জায়গায় পৌঁছে গেয়েছি।
যেন ৬০ আসন পেয়ে গেলে তারা আবার ’৪৭ সালের আগের জমিদারি রাজত্ব প্রভাব কায়েম করে ফেলবে, এমন ধারণা দেয়া হচ্ছে।

২.
এর আগের লেখায় দেখিয়েছিলাম জমিদারি উচ্ছেদ কেন পূর্ববঙ্গের জন্য ফান্ডামেন্টাল পদক্ষেপ ছিল। জমিদারি উচ্ছেদ মানে ছিল আসলে আমাদের কৃষির উদ্বৃত্ত কলকাতার বদলে ঢাকায় পুঞ্জীভবন ও সঞ্চয়ে জমা করা। এ ছাড়া ভূমি মালিকানার ধরনে পরিবর্তনের কারণে এবার কৃষিতে বিনিয়োগ ও উৎপাদন দুটোই বাড়তে পারবে, এই অবস্থা তৈরি হয়েছিল। এ ব্যাপারটাকেই সংক্ষেপে তখন ‘ক্যাপিটাল ফর্মেশন’ বলে ছেড়ে দিয়েছিলাম।
দেশভাগের পরে, জমিদারি উচ্ছেদ কেন অপরিহার্য ছিল; এর সপক্ষে আজ দু’টি কারণ হাজির করব, যার একটা আইনি অন্যটা অর্থনৈতিক দিকসংক্রান্ত।

চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইনটি ১৭৯৩ সালে পাস করলেও এটা বাস্তবে জমে উঠে কার্যকর হতে প্রায় প্রথম সাত বছর লেগে যায়। কথাটির সার মানে হলো সেকালে জমিদারি কেনার লোকের অনাগ্রহ। আর ব্রিটিশদের দিক থেকে বললে, ক্রেতা না পাওয়া। তাই পরের প্রায় সাত বছর ধরে চলেছিল ক্রেতা-বিক্রেতার লাভ-সুবিধা নিয়ে নানা কথার চালাচালি। আর বারবার নতুন করে একেকটা সংশোধনী আনা। কারণ, জমিদারি বিক্রি ব্যাপারটাই ছিল একেবারে নতুন। কলোনি মালিকের হাতে বাংলার মতো আর দু’টি মুম্বাই ও মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি ছিল। কিন্তু জমিদারি ব্যবস্থা কেবল বাংলায় চালু করা হয়েছিল। আবার আমাদের এ দিকের কৃষি প্রায় পুরোটাই প্রকৃতিনির্ভর।

বৃষ্টি না হওয়া, আবার বান-বন্যা অথবা খরা সব কিছুরই প্রভাব এখানে হতে পারে মারাত্মক। তাই জমিদারি কেনার পর ফসল মার গেলে এর দায় কে নেবে- এটা ছিল এক বড় প্রশ্ন। এর জবাব দিতেই ব্রিটিশরা জমিদারি কেনার দাম ফিক্সড করে দিয়েছিল। মানে, বছর বছর কমবে বাড়বে না করা হয়। যাতে এক বছর মার গেলে পরের বার পোষানো যায়। চিরস্থায়ী শব্দটির গুরুত্ব ওখান থেকেই। এ ছাড়াও হবু জমিদারি ক্রেতার আরো আপত্তি ছিল যে, কোনো প্রজা খাজনা না দিলে জমিদারের তো কিছুই করার থাকছে না, তাহলে জমিদারি নেয়ার লসের কী হবে? তাই এর সমাধান করে জমিদারি কিনতে আগ্রহী করতে জমিদারদের ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দিয়েছিল ব্রিটিশেরা। মানে জমিদার তার পাইক-পেয়াদা দিয়ে কোমরে দড়ি লাগিয়ে খাজনা না দেয়া প্রজাকে ধরে আনার ক্ষমতাসম্পন্ন ছিল। এনে কাচারি বাড়ির কোনো রুমকে জেল ঘোষণা করে সেখানে আটকে রাখতে পারত। এখান থেকেই জমিদাররাও ব্রিটিশদের মতো না হলেও এক ‘ছোট বাহাদুর’ বলে গণ্য হয়ে উঠেছিল। কিন্তু এতে এক বিরাট আইনি ব্যত্যয় ঘটানো হয়েছিল।

মোগল আমলের ভূমি মালিকানা ব্যবস্থায় জমির ধার্য খাজনা পরিশোধ করলেই রায়তের শুধু ওই জমিতে চাষাবাদের অধিকারই নয়, ভূমির মালিকানা স্বত্বও (টাইটেল) নিজের নামে পেয়ে যেত রায়ত। এ কারণে হবু জমিদারি ক্রেতারা অনাগ্রহী ছিল যে, যে জমি ইতোমধ্যে রায়তের নামে টাইটেল হয়ে আছে সেই জমিদার যদি কিনে, তাতে আমি জমিদারি কথার কী মানে, আর আমি ওই জমির খাজনা প্রজার কাছে দাবি করব কোন ভিত্তিতে। এটা ছিল তাদের দ্বিধার পক্ষে সবচেয়ে বড় আইনি প্রশ্ন। এই প্রশ্নের কোনো সদুত্তর ব্রিটিশদের কাছেও ছিল না, এক গায়ের জোর দেখানো ছাড়া। তাই ব্রিটিশরা ঘোষণা করেছিল, জমিদারি কিনলে কোনো জমির টাইটেল জমিদারের নামে করে দেয়া হবে। অথচ এ কাজটি করা হয়েছিল পুরোই আইনের দিক থেকে অবৈধভাবে। কারণ, ব্রিটিশদের পুরনো টাইটেল কেড়ে নেয়াই ছিল অবৈধ। তাই দেশভাগের পড়ে, জমিদারি উচ্ছেদের ঘোষণায় আবার আগের জায়গায় ফিরে এসেছিল।

অর্থনৈতিক কারণ : জমিদারি ব্যবস্থা উচ্ছেদ করার পেছনে অর্থনৈতিক কারণটা খুবই শক্ত। মূল কারণ কৃষিতে উৎপাদন বাড়াতে গেলে পুরনো জমিদার-প্রজা সম্পর্কের খোদ জমিদারি মালিকানা ব্যবস্থাই ছিল বাধা। কেন? কৃষি উৎপাদন বাড়ানো কথাটির মানে অনেক গভীর। কলোনি উপনিবেশ-উত্তর পরিস্থিতিতে দেশ স্বাধীন বা দেশ পাওয়া কথাটা অর্থহীন হবে, যদি মানুষকে কাজের সংস্থান দেয়া না যায়। এখান থেকেই আসে কৃষিতে উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা। আসলে কৃষিতে উৎপাদন বাড়ানো কথাটির মানে হলো, কম শ্রম দিয়ে বেশি ফসল পাওয়া। শহর শব্দের একটা অর্থ হলো, কৃষি থেকে আসা উদ্বৃত্ত বা সারপ্লাস যেখানে গিয়ে জমা বা পুঞ্জীভূত হতে থাকে, সেই জায়গার নাম শহর। পুঞ্জীভূত হয় বলেই এটাকে পুঁজি বলে। তাই এ সারপ্লাসটা যেখানে পুনর্বিনিয়োগ হয় সেটিই শহর। শহর মানে আবার মূলত অকৃষি নতুন এক উৎপাদন ব্যবস্থা। শহর মানে আবার গ্রাম বা কৃষি থেকে বাড়তি শ্রমিক মাইগ্রেট করে আনা হয় বা আসে যেখানে নতুন ধরনের কাজের আসায়। শহরের মানে এর পরেও শেষ নয়। সুযোগ পেলে সে কথা আর একদিন।

শহরে শ্রমিক পেতে গেলে কৃষিতে কম শ্রমিক লাগাতে হবে। এর সোজা হিসাব হলো, আগে যদি কৃষিতে ১০০ জন লোক লাগিয়ে সবার খাদ্য উৎপাদন হয়ে থাকে তাহলে এখন কম শ্রমিক লাগিয়ে (ধরা যাক ৭৫ জন) ওই একই পরিমাণ ১০০ জন মানুষের খাদ্য তৈরি করতে হবে। তবেই ২৫ জন বাড়তি শ্রমিক পাওয়া যাবে, যারা গ্রাম ছেড়ে শহরে, এমন শ্রমিক পাওয়া যাবে। যারা নতুন উৎপাদন ব্যবস্থা শুরুর উপায় হবে। আবার তাতে আগে ১০০ জন লেবার দিয়ে ১০০ জনের খাদ্য তৈরি হতো, এখন ৭৫ জন লেবার দিয়ে ওই একই পরিমাণ খাদ্য তৈরি করতে হবে। কারণ, শহরে এখন যা তৈরি হবে, এরা খাদ্য নয়, অন্য কিছু উৎপাদন করবে। তাই তাদের জন্য খাদ্য গ্রাম থেকেই আসবে, ৭৫ জনে ১০০ জনের খাদ্য তৈরি করতে গেলে ভূমি মালিকানায় পরিবর্তন আনতে হবে। কেন?

কারণ, এবার কৃষিতে বিনিয়োগ লাগবে, টেকনোলজিও লাগতে পারে, যা কিনতে বিনিয়োগ লাগবে। কিন্তু জমিদার বলবে আমি বিনিয়োগ করব কেন? না করলেও তো একই খাজনা পাবো। তাই এটা তার স্বার্থ নয়। আবার প্রজা বলবে আমি নিজেই বারো মাসে তেরো খাজনার দাবি মেটাতে গিয়ে দেনাগ্রস্ত; কাজেই আমি কোথা থেকে বিনিয়োগের অর্থ পাবো।
অর্থাৎ জমিদার প্রজা এই মালিকানা সম্পর্ক ব্যবস্থাই কৃষি আর তা থেকে সামগ্রিক উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব নয়। অথচ স্বাধীনতার অর্থ বাস্তব করতে গেলে তাই জমিদার উচ্ছেদ করাই মূল পদক্ষেপ। এ জন্যই জমিদারি উচ্ছেদ ছিল প্রথম ভিত্তিমূলক সিদ্ধান্ত পদক্ষেপ।

নেহরুকে স্বদেশীবাদী প্রগতিবাদী ভারতের প্রায় সবাই তাকে ‘সমাজতন্ত্রী’ বলে খুব প্রশংসা করে থাকে; কিন্তু আসলেই কি তিনি তা। মনে হয় না। তিনি যদি ব্রিটিশরা চলে গেলে হবু স্বাধীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলে কল্পনা করেন, তাহলে এর আসল অর্থ হলো একটা অর্থনীতি গড়ার স্বপ্ন যেখানে নাগরিকদের কাজের সংস্থান করে দেয়ার পরিকল্পনা হতো তার প্রধান কাজ; কিন্তু বাংলার কৃষিকে জমিদারি সম্পর্কে রেখে দিলে তো এটা অসম্ভব। এটা যেকোনো সমাজতন্ত্রীর না জানা থাকার কথা নয়। কিন্তু নেহরু জমিদারি উচ্ছেদে পক্ষের লোক ছিলেন না। তিনি বরং মুসলিম লীগের হাত থেকে জমিদারদের পক্ষ নেয়া কর্তব্যজ্ঞান করেছিলেন। অথচ তিনিই যদি সোচ্চার হতেন, আগে যেচে জমিদারি উচ্ছেদের স্লোগান দিতেন তাহলে অন্তত পূর্ববঙ্গের মুসলমান প্রজারা নেহরু জিন্দাবাদ বলে স্লোগান দিত। দেশ ভাগেরও আর সম্ভবত দরকার হতো না।

লেখক : রাজনৈতিক বিশ্লেষক
[email protected]


আরো সংবাদ




bedava internet